• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৩ মহররম ১৪৪০
BK
পাকিস্তানে নির্বাচন

জঙ্গিবাদ দমনই হবে নতুন সরকারের কাজ

জঙ্গিবাদ দমনই হবে নতুন সরকারের কাজ
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খান হতে যাচ্ছেন পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্লামেন্টের ১১৩টি আসনে এগিয়ে আছে। দ্বিতীয় স্থানে আছে (৬৪টি আসনে এগিয়ে) ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন। আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পিপিপি এগিয়ে আছে ৩৯টি আসনে। প্রায় ৫০ শতাংশ ভোটগণনার ফল এটি। গণনা বিলম্বিত হওয়ায় নির্বাচনের পুরো চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি। তবে প্রাপ্ত ফলাফলের প্রবণতা ইমরান খানের দলের বিজয়েরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অবশ্য সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৩৭ আসন। এককভাবে কোনো দলের এ আসন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। সেক্ষেত্রে তৈরি হবে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট। সব মিলিয়ে ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের নেতৃত্বে সরকার গঠনের সম্ভাবনাই উজ্জ্বল।

পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক সফল অধিনায়ক ইমরান খান রাজনীতিতেও সাফল্যের প্রমাণ দিলেন। অবশ্য তা নির্বাচনে। তাকে রাজনীতিতে সার্বিকভাবে সফল হতে হলে আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। সবার আগে রাজনীতিতে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে হবে। রাজনীতিতে তিনি ধর্মকে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সেক্ষেত্রে তিনি জঙ্গিবাদ নির্মূলে কতটা সফল হবেন তা দেখার বিষয়। জঙ্গিবাদ উত্থানের কারণে বিশ্বে পাকিস্তান এখন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত। এজন্য অনেকে দেশটিকে ব্যর্থ রাষ্ট্রও বলে থাকেন। জঙ্গি তৎপরতা পাকিস্তানে অতি সাধারণ ঘটনা। নির্বাচনের দিনও কোয়েটায় আত্মঘাতী হামলায় ৩১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন আইএস। দ্বিতীয়ত, নতুন সরকারকে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলা করে এ থেকে দেশটির উত্তরণ ঘটাতে হবে। তৃতীয়ত, পাকিস্তানে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করার বড় দায়িত্ব বর্তাবে নতুন সরকারের ওপর। সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত দেশে কাজটি সহজ নয়। অনেকের আশঙ্কা, ইমরানের যে মতাদর্শ, তার সঙ্গে অচিরেই সেনাবাহিনীর মতভেদ ঘটবে। সেক্ষেত্রে ইমরান খান কতদিন ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন, সেটিও প্রশ্ন।

পাকিস্তানের ৭১ বছরের ইতিহাসে এবার দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার আরেকটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে যাচ্ছে। এ হস্তান্তর প্রক্রিয়া মসৃণভাবে সম্পন্ন হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। অবশ্য নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন এবং বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনেছে। ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা এ অভিযোগকে আরো জোরালো করেছে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, আমাদের প্রত্যাশা পাকিস্তানে গণতন্ত্রের জয় হোক। ৭১ বছরের ইতিহাসের প্রায় অর্ধেক সময়ই সামরিক বাহিনী প্রত্যক্ষভাবে দেশটি শাসন করেছে। বাকি সময় বেসামরিক প্রশাসন ক্ষমতায় থাকলেও সেক্ষেত্রেও সেনাবাহিনীর পরোক্ষ প্রভাব ছিল। তাই দেশটিতে গণতন্ত্র কখনো শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে পারেনি। এদিকে ভোটের ফল নিয়ে জনমনে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ প্রশ্ন আর যা-ই হোক, গণতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়, রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষেও নয়। তবে নির্বাচন যখন একটা হয়েছে, গণতান্ত্রিক একটা প্রক্রিয়া যখন অনুসৃত হয়েছে, তখন সেই গণতন্ত্রের জন্য থাকল শুভকামনা।