• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ২৪ সফর ১৪৩৯
BK

সেন্ট কিটসে আজ অলিখিত ফাইনাল

সেন্ট কিটসে আজ অলিখিত ফাইনাল
সংরক্ষিত ছবি

টেস্ট সিরিজের লজ্জাজনক স্মৃতি ভুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে মিশনে নামে বাংলাদেশ। অধিনায়ক মাশরাফির মন্ত্রে বদলে যায় বাংলাদেশ। গায়ানায় প্রথম ওয়ানডেতে ৪৮ রানে জিতে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে যায় টাইগাররা। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয়ের খুব কাছে গিয়েও ৩ রানের হার। ফলে বর্তমানে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা। তাই শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করতে মরিয়া দু’দলই। বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে আজ। সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে দু’দলের অলিখিত ফাইনাল।

এর আগে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ মুখোমুখি হয়েছে মোট ৩০টি ওয়ানডে ম্যাচে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৮টিতে আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০টিতে। বৃষ্টিতে ভেসে গেছে দুটি ম্যাচ। এছাড়া ক্যারিবীয়দের মাটিতে ১২ ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশের ৪টি জয়ের বিপরীতে ৮টিতে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সুতরাং পরিসংখ্যানে এগিয়ে স্বাগতিকরাই।

কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জিততে প্রয়োজন দলীয় পারফরম্যান্স। সেই পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন দলের পঞ্চপাণ্ডব- মাশরাফি, তামিম, সাকিব, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। এই সিরিজে সুযোগ পেয়েও জ্বলে উঠতে পারেননি তরুণ ক্রিকেটাররা। প্রথম ওয়ানডেতে ৪ উইকেটে স্কোর বোর্ডে বাংলাদেশ রান তোলে ২৭৯। এর মধ্যে ২৫৭ রান এসেছে দলের তিন সিনিয়র ক্রিকেটার তামিম (১৩০), সাকিব (৯৭) এবং মুশফিকের ব্যাট থেকে (৩০)। ব্যাটিংয়ে সুযোগ পেয়েও দুই তরুণ এনামুল ও সাব্বিরের অবদান ৭ বলে ৩ রান। অনেক দিন পর দলে ফিরে এনামুল রানের খাতাই খুলতে পারেননি। আর সাব্বির তো সব সময়ের মতোই ব্যর্থ।

দ্বিতীয় ম্যাচে অবস্থা আরো করুণ। জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ২৮ বলে ৩৯ রান। এই অবস্থায় ব্যাটিং করতে নামেন সাব্বির। কিন্তু প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে পারেননি তিনি। জবাব নেই ওয়ানডেতে সাব্বিরের ধারাবাহিক ব্যাটিং ব্যর্থতার। সবশেষ অর্ধশতকের দেখা পেয়েছেন গত বছর ডাবলিনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর টানা ১৩ ম্যাচে ফিফটি নেই একটিও।

অনেকটা একই চিত্র মোসাদ্দেকেরও। প্রথম ম্যাচে বোলিংটা মোটামুটি ভালোই ছিল। ৭ ওভার হাত ঘুড়িয়ে কোনো উইকেট না পেলেও রান দেন মাত্র ২২। কিন্তু একাদশে তার পরিচয় ব্যাটসম্যান হিসেবে। সেই পরিচয় রাখতে পারেননি দ্বিতীয় ওয়ানডেতে। শেষ ম্যাচে যখন উইকেটে যান ৫ বলে দরকার ৮ রান। এই অবস্থায় প্রথম দুই বলে তিনি কোনো রানই নিতে পারেননি। অথচ ঘরোয়া ক্রিকেটে এ ধরনের পরিস্থিতিতে হাত পাকিয়েই তিনি এসেছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

দুই বছর আগে ওয়ানডেতে অভিষেকের পর মোসাদ্দেক খেলেছেন ২০টি ম্যাচে। পরিসংখ্যান বলছে, ওয়ানডেতে তার সবশেষ অর্ধশতক দুই বছর আগে ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর টানা ১০ ম্যাচে দেখা নেই ফিফটির।

এই অবস্থায় এনামুলের কথা না বললেই নয়। সাব্বির-মোসাদ্দেক অনেক আগে ২০১২ সালে জায়গা পান জাতীয় দলে। চোট ও বাজে পারফরম্যান্স কাটিয়ে ২০১৫ সালের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ওয়ানডে দলে ফেরেন এ বছর। এই ওপেনার ছয়টি ইনিংসে করেছেন মাত্র ৭৮ রান।

তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই ম্যাচ জেতানোর দায়িত্ব নিতে হচ্ছে দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের। আর তাই বাংলাদেশের জয়ে কিংবা ভালো পারফরম্যান্সে ঘুরেফিরে আসে সেই ‘ফ্যাব ফাইভ’। সাকিব নাম্বার ওয়ান হলে তামিম মিস্টার ওপেনার। মুশফিক মিস্টার ডিপেন্ডেবল হলে মাহমুদউল্লাহ সাইলেন্ট কিলার। আর সবাইকে ছাড়িয়ে মাশরাফি- দ্য ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক।

বিগত পাঁচ-ছয় বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে যতগুলো জয় এসেছে তাতে এই পঞ্চপাণ্ডবের অবদানই বেশি। এই সময়ে যে কয়টা ম্যাচ টাইগাররা জিতেছে, তার ৯৮ ভাগ ম্যাচ জিতিয়েছেন মাশরাফিরা।

এই সিরিজেও এক অবস্থা। এখন প্রশ্ন উঠেছে সিনিয়রদের কাঁধে ভর করে পারবে তো বাংলাদেশ সিরিজ জিততে!