• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৪ মহররম ১৪৪০
BK

মঙ্গলে মিলল তরল পানির হ্রদ

মঙ্গলে মিলল তরল পানির হ্রদ
ছবি : ইন্টারনেট

 

ওকে//////সামি

 

 

 

 

আগের বিভিন্ন গবেষণায় মঙ্গলগ্রহের কোনো কোনো জায়গায় তরল পানির প্রবাহের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এই প্রথম সেখানে স্থায়ী জলাধারের অস্তিত্ব মিলেছে। গ্রহটির কক্ষপথ পরিভ্রমণ করতে থাকা মার্স এক্সপ্রেস নভোযানের মারসিস রাডার এই জলাধারের (হ্রদ) সন্ধান পেয়েছে বলে বিবিসির এক খবরে জানানো হয়েছে।

নাসার বরাতে বিবিসি বলছে, হ্রদটি পাওয়া গেছে মঙ্গলগ্রহের দক্ষিণ মেরুতে। বরফে আচ্ছাদিত এই হ্রদের আয়তন হবে ২০ কিলোমিটারের মতো। আর গভীরতা প্রায় এক মিটার।

মঙ্গলে পানির অস্তিত্ব নিয়ে চলতি গবেষণা নেতৃত্ব দেওয়া ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের অধ্যাপক রবার্তো ওরোসেই বলেন, হ্রদটি আকারে তেমন বড় নয় তবে এটি একটি সত্যিকারের জলাধার।

বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর বাইরে অন্য কোথাও জীবনের অস্তিত্ব নির্ভর করে সেখানে পানি রয়েছে কি না তার ওপর। তাই মঙ্গলে যেহেতু পানির অস্তিত্ব মিলেছে তাই সেখানে নতুনভাবে জীবের সন্ধান করতে হবে। ব্রিটেনের ওপেন ইউনিভার্সিটির ড. মনিশ প্যাটেল এই বিষয়ে বলেন, আমরা জানি মঙ্গলগ্রহের উপরিভাগ প্রাণের জন্য অনুকূল নয়, তাই এখন উপরিভাগের নিচে নতুন করে জীবনের সন্ধান করতে হবে।

ড. প্যাটেল বলেন, শুধু পানি থাকলেই হবে না, সেই পানির তাপমাত্রা কত এবং তার ভেতরে কি ধরনের রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে, সেটাও প্রাণের অস্তিত্বের জন্য জরুরি।

তিনি বলেন, মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার কাছাকাছি আমরা পৌঁছে গেছি তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে গবেষণার এই ফলাফল মঙ্গলের কোথায় প্রাণের সন্ধান করতে হবে তার নির্দেশ দিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, মঙ্গলের এই জলাধারে পানির তাপমাত্রা -১০ থেকে -৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে সেখানে প্রচুর লবণ থাকায় তীব্র ঠান্ডায়ও জলাধারটি তরল রয়েছে।

ড. মনিশ প্যাটেলের আরেক সহকর্মী ড. ম্যাট বামের মতে, এখন মঙ্গলগ্রহে এমন একটি অভিযানের পরিকল্পনা করতে হবে যেখানে বরফ ড্রিল করে ওই জলাধারের পানি পরীক্ষা করতে। তবে অ্যান্টার্কটিকার পুরু বরফে ঢাকা ভস্টক হ্রদে পৃষ্ঠ ড্রিল করে শীতল পানিতে বিজ্ঞানীরা ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পেলেও মঙ্গলগ্রহে সে ধরনের পরীক্ষা চালানো খুবই কঠিন কাজ হবে বলে মনে করেন ম্যাট।

কারণ এর জন্য মঙ্গলগ্রহে এমন একটি রোবট পাঠাতে হবে যেটি দেড় মিটার বরফ ছিদ্র করতে সক্ষম। কিন্তু এর জন্য যে ধরনের প্রযুক্তি দরকার, সেটি এখনো নেই।