• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৩ মহররম ১৪৪০
BK
বিআইএসএফ স্থানান্তরের উদ্যোগ

গড়ে তোলা হবে আধুনিক কারখানা

পুনর্বাসনে ব্যবহার হবে কারখানার বর্তমান স্থান
গড়ে তোলা হবে আধুনিক কারখানা
ছবি : বাংলাদেশের খবর

বাংলাদেশ ইন্স্যুলেটর অ্যান্ড স্যানিটারি ওয়্যার ফ্যাক্টরি (বিআইএসএফ) স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। কারখানা স্থানান্তরে গাজীপুর সদরের নারায়ণকুল ও খিলগাঁও মৌজায় মোট ৪১ দশমিক ৩৪ একর জমি প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উল্লিখিত এলাকায় গ্যাস ও বিদ্যুৎপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা সাপেক্ষে কারখানাটি স্থানান্তর করা হবে। সম্পূর্ণ আধুনিক ও নতুন আঙ্গিকে বিআইএসএফ কারখানাটি গড়ে তোলা হবে। বিসিআইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানার পাশে ১৯৭৫ সালে মোট ৩০ দশমিক ৩৭ একর জায়গার ওপর কারখানাটি গড়ে ওঠে। বর্তমানে ওই এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে ওঠায় কারখানাটি সরিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের আগস্টে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে উচ্ছেদের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কারখানার বর্তমান জায়গা ব্যবহার করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সে নির্দেশের আলোকেই কারখানাটি সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় বিসিআইসি।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর প্রায় তিন বছর হতে চললেও কারখানাটি স্থানান্তরের উদ্যোগে তেমন কোনো গতি নেই। এখন পর্যন্ত শুধু জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। চিহ্নিত এলাকায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসপ্রাপ্তির বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে কারখানা স্থানান্তরে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এজন্য তিতাস গ্যাস ও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বিসিআইসির পক্ষ থেকে। তবে এখনো ওই চিঠির জবাব পাওয়া যায়নি।

এদিকে কারখানাটি স্থানান্তর করে নতুনভাবে গড়ে তোলার জন্য কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে এবং বাণিজ্যিকভাবে এটি লাভজনক হবে কি না, সেটির জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কারখানাটি স্থানান্তরে আরো কয়েক বছর সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তারা বলেন, সরকারের নিয়মনীতি অনুসরণ করে একটি উদ্যোগ সফলভাবে সম্পন্ন করতে অনেক সময় লেগে যায়। কারখানা স্থানান্তরের উদ্যোগের বিষয়টি শুধু বিসিআইসির ওপর নির্ভর করবে না। এর সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে। এসব অনুমোদন পেতে নানা ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মুখে পড়তে হয়। বিআইএসএফের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হবে না বলে মন্তব্য তাদের।

বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, বিআইএসএফ কারখানাটি পুরনো প্রযুক্তিনির্ভর। কারখানার অধিকাংশ যন্ত্রপাতি ৩৫ বছরের পুরনো হওয়ায় কার্যক্ষমতা হ্রাস এবং পুরনো প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতির কারণে উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে। অন্যদিকে কাঁচামালের দুষ্প্রাপ্যতা, তারল্য সঙ্কট এবং বিপণনে অসম প্রতিযোগিতার কারণে ক্রমাগত লোকসান গুনে আসছে কারখানাটি।

২০১৭ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিএসআইএফের স্যানিটারি ওয়্যারের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৮৩ টন। কিন্তু উৎপাদন হয়েছে ৪৯৪ টন, যা লক্ষ্যমাত্রার ৪৬ শতাংশ। অপরদিকে ১ হাজার ৮২ টন ইন্স্যুলেটর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৭৮ দশমিক ৭২ টন উৎপাদিত হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৭২ শতাংশ। একদিকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন না হওয়ায় অন্যদিকে উৎপাদিত পণ্যগুলো অনেক পুরনো মডেলের হওয়ায় বাজারে চাহিদাও কম। এ কারণে নতুন ও আধুনিক মডেলে কারখানাটি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

বিআইএসএফ বাংলাদেশের সিরামিক জগতে এক সময়ে খুবই জনপ্রিয় একটি নাম ছিল। এটি একটি ইন্টিগ্রেটেড সিরামিক কারখানা। চেকোস্লোাভাকিয়ার কারিগরি সহায়তায় কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। আমদানিবিকল্প সামগ্রী হিসেবে স্যানিটারিওয়্যার, বৈদ্যুতিক ইন্স্যুলেটর ইত্যাদি উৎপাদনে এ কারখানাটি স্থাপন করা হয়।

জানা গেছে, ১৯৮১ সালে ৪ হাজার টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন স্যানিটারি ওয়্যার প্ল্যান্ট এবং ২ হাজার ৪০০ টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ইন্স্যুলেটর প্ল্যান্টের উৎপাদন শুরু হয়। ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছর ১ হাজার ১০০ টন উৎপাদন ক্ষমতার গ্লেজড টাইলস প্ল্যান্ট সংযোজন করা হয়। পরে ১৯৯১-৯২ অর্থবছরে বিভিন্ন ধরনের রিফ্র্যাক্টরিজ উৎপাদন শুরু হয়।