• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৬ সফর ১৪৩৯
BK

নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জনগণ দেখতে পাবে বিএনপি কতটা শক্তিশালী -জুবলি

নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জনগণ দেখতে পাবে বিএনপি কতটা শক্তিশালী -জুবলি
সংরক্ষিত ছবি

ফাহিমা হোসেন জুবলি ১৯৯১ সালে ইডেন কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সদস্য নির্বাচিত হন। একসময় শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক হিসেবে জোরালোভাবে রাজনীতি শুরু করেন এবং ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব লাভ করেন। তারপর পর্যায়ক্রমে স্থান করে নেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে, যেখানে তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৫ সালে তিনি সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হন। ঢাকা-১ আসনের নির্বাচন বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশের খবরের সিনিয়র রিপোর্টার আফজাল বারী

বাংলাদেশের খবর : আগামী নির্বাচনে আপনার আসনে বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও আপনি কোন যুক্তিতে মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করছেন?

ফাহিমা হোসেন জুবলি : আপনি ঠিকই বলেছেন। বিএনপির মতো এত বৃহৎ একটা দলে একাধিক প্রার্থী থাকাটাই স্বাভাবিক। দলের হাইকমান্ড যদি মনে করে আমি যোগ্য, তাহলে অবশ্যই আমি মনোনয়ন পাব।

বাংলাদেশের খবর : আপনার আসনে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী, যেমন সালমান এফ রহমান, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, বর্তমান এমপি সালমা ইসলাম রয়েছেন। এদের পরাজিত করে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মতো কী কী প্রস্তুতি আপনি নিয়েছেন?

ফাহিমা হোসেন জুবলি : নির্বাচনের মাঠে হেভিওয়েট প্রার্থী বলে কিছু আছে, এমনটি আমি কখনোই মনে করি না। বিশেষ করে আপনি যাদের কথা বললেন, তারা কিন্তু বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন করেছেন। তাদের সবার বিষয়েই আপনাদের জানা আছে। তবে এলাকাবাসী কিন্তু কে বেশি কাজ করছে, তা বিবেচনা করে। আবার এ কথাও সত্য, দোহার-নবাবগঞ্জের মাটি বিএনপির ঘাঁটি। বিগত সময়েও আপনারা দেখেছেন, অনেক বড় বড় প্রার্থী নির্বাচন করলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপিই জয়যুক্ত হয়েছে। এককথায় বলা যায়, দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষ চেনে ধানের শীষ।

বাংলাদেশের খবর : আমরা দেখতে পাচ্ছি, দেশজুড়ে আপনাদের সাংগঠনিক একটা দুর্বলতা আছে। আপনার এলাকায় এটি কেমন?

ফাহিমা হোসেন জুবলি : দোহার-নবাবগঞ্জে আমাদের সাংগঠনিক অবস্থা খুবই শক্তিশালী। পুলিশি বাধা আর ধরপাকড়ের পরও কিন্তু আমাদের নেতাকর্মীরা থেমে নেই। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জনগণ অবশ্যই দেখতে পাবে এখানে বিএনপি কতটা শক্তিশালী।

বাংলাদেশের খবর : আপনাদের দলীয় প্রধান কারাগারে। দল থেকে বলা হচ্ছে, নেত্রীর মুক্তি ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হবে না। বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

ফাহিমা হোসেন জুবলি : অবশ্যই। কারণ খালেদা জিয়া আমাদের মা। তাকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নই ওঠে না। ইনশাল্লাহ, নেত্রীকে মুক্ত করেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাব।

বাংলাদেশের খবর : আপনি তো একসময় ছাত্রনেতা ছিলেন। সেই হিসেবে জানতে চাচ্ছি, দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও বিএনপি আন্দোলন জোরালো করতে পারছে না কেন?

ফাহিমা হোসেন জুবলি : আপনাকে কী আর বলব— আমরা কিন্তু নব্বইয়ের আন্দোলনও করেছি। তারপর দেশে  একাধিকবার সরকার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার এতটাই ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে যে, সাধারণ মানুষ রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে থাকে। কারণ জনগণের জানমালের কোনোই নিরাপত্তা নেই এ সরকারের অধীনে। আর এসব করে সরকার আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করছে। তবে কথা হলো— আমাদের নেত্রী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বিশ্বাসী। তার নির্দেশনা মেনেই নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন ও আন্দোলন করে যাচ্ছেন। এভাবেই আমরা সফল হব বলে বিশ্বাস করি।

বাংলাদেশের খবর : আপনার নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতি প্রতিশ্রুতি কী? একই সঙ্গে তাদের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?

ফাহিমা হোসেন জুবলি : দোহার-নবাবগঞ্জবাসীর কাছে আমার প্রথম প্রত্যাশা থাকবে, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও তারা নির্বাচনে ধানের শীষ বেছে নেবেন। কারণ দেশকে রক্ষা করতে হলে ধানের শীষের বিকল্প নেই। সে কারণে ভোটাররা অবশ্যই ধানের শীষে ভোট দেবেন বলে আমার প্রত্যাশা। পাশাপাশি এ কথাও বলছি, দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দেয় এবং এলাকাবাসী ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করে, তাহলে সবসময় তাদের পাশে থাকব। এলাকার  উন্নয়নের জন্য যা যা করার তার সবকিছুই করব। পদ্মার ভাঙন থেকে আমাদের এলাকাকে রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

এলাকাবাসীকে যেভাবেই হোক সন্ত্রাস ও মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করব। সবাইকে নিয়ে দোহার-নবাবগঞ্জকে একটি আধুনিক এলাকা হিসেবে গড়ে তুলব।