• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৭ সফর ১৪৩৯
BK

ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত বন্দরনগরী সড়ক রূপ নিয়েছে নদীতে

কোথাও কোমর, কোথাও গলাপানি
ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত বন্দরনগরী সড়ক রূপ নিয়েছে নদীতে
ছবি : বাংলাদেশের খবর

ভারী বর্ষণে বন্দরনগরীর চট্টগ্রামের নিচু এলাকা ডুবে গেছে। সড়কগুলো রীতিমতো নদীর রূপ ধারণ করেছে। চারদিকে থইথই পানি। সড়কগুলো কোথাও কোমর আবার কোথাও গলা পর্যন্ত পানিতে ডুবেছে। ফলে পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এসব এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

গতকাল ভোর থেকেই শুরু হয় ভারী বর্ষণ। বাড়তে থাকে পানি। বেলা গড়াতেই পানিবন্দি হয়ে পড়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকার মানুষ। চরম দুর্ভোগে পড়ে নিচুতলায় বসবাসকারী মানুষগুলো। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পানি ঢুকে এলোমেলো করে দেয় ঘরের মালামাল। বন্ধ হয়ে যায় রান্নাবান্না।

বাদুরতলা এলাকার বাসিন্দা সেলিমুর রহমান জানান, সকালে ঘুম থেকে জেগেই দেখি বাসায় পানি ঢুকছে। ভারী বর্ষণের সঙ্গে সঙ্গে পানিও বাড়ছে। নিচতলায় বাসা হওয়ার কারণে প্রতিবছরই কয়েক দফা এভাবে পানিবন্দি হয়ে থাকতে হয় তাদের।

নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, বাদুরতলা, খতিবের হাট, কাতালগঞ্জ, শুল্কবহর, বাকলিয়া, রাজাখালী, আগ্রবাদ, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কগুলো দিনভর ছিল পানির নিচে। বহদ্দারহাট থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত এশিয়ান হাইওয়ের ওপর ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে পানিতে আটকা পড়ে কয়েক শ গাড়ি। দিনভর চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে এসব সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী জনসাধারণকে।

আগ্রাবাদ অ্যাকসেস রোড দেখে মনে হচ্ছিল না যে, সেটা কোনো সড়ক। সড়কের ওপর কোথাও কোমরসমান আবার কোথাও বুকসমান পানি। যানবাহন চলাচল ছিল পুরোপুরি বন্ধ। দেখে মনে হচ্ছিল যেন ছোট কোনো নদী। মাঝেমধ্যে বুকপানি ভেঙে আসা কিছু কিছু রিকশাই জানান দিচ্ছিল এটিও একটি সড়ক। আগ্রাবাদের শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. ইয়াছিন বলেন, ভারী বর্ষণ ও কর্ণফুলী জোয়ারের পানিতে প্রায়ই ডুবে থাকে আগ্রাবাদ এলাকা। কর্মস্থল, বাজার কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো কাজেও এ সময় বের হওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে।

একটানা ভারী বর্ষণের অনেকে সকাল থেকে বাসা হতে বের হতে পারেনি কর্মজীবী অনেক মানুষ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল অনেক কম।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী চব্বিশ ঘণ্টায় ১১৩ দশমিক আট মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকাগুলোয় ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।