• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৩ মহররম ১৪৪০
BK

বর্ষায় শিশুর যত্ন

বর্ষায় শিশুর যত্ন

ক’দিন ধরে একটানা বৃষ্টি। চলছে অঝোর শ্রাবণ। রাস্তাঘাটে কাদাপানি। বাড়িঘরও কেমন স্যাঁতসেঁতে। জানালার কার্নিশে পানি জমে আছে। ছোট্ট শিশু না বুঝেই পানি নিয়ে খেলছিল। ব্যস, লেগে গেল ঠান্ডা-জ্বর। এই বর্ষায় শিশুদের সাবধানে রাখুন। শিশুদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বলেই একটু জ্বর-ঠান্ডায় খুব কাতর হয়ে পড়ে। তার থেকে হয়ে যেতে পারে বিপজ্জনক রোগও। বিশেষ করে জমে থাকা পানিতে অনেক রোগ-জীবাণু থাকে। বাচ্চাদের সব সময় শুকনো কাপড় পরিয়ে রাখুন। খেয়াল রাখবেন তারা যেন খালি পায়ে বাইরে না চলে যায়। কোনোভাবেই কাদাপানি না মাড়ায়। গ্রামের তুলনায় শহরের শিশুদেরই বর্ষার জ্বর-কাশিতে বেশি কাবু করে। এর কারণ প্রকৃতির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কম। গ্রামের শিশুরা কিছুটা মানিয়ে নিতে পারে। তাও গ্রামের শিশুদের সাবধানে রাখতে হবে। বিশেষ করে মশা, সাপ, অন্যান্য পোকামাকড় ও বাড়ির পাশের ডোবা-পুকুর থেকে। অনেক বাবা-মার ধারণা বর্ষায় প্রতিদিন গোসল করালে শিশুর ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। গোসল না করালেও প্রতিদিনই তার হাত-পাসহ পুরো শরীর ভালো করে পানি দিয়ে মুছে দিন, এতে রোগ-জীবাণুর হাত থেকে সে দূরে থাকবে। ঘর স্যাভলন দিয়ে মুছে রাখবেন। তার বিছানা পরিষ্কার রাখবেন। বর্ষায় অনেকের ঘরে বিছানায় পিঁপড়ার আক্রমণও দেখা যায়। খাদ্যদ্রব্য পড়ে থাকার কারণেই পিঁপড়া বেশি আসে। পিঁপড়া থেকে সাবধানে থাকবেন। স্কুলগামী শিশুদের স্কুলে যাওয়া-আসার ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করবেন। তার সঙ্গে বর্ষাতি কিংবা ছাতা দিয়ে দিন। নিজে গিয়ে দিয়ে নিয়ে এলেও আকাশের পরিস্থিতি খেয়াল করুন। নিজে অহেতুক ভিজবেন  না, বাচ্চাকেও ভিজাবেন না। বর্ষা রোমান্টিক ব্যাপার, কিন্তু বাচ্চার জন্য ভয়েরও ব্যাপার। হঠাৎ যদি বাচ্চা খুব বেশি অসুস্থ হয়ে যায়, জ্বর-ঠান্ডায় যদি কাবু হয়ে পড়ে খুব বেশি ঘাবড়াবেন না এবং নিজের ইচ্ছামতো কখনোই ওষুধ খাওয়াবেন না। সামান্য জ্বরই তো, এই মনে করে অনেক বাবা-মা পরিচিত কোনো ওষুধ খাইয়ে দেন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বাচ্চাদের কোনো ওষুধই খাওয়ানো উচিত নয়। প্রয়োজনে অতি শিগগির ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সাবধানে থাকুন, সুস্থ থাকুন।