• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
BK

চার বছরে গম আমদানি দ্বিগুণ

চার বছরে গম আমদানি দ্বিগুণ
ছবি: ইন্টারনেট

বিশ্ববাজারে দাম কম থাকার পাশাপাশি মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও বদলাচ্ছে গমের চাহিদা। বিদায়ী অর্থবছরে গম আমদানি হয়েছে ৫৮ লাখ ৭৫ হাজার টন। যা চার বছর আগের হিসাবে ছিল প্রায় অর্ধেক।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, দেশে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে গম ও গমজাত পণ্য আমদানি হয়েছিল ৩২ লাখ টন। এর আগের বছরগুলোতেও দেশে সার্বিক গমের চাহিদা এমনই ছিল। তবে এর পর থেকে ক্রমেই বেড়েছে আমদানি। বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে ৫৭ লাখ টন গম আমদানি হয়, যা গত অর্থবছরে (২০১৭-১৮) রেকর্ড ভেঙেছে। গত বছর গমের আমদানি হয় ৫৮ লাখ ৭৫ হাজার টন।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যশস্য পরিস্থিতি প্রতিবেদন বলছে, এর মধ্যে দেশের বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরাই আমদানি করেছে ৫৩ লাখ ৭৫ হাজার টন গম। বাকি ৫ লাখ টন গম এনেছে সরকার। এর মধ্যে ৩৬ হাজার টন গম এসেছে খাদ্য সহায়তা হিসেবে।

এ পণ্যের আমদানি বাড়ার অন্যতম একটি কারণ বিশ্ববাজারে গমের টানা দরপতন। বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য নিয়ে কাজ করা ইনডেক্স মুন্ডির তথ্য বলছে, যেখানে ২০১৪ সালের মে মাসে বিশ্ববাজারে প্রতি টন গমের দাম ছিল ৩৩৪ ডলার, এর পর থেকে তা কমতে কমতে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ১৪১ ডলার পর্যন্ত নেমেছিল। অবশ্য সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিলে এ দাম ২১৩ ডলারে উঠেছে।

অপরদিকে বিগত কয়েক বছরে দেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাসে বেশ পরিবর্তন এসেছে। যাতে স্বাভাবিকভাবেই চাহিদা বেড়েছে। এখন আটা-ময়দার তৈরি রুটি, বেকারিপণ্য, ফাস্টফুডসহ স্ট্রিটফুডের কদর দ্রুত বাড়ছে। যা কয়েক বছর আগেও এত বেশি ছিল না।

এসিআই কনজ্যুমারের বিজনেস ডিরেক্টর অনুপ কুমার সাহা বাংলাদেশের খবরকে বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণেই ব্যবসায়ীরা বেশি গম আমদানি করছে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের এখন ক্রমক্ষমতা অনেক বেশি। সে কারণে সকাল ও রাতে ভাতের বদলে আটা-ময়দার তৈরি পণ্যের প্রতি সবার ঝোঁক বাড়ছে। এসব কারণে আটা-ময়দারও বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে।

অপরদিকে গত বছর থেকে চালের অস্বাভাবিক দাম থাকার কারণেও গমের চাহিদা বেড়েছে। চালের দাম বেশি হওয়াতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাতের বদলে রুটি খাওয়া বেড়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষেরা চাল ও আটার দামের তুলনা করে খাবার নির্ধারণ করেন এমন অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য আরো বলছে, চলতি অর্থবছরেও ব্যবসায়ীদের গম আমদানির ঝোঁক অব্যাহত রয়েছে। ফলে এ অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনেই ৪ লাখ ৩৭ হাজার টন গম আমদানি হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় পুরোটাই বেসরকারি খাতের। এ ছাড়াও ব্যবসায়ীদের সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় জাহাজে ৩ লাখ ৬৭ হাজার টন গম রয়েছে। সঙ্গে আরো প্রচুর গম আমদানির জন্য এলসি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। দেশে সবচেয়ে বেশি গম আমদানি হচ্ছে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে। এ ছাড়া ময়দা তৈরির জন্য ভালো মানের গম আমদানি হচ্ছে কানাডা থেকে।

এদিকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা (এফএও) এবং ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিলের (আইজিসি) তথ্য অনুসারে খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে বর্তমানে আমদানিকৃত গমের মূল্য ২০০ থেকে ২০৪ ডলার। এসব গম দেশে আমদানি করতে প্রতি টনে জাহাজ ভাড়া বাবদ ৫০ থেকে ৬০ ডলার খরচ করতে হচ্ছে। এ ছাড়াও অন্যান্য খরচ বিবেচনায় নিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের সম্ভাব্য মূল্য দাঁড়ায় প্রতি কেজি ২২ থেকে ২৩ টাকা।