• বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মহররম ১৪৪০
BK
হজ ফ্লাইট বাতিল

সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিন

সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিন
সংরক্ষিত ছবি

সব ধরনের প্রস্তুতি সত্ত্বেও পূর্বনির্ধারিত তারিখে হজ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হজে যেতে পারছেন না লাখো মুসল্লি। দৈনিক বাংলাদেশের খবরের ‘হজ ফ্লাইট বাতিল অব্যাহত’ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১১টি ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর ফলে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার হজযাত্রী। অথচ ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, ফ্লাইট বাতিলের তথ্য তাদের জানা নেই।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাড়িভাড়া ও ভিসা অনুমোদনের আগেই টিকেট কিনতে বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া হজ ফ্লাইট শুরুর প্রায় দুই মাস আগে থেকেই হজের টিকেট বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু বেসরকারি এজেন্সিগুলোকে অবহিত করা সত্ত্বেও তারা সময়মতো টিকেট সংগ্রহ করেনি। এখনো অবিক্রীত রয়েছে পাঁচ হাজারেরও বেশি টিকেট। ফলে হজযাত্রী সঙ্কটের পরিপ্রেক্ষিতে একের পর এক বাতিল হচ্ছে হজ ফ্লাইট। অথচ আমরা দেখে আসছি যে, প্রতিবছরই হজ মৌসুমে কোনো না কোনো কারণে বিড়ম্বনার শিকার হন হজযাত্রীরা। আর প্রতিবছরের দেখা দেওয়া সমস্যা থেকে উত্তরণে পরবর্তী সময়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যত তা কোনো কাজে আসে না। বাতিল হয়ে যাওয়া হজ ফ্লাইটগুলোর মধ্যে প্রায় সবই বাংলাদেশ বিমানের। কিছু রয়েছে সৌদি এয়ারলাইনসের। এর ফলে হজযাত্রী পরিবহনের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হবে, এটাই স্বাভাবিক।

মূলত মুসল্লিদের থাকার জন্য সৌদিতে বাড়িভাড়া ও ভিসা অনুমোদনের আগেই টিকেট কিনতে বলায় এ ধরনের অসুবিধা দেখা দিয়েছে বলেই আমরা মনে করি। কেননা, গত বছরও হজের মৌসুমে আমরা দেখেছি, সৌদি দূতাবাস থেকে আবেদনকৃত ভিসা সময়মতো না দেওয়ায় হজ এজেন্সিগুলো ফ্লাইটের টিকেট সংগ্রহ করতে পারেনি। সুতরাং যাত্রী সঙ্কটে একের পর এক হজ ফ্লাইট বাতিল করা ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর থাকে না। কিন্তু আমরা বিস্মিত হয়েছি এ তথ্য অনেক দেরিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হতে দেখে। হজের আর মাত্র ১১/১২ দিন বাকি। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন হজযাত্রীর মধ্যে ৮১ হাজার ৭৮৩ জন সৌদিতে পৌঁছেছেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য হজ একটি আবেগমথিত বিষয়। এমতাবস্থায় ধর্ম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে হজ ফ্লাইট বাতিলের নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানপূর্বক যথাযথ পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করা আবশ্যক। হজ ফ্লাইট বাতিলের বর্তমান সঙ্কট সমাধানে উপর্যুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে হজযাত্রীদের গন্তব্য নিশ্চিত করা হবে, এটাই আমাদের আশা।