• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৮ সফর ১৪৩৯
BK

এলাকার মূল সড়কের ২০-২৫ জায়গা এরকম যে, সেখানে মাছ চাষ করা যাবে -আশফাক

এলাকার মূল সড়কের ২০-২৫ জায়গা এরকম যে, সেখানে মাছ চাষ করা যাবে -আশফাক
সংগৃহীত ছবি

খন্দকার আবু আশফাক, ১৯৮১ সালে ছাত্রদলে  যোগদানের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু। ১৯৮৬ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে ফজলুল হক হলের ভিপি নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে ঢাকা জেলার যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৩ সালে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০১৬ সালে ঢাকা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। একই সঙ্গে বর্তমানে তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা-১ আসনের নির্বাচন বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশের খবরের বিশেষ প্রতিনিধি আসিফ সোহান

বাংলাদেশের খবর : শোনা যাচ্ছে আপনি এবার ঢাকা-১ আসনে মনোনয়ন চাইবেন। আপনি তো জানেন, এই আসনে মান্নান সাহেব আছেন— তাহলে কেন মনে করছেন দল আপনাকে মনোনয়ন দেবে?

খন্দকার আবু আশফাক : তিনি খুব অসুস্থ, মাঠে আসতে পারেন না, ঠিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। আর আপনি তো জানেন নির্বাচনের জন্য মাঠে কাজ করা কতটা জরুরি, কাজেই দলই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাকে মনোনয়ন দেবে। আমি সিদ্ধান্ত নিইনি। 

বাংলাদেশের খবর : দলীয় চেয়ারপারসন কারাগারে। এ পরিস্থিতিতে আপনাদের নির্বাচন নিয়ে কী ভাবনা? আপনারা কি নির্বাচনে যাচ্ছেন? 

খন্দকার আবু আশফাক : আপনারা সাংবাদিকরা তো সবই জানেন। খালেদা জিয়া ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। ওয়ান-ইলেভেনের সময় খালেদার জিয়ার নামে মাত্র চারটি মিথ্যা মামলা হয়েছিল, আর শেখ হাসিনার নামে ১৫টিরও বেশি মামলা হয়। কিন্তু তিনি ক্ষমতায় এসে তার সব মামলা উঠিয়ে নিয়েছেন। আর খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে রেখেছেন। কাজেই খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচন করবে না এবং জনগণকে নিয়ে ২০১৪ সালের মতো কোনো নির্বাচনও এ দেশে হতেও দেওয়া হবে না।    

বাংলাদেশের খবর : এই আসনে এমপি জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম। কী ধরনের উন্নয়ন হয়েছে? এখন জনগণের অবস্থা কী?

খন্দকার আবু আশফাক : কেরানীগঞ্জ থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত আমাদের রাস্তাটি ৭২ কিলোমিটার। এই রাস্তার ২০-২৫ জায়গা এমন যে, সেখানে মাছ চাষ করা যাবে। ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে নবাবগঞ্জের দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার, আর জিরো পয়েন্ট থেকে সাভারের দূরত্ব ৪৫ কিলোমিটার, গ্যাস চলে গেছে ওইসব এলাকায়, কত শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে, অথচ আমাদের এলাকায় গ্যাস আসেনি, যে কারণে এত সম্ভাবনা থাকার পরও নাবাবগঞ্জ-দোহার পিছিয়ে। আমাদের এলাকার কোনো উন্নয়ন হয়নি। এটা তো বললাম মেইন রোডের কথা। সাব রোডের অবস্থা তো আরো খারাপ। কিছু  রাস্তা এমন আছে যেখানকার মানুষকে ঘর থেকে বের হতে হলে নৌকা নিয়ে বের হতে হয়। এ অবস্থা নিয়েই আমরা জীবনযাপন করছি।

বাংলাদেশের খবর : আপনি হলে কী করবেন?

খন্দকার আবু আশফাক : আল্লাহ যদি আমাদের সহায় হোন এবং এই অবৈধ সরকারের হাত থেকে উদ্ধার করেন, তাহলে আমরা মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারব। জনগণ যদি সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারে তাহলে আমরা শতকরা ৮০ ভাগ সিট নিয়ে ক্ষমতায় আসব। তখন আমরা শহীদ জিয়া এবং দেশনেত্রী খালেদার জিয়ার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখব। এক বছরের মধ্যেই সব রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হবে। এলাকায় গ্যাস আনার বিষয়ে চেষ্টা করব, এই একটি কারণে এলাকা অনেক পিছিয়ে আছে। আমি এলাকার ছেলে, নিজের এলাকার উন্নয়ন করব-এটাই স্বাভাবিক।

বাংলাদেশের খবর : মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করবেন, যেখানে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন অর্থবিত্ত ও ক্ষমতাশালী। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আপনি কতটুক এগিয়ে যেতে পারবেন?

খন্দকার আবু আশফাক : বিএনপি একটি বড় দল। তাছাড়া আমি এখানে কাজ করে চলছি, জনগণ আমার সঙ্গে আছে। কাজেই আমি নির্বাচন করব আমার দল আর আমার কাজ দিয়ে, কে ক্ষমতাশালী সেটি বিচার্য নয়। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ঢাকা জেলায় বিএনপি খুব সহজেই জয় লাভ করবে।

বাংলাদেশের খবর : এলাকার জনগণের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?

খন্দকার আবু আশফাক : এলাকার জনগণ আমাকে খুব ভালোবাসে। দুটি নির্বাচনে আমি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। আমার বিপরীতে আওয়ামী লীগের যিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তিনি আমার অর্ধেক ভোট পেয়েছেন। সুতরাং এলাকায় আমার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলাদাভাবে কিছু বলার নেই।