• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৩ মহররম ১৪৪০
BK
বেচাকেনা কমেছে বাজারে

উদ্বেগ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের

উদ্বেগ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের
প্রতীকী ছবি

নিরাপদ সড়কের দাবিতে গতকাল সপ্তম দিনের মতো রাস্তায় নেমেছিল শিক্ষার্থীরা। গত কয়েক দিনে তাদের এ আন্দোলনে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পুরো ঢাকা। পাশাপাশি নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে পরিবহন মালিকরাও অঘোষিত ধর্মঘট পালন করছেন। এ অবস্থায় থমকে গেছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আন্দোলনের কারণে বেড়েছে পরিবহন ভাড়া। কারণ পণ্যবাহী পরিবহনগুলো চলাচলে রাস্তায় কোনো বাধা না থাকলেও নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই আতঙ্কে অনেক পরিবহন রাস্তায় নামছে না। বিশেষ করে রাজধানীর অভ্যন্তরে পণ্য পরিবহনে ব্যবহূত পিকআপ ও মিনি ট্রাকগুলোর অধিকাংশই চলছে না। এতে পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে বেশি ব্যয়ে।

অপরদিকে আন্দোলনের কারণে বেশ কয়েক দিন থেকেই রাজধানীর শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, গুলিস্তানসহ পুরান ঢাকার অধিকাংশ পাইকারি বাজারে ক্রেতা সমাগম কমে গেছে। পরিবহন সমস্যার কারণে দেশের অন্যান্য এলাকা থেকেও আসছে না পাইকাররা। আবার পরিবহন সমস্যায় সারা দেশে পণ্য পৌঁছাতেও পারছেন না নিত্যপণ্যের ব্যবসায়ীরা। এতে ছোট ছোট ব্যবসাকেন্দ্রসহ ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর গুদামে পণ্য জমে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান আবার শঙ্কার কারণে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

গতকাল কেনাবেচা নিয়ে কথা হয় ঢাকা কলেজের সামনে নূরজাহান মার্কেটের সিটি কালেকশনের স্বত্বাধিকারী রাজিব আহম্মেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আন্দোলন শুরুর পরে দু-একদিন তেমন প্রভাব পড়েনি। কিন্তু এখন দিন যত যাচ্ছে বেচাকেনা ততই কমছে। শুক্রবার ছুটির দিনের পরও বিক্রি অনেক কম হয়েছে। সায়েন্সল্যাব ও শাহবাগে আন্দোলন চলার কারণে মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এ মার্কেটে আসছে না।’ গতকালও সরেজমিন নিউমার্কেট এলাকায় চাঁদনী চক, গাউছিয়াসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে ক্রেতা আনাগোনা অনেক কম চোখে পড়ে।

এদিকে রাজধানীর বিশেষায়িত পাইকারি বাজার গুলিস্তান, নবাবপুর, বঙ্গবাজার, বাবুবাজার, ইসলামপুর, মৌলভীবাজার, বেগমবাজার, শ্যামবাজার, সদরঘাটসহ বিভিন্ন বাজারে ক্রেতার আনাগোনা ছিল বেশ কম। এসব বাজারে সাধারণত প্রতিদিন লাখ লাখ ক্রেতা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্য কিনতে আসেন। তবে রাজধানীগামী দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় সে পরিমাণ পাইকাররা এখন আসছেন না বলে জানান বিক্রেতারা।

রাজধানীতে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার মৌলভীবাজার। যোগাযোগ করা হলে এই বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বাংলাদেশের খবরকে বলেন, গত কয়েক দিনে এ বাজারের বেচাবিক্রি অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। কারণ আমাদের ব্যবসা মফস্বলের পাইকারি ক্রেতাকেন্দ্রিক। তারা এখন রাজধানীতে আসছেন না।

তিনি বলেন, এখন পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে না খুব শিগগির এ আন্দোলনের সমাধান হবে। আর সে কারণেই আমাদের শঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দু-একদিনের মধ্যে বাজার লাইফ সাপোর্টে চলে যাবে।

এদিকে রাজধানীর চালের প্রধান বাজার বাবুবাজারের শিল্পী রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী কাওসার আলম বলেন, রাতে কিছু এলাকা থেকে ট্রাকে চাল আসছে। তবে এখান থেকে ঢাকা বা আশপাশের অন্যান্য বাজারে সে চাল আনা-নেওয়া খুব সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাগজপত্র ঠিকঠাক না থাকলে ট্রাক বা পিকআপ যেতে চাচ্ছে না। যাদের মিলছে তারাও ভাড়া দ্বিগুণ হাঁকছে। এসব কারণে গত কয়েক দিন চালের সরবরাহ কমে গেছে। সব চাল এখন গুদামে মজুত হয়ে রয়েছে।

একই ধরনের কথা জানিয়ে নবাবপুর হার্ডওয়্যার মার্কেটে এসবি ট্রেডিংয়ের ম্যানেজার বেলাল হোসেন বলেন, আন্দোলনে ভাঙচুরের আতঙ্কের কারণে অনেক চেষ্টা করেও যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না। তাই কয়েকটি জেলা থেকে সাব-ডিলারদের কিছু অর্ডার থাকার পরও ঢাকা থেকে সেসব মালামাল পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। যদিও দু-একটি যানবাহন পাওয়া যায়, সেগুলো ভাড়া তিন থেকে চারগুণ বেশি চাচ্ছে। এত ভাড়ায় পণ্য পরিবহন করলে লোকসানের বিকল্প থাকবে না।

এসব বিষয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, কিছু ক্ষতি হলেও এ আন্দোলনের প্রতি ব্যবসায়ীদেরও সমর্থন আছে। তবে ভিন্ন খাতে এ আন্দোলন প্রবাহিত হলে সেটা আরো দুর্ভোগ বাড়াবে। আর সেটাই ব্যবসায়ীদের শঙ্কার কারণ।

তিনি বলেন, আন্দোলনে ব্যবসায়িক যে ক্ষতি হচ্ছে, তাতে দ্রব্যমূল্য বাড়লে তার প্রভাব তো সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে। আমরা আমাদের ক্ষতি মেনে নিয়েছি। তবে এটা ‘আনসাডেন পিরিয়ড’ পর্যন্ত চলতে পারে না।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকার সপ্তম দিনের মতো চলেছে আন্দোলন। গত ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সেদিন থেকেই শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেয়।