• মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
BK
ঢাকার গণপরিবহন

নৈরাজ্য বন্ধে কাজ করুন

নৈরাজ্য বন্ধে কাজ করুন
সংরক্ষিত ছবি

সম্প্রতি রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের বিক্ষোভ, আন্দোলনের পর শুরু হওয়া ট্রাফিক সপ্তাহে কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে এসেছে ঢাকার গণপরিবহনের দীর্ঘদিনের নৈরাজ্যের কথকতা। মোটা দাগে তা হলো— দুই-তৃতীয়াংশ বাসের নেই রুট পারমিট, অর্ধেক চালকেরই নেই বৈধ লাইসেন্স। দৈনিক বাংলাদেশের খবরের ‘ঢাকার পরিবহনের নৈরাজ্য’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে। চালকের বৈধ লাইসেন্স এবং যানবাহনের নিবন্ধন ও রুট পারমিট না থাকায় এখন দেখা দিয়েছে পরিবহন সঙ্কট। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অরাজকতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণেই পরিবহন খাতের এই ভগ্নদশা আজ নগরবাসীর সামনে উন্মোচিত হলো।

যদিও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে সড়ক-মহাসড়কে পুলিশের কঠোর অবস্থানের নামে হয়রানি এবং কারণে-অকারণে মামলা দেওয়ার আতঙ্কে রাস্তায় গাড়ি নামাচ্ছে না পরিবহন মালিকরা। তবে তাদের এ অভিযোগ মানতে নারাজ পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও ট্রাফিক বিভাগ। তাদের মতে, দেশের পরিবহন খাতের দীর্ঘ দিনের নৈরাজ্য ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনার বিপরীতে আইনের প্রয়োগ কঠোর হতেই ধসে পড়েছে এই খাতটি। ফলে রাজধানীতে নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচলে ঘটছে বিঘ্ন, বাড়ছে ভোগান্তি। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমাদেরও প্রশ্ন— এতদিন তাহলে পুলিশের নাকের ডগায় কীভাবে চলাচল করল বিপুলসংখ্যক অবৈধ গণপরিবহন ও তাদের চালক? তবে কি পরিবহন মালিক সমিতি সরকারের থেকেও ক্ষমতাবান? তারা কি সকল আইনের ঊর্ধ্বে? এ থেকে বেরিয়ে আসে ট্রাফিক বিভাগেরও দুর্নীতি। এর সমাধান এবার হবে কি?

রাজধানী ঢাকার গণপরিবহনগুলো দীঘদিন ধরে কোনো নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছামতো চলছে। সেবার নামে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। বর্তমানে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিরাপদ সড়কের দাবি। কিন্তু কথা হচ্ছে, এই বিশৃঙ্খল পরিবহন খাতটিকে কোনো নিয়মকানুন ও আইনের আওতায় না আনা গেলে যাত্রীদের কল্যাণ আগেও যেমন উপেক্ষিত ছিল, এখনো তার ভোগান্তি বাড়বে। তবে গত ৬ আগস্ট সরকার নিরাপদ সড়ক ও যাত্রীকল্যাণ নিশ্চিত করতে ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ সংক্রান্ত খসড়া আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করেছে। বর্তমান এই আইনে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হলে চালকের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তে যদি প্রমাণিত হয়, এটি চালকের ইচ্ছাকৃত, তবে তার মৃত্যুদণ্ডেরও বিধান আইনে রয়েছে। উপরন্তু চালকদের ক্ষেত্রে বয়সসীমার সঙ্গে লেখাপড়ার বিষয়টিসহ উন্নত বিশ্বের মতো তাদের পয়েন্ট কাটার ব্যবস্থাও আইনে যুক্ত করা হয়েছে। এখন দেশবাসী দেখতে চায়, এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সড়কে আইন মানার ক্ষেত্রে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেছে। আমাদের ট্রাফিক বিভাগ সে পথে হাঁটবে তো? পরিবহনের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা রুখতে ট্রাফিক বিভাগেরও শুদ্ধি প্রয়োজন। ঢাকার গণপরিবহনের নৈরাজ্য বন্ধে এখন সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগেরই পরিশুদ্ধি, সচেতনতা ও ভূমিকা রাখা জরুরি হয়ে উঠেছে।