• বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মহররম ১৪৪০
BK
হঠাৎ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দুদক টিম

ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিপরীতে ‘পরামর্শ’

ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিপরীতে ‘পরামর্শ’
সংরক্ষিত ছবি

কেরানীগঞ্জস্থ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার আকস্মিক পরিদর্শন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার দুপুরে সংস্থার উপপরিচালক এসএম সাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে দুদক টিম পরিদর্শনে যায়। এ সময় ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম খুঁজে পেলেও ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্টদের নিছক ‘পরামর্শ’ দিয়ে ফিরে আসে টিমটি।

দুদকের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১০৬ হটলাইনে অভিযোগ আসে, কেরানীগঞ্জস্থ কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদিদের খাদ্য সরবরাহ এবং স্বজনদের সাক্ষাৎকালে ঘুষ লেনদেন এবং ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে বিশেষ টিম পাঠায়। টিমটি কারাগারে প্রবেশ করে এবং কারা হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ সরেজমিন পরিদর্শন করে। এ সময় কারাগারের খাদ্য প্রস্তুতকরণ, রান্না ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়মের সন্ধান মেলে। প্রতিটি দ্রব্যের মূল্য নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি নেওয়া হয়। দর্শনার্থীদের এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেয় দুদক টিম। টিমটি দর্শনার্থীদের প্রবেশ, সাক্ষাৎকার ও কথোপকথন সরেজমিন পরিদর্শন করে।  এ সময় টিমটি দেখতে পায়, এখানে ব্যবস্থাপনার ব্যাপক ঘাটতি। কয়েদিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎকারস্থলে স্থান সংকুলান নেই। প্রচণ্ড কোলাহলের কারণে দর্শনার্থীরা কিছুই শুনতে পায় না। দুদক টিমের সদস্যরা কারারক্ষীদের ডিউটি বণ্টন রেজিস্টার পরীক্ষা করেন। কারাবন্দিরা কারাগারে প্রবেশকালে চেক-ইন ব্যবস্থায় অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়। একটি স্ক্যানিং মেশিন থাকলেও সেটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল। উদ্ঘাটিত অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সীমাবদ্ধতা দূরীকরণে দুদক টিম কারা প্রশাসনকে পরামর্শ দেয়। দুদকের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের মধ্যে ঘুষ-দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতার জন্য দুর্নীতিবিরোধী পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। মাইকিং করে দুর্নীতি সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ দুদক হটলাইনে (১০৬) জানানোর জন্য বলা হয়। কারা পরিদর্শন সম্পর্কে দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযানের সমন্বয়কারী  মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী বলেন, কারা ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়ম রয়েছে। এটি তাদের সিস্টেম ফেইল্যুর। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। কর্তৃপক্ষকে সংশোধনের সময় দেওয়া হয়েছে, নতুবা দুদক আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।