• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৩ মহররম ১৪৪০
BK
জনপ্রিয়তা ও সমালোচনায়

বরিশালে সরোয়ার এগিয়ে

ছবি: সংগৃহীত

সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে বিভাগীয় শহর বরিশালে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। রাস্তার মোড়ে মোড়ে, অলিগলি, চায়ের দোকানে সেই হাওয়ার রেশ। নগরবাসীর প্রধান আলোচনা আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে। আর তিন দিন পর ৩০ জুলাই নির্ধারিত হবে কে হচ্ছেন বরিশালের নতুন ‘নগরপিতা’। ব্যক্তি জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক অবস্থান ও কার্যক্ষমতার মতো বিষয়গুলোকে মাথায় রেখেই চলছে সাধারণ ভোটারদের বিশ্লেষণ। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করছেন এখানকার ভোটাররা।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডে গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন ঘুরে সাধারণ ভোটার, তৃণমূল রাজনৈতিক সমর্থক-কর্মীদের মিশ্র মতামত পাওয়া যায়। অনেকেই মনে করছেন ব্যক্তি জনপ্রিয়তার দিক থেকে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মজিবর রহমান সরোয়ারই এগিয়ে রয়েছেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে সমালোচনাও রয়েছে অনেক। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এগিয়ে রয়েছেন পারিবারিক ও সরকারদলীয় পরিচিতির বিবেচনায়। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দেশের প্রধান এই দুই দলের প্রার্থীদ্বয়ের মধ্যেই থাকবে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের এনেক্স ভবনের পেছনের চায়ের দোকানে আড্ডারত স্থানীয় বাসিন্দা কাজী সামসুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বাংলাদেশের খবরকে বলেন, যদি খুলনা ও গাজীপুরের মতো নির্বাচন হয়, তাহলে সাদিক আবদুল্লাহই মেয়র। আর যদি ভোটারদের ভোট দিতে দেওয়া হয় তাহলে সরোয়ার-সাদিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ৫-৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে দুজনের যে কেউ বিজয়ী হতে পারেন। তার বিবেচনায় এ ক্ষেত্রে সরোয়ারের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।

একই আড্ডার শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, বরিশালকে বিএনপির আখড়া বলা হয়। এখানে গণ্ডগোল না করলে সরোয়ারই মেয়র হবেন। যদিও তিনি মেয়র হলে আমাদের কোনো লাভ হবে না। তার দল ক্ষমতায় থাকতেও তিনি মেয়র ছিলেন কিন্তু কোনো কাজ করেননি।

সদর রোডের কাকলীর মোড়ে কথা হয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আশিকুরের সঙ্গে। পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এই ভোটার বলেন, ব্যক্তি ইমেজের দিক থেকে মজিবর রহমান সরোয়ার এগিয়ে আছেন। ২০০৮ সালে বিএনপির ভরাডুবিতেও তিনি এমপি হয়েছেন। তার আগে মেয়রও ছিলেন। কিন্তু যদি শহরের উন্নয়নের কথা বলি, সিটি করপোরেশন গঠনের পর হিরণ মেয়র থাকা অবস্থায় যে উন্নয়ন হয়েছে, বাকিরা তার অর্ধেকও করতে পারেননি।

বরিশাল শহরের অলিগলির মতো খোদ নগরভবনেও বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ‘কে হচ্ছেন নতুন নগরপিতা’- এই নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে উৎসাহ। সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচনের আগেই নগর ভবনে সরকারি দলের ঠিকাদারদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। অনেকে তো আবার কর্মিবাহিনী নিয়েও আসছেন। এখানেও ভোটের প্রচারণা চলছে।

এদিকে গতকাল ভোর থেকে শহরে ছিল মুষলধারে বৃষ্টি। থেমে থেমে তা চলে বেলা দেড়টা পর্যন্ত। বৃষ্টির কারণে জনসংযোগ ও প্রচারণার কাজ কিছুটা ব্যাহত হলেও সকল প্রার্থীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। অলিগলিতে পাশাপাশি রশিতে ঝুলছে সব প্রার্থীরই পোস্টার। শহরজুড়েই সব প্রার্থীরই মাইকিং প্রচারণা থাকলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকের ওবাইদুর রহমান মাহবুর রয়েছেন অন্যদের থেকে এগিয়ে।

এক নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী ঠেলাগাড়ি প্রতীকের আমির হোসেন বিশ্বাস বলেন, একজন প্রার্থী হিসেবে নয়, বরিশালের সাধারণ মানুষ হিসেবে বলব, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক আছে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে বৃষ্টির জন্য জনসংযোগ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তবে বিকাল থেকে তা চলবে। ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ঘুড়ি প্রতীকের এস এম জাকির হোসেন বলেন, দেশের অন্যান্য এলাকার মতো বরিশালে নির্বাচন হয় না। এখানকার ভোটাররা খুবই সচেতন। পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলে এখানে ৯০ শতাংশের ওপরে ভোট কাস্ট হতে পারে।

৬ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের প্রার্থী বেবী জেসমিন বলেন, এখন পর্যন্ত প্রচারণায় কোনো প্রার্থীকে বাধা দেওয়া হয়েছে এমনটা ঘটেনি। প্রত্যেকেই জনসংযোগ করছেন, পোস্টারিং করছেন। বাকি দিনগুলো এমন থাকলে আশা করি এখানে সুষ্ঠু ভোট হবে।

একসময়ের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ঠিকাদার ব্যবসায়ী টিটু বলেন, বিএনপিতে নেতা হিসেবে সরোয়ারের বিকল্প নেই। কিন্তু তার কারণেই দলের মধ্যে বিভাজন আছে। ক্ষমতায় থাকতে উনি সিটির জন্য তেমন কাজ করেননি। সুষ্ঠু ভোট হওয়ার পরও যদি উনি হেরে যান, তাহলে এসব কারণে সেটা হবে।