• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ৮ মহররম ১৪৪০
BK

ফ্যাটি লিভার

ফ্যাটি লিভার
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে ফ্যাটি লিভার বেশ পরিচিত একটি অসুখের নাম। আসলে ফ্যাটি লিভার জিনিসটা কী? সোজা বাংলায় বলতে গেলে ফ্যাটি লিভার হচ্ছে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা। এর কারণ বিভিন্ন রকম-

* যাদের ওজন বা বিএমআই বেশি তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফ্যাটি লিভার থাকে। মানে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি তখন অন্যান্য জায়গার মতো লিভারে গিয়েও জমা হয়।

* আবার কেউ যদি হঠাৎ করে অতিরিক্ত ওজন কমায়, যেমন আজকাল ‘ক্র্যাশ ডায়েট’ ইয়াং জেনারেশনের মাঝে বেশ জনপ্রিয়, সে ক্ষেত্রেও ফ্যাটি লিভার হতে পারে।

* অ্যালকোহল আসক্তদের ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

* অনেক সময় বিভিন্ন ওষুধ, যেমন জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, যা আমাদের দেশের মহিলারা সাধারণত ব্যবহার করেন, তা থেকেও ফ্যাটি লিভার হতে পারে।

* তা ছাড়া আজকাল জাঙ্ক ফুড বেশ জনপ্রিয়, তা থেকেও অল্প বয়সে লিভারে চর্বি জমে যেতে পারে।

এ রোগের তেমন কোনো বিশেষ উপসর্গ নেই। সাধারণত অন্য কোনো অসুুস্থতার জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে গিয়েই ধরা পড়ে যে লিভারে চর্বি জমেছে। আপাতদৃষ্টিতে শারীরিক কোনো সিম্পটম থাকে না দেখে অনেকেই এ রোগকে অবহেলা করে থাকেন। কিন্তু চিকিৎসা না নিলে পরবর্তীকালে এ রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করে থাকে। অনেক দিন লিভারে চর্বি জমা থাকলে তাতে স্থায়ীভাবে কিছু পরিবর্তন হয়, যা থেকে লিভার সিরোসিস বা ফেইলিওরের মতো ভয়াবহ পরিণাম হতে পারে। এ কারণে এ রোগকে কোনোভাবেই অবহেলা করার উপায় নেই। বরং শুরুতেই যদি সঠিক উপায় অবলম্বন করা যায়, তাহলে এসব পরিণতি এড়ানো সম্ভব।

ফ্যাটি লিভারের বিভিন্ন স্টেজ রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শুধু লিভারে চর্বি জমে এবং লিভার স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বড় হয়। ধীরে ধীরে লিভার আরো ড্যামেজ হয় এবং তার মাত্রা বাড়তে থাকে। কোন স্টেজে অসুখটা আছে তার ওপর ভিত্তি করে এর চিকিৎসা করা হয়। এর জন্য হেপাটোলজিস্ট বা গ্যাস্ট্রোলিভার বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। তবে শুধু ঔষধি চিকিৎসা ছাড়া এ রোগে কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। এমনকি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে দেখা যায় শুধু নিয়মকানুন মেনেই রোগ নির্মূল করা, মানে লিভারকে আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। এগুলোকে আমরা লাইফস্টাইল মডিফিকেশন বলি। যেমন-

* প্রথমেই চর্বি জাতীয় খাবার, জাঙ্ক ফুড কম খেতে হবে।

* ওজন কমাতে হবে।

* প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০-৪০ মিনিট হাঁটতে হবে।

* অ্যালকোহল আসক্তি বন্ধ করতে হবে।

* প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি-ফলমূল খেতে হবে।

* যদি এমন কোনো ওষুধ থাকে, যা চর্বি বাড়ায় তা বাদ দিতে হবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে।

এভাবেই আমাদের সচেতন জীবনধারা অনেকাংশেই ফ্যাটি লিভারের মতো অনেক রোগের হাত থেকে আমাদের বাঁচাতে পারে।

 

ডা. কাজী আলিফা জাহান

আরএমও (ইন্টারনাল মেডিসিন)

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল