• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ২৪ সফর ১৪৩৯
BK

গণহত্যার তদন্তে মিয়ানমার সহযোগিতা করবে না

গণহত্যার তদন্তে মিয়ানমার সহযোগিতা করবে না
সংরক্ষিত ছবি

রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তদন্তে সহযোগিতা করবে না মিয়ানমার। পাশাপাশি আইসিসির এ ধরনের উদ্যোগ ‘ভবিষ্যতের জন্য খারাপ উদাহরণ’ সৃষ্টি করবে বলে স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার অং সান সু চির দেওয়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে গতকাল শুক্রবার নেইপিডোতে উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর বৈঠকে ‘হটলাইন’ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রোহিঙ্গা বিতাড়নের প্রশ্নে আইসিসির মামলা পরিচালনার এখতিয়ার আছে কি না- তা জানতে চেয়ে এক প্রসিকিউটরের করা আবেদনকে সারবত্তাহীন আখ্যায়িত করেছে মিয়ানমার। আইসিসির প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেবে না জানিয়ে দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির সই করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও আইসিসি মিয়ানমারকে বিচারের আওতায় আনতে চাইলে তা ভবিষ্যতের জন্য খারাপ উদাহরণ তৈরি করবে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, রোম ঘোষণায় স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়ায় তদন্ত চালানোর আবেদনকারীর আহ্বানে সাড়া দিতে বাধ্য নয় মিয়ানমার। সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও আইসিসি মিয়ানমারকে বিচারের আওতায় আনতে চাইলে তা সংস্থাটির বিধি লঙ্ঘন হিসেবে পরিগণিত হবে। এ ছাড়া আইসিসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দেশটি।

এর আগে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন তদন্তে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কাছে মতামত জানতে আইসিসির পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সেই চিঠির জবাব দিয়েছে। তদন্ত চালানোর আবেদনকারী মনে করেন, যেহেতু রোহিঙ্গা বিতাড়নের ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশের ভৌগোলিক স্বার্থ জড়িত, সেহেতু মিয়ানমার সদস্য রাষ্ট্র না হওয়ার অজুহাতে পার পেয়ে যেতে পারে না। এ ছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের পক্ষ থেকে কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হলে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযুক্ত দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

এদিকে শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক জেনারেল মিন্ত সোয়ে, স্টেট কাউন্সিলরের দফতরের মন্ত্রী চ তিন্ত সোয়ে ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী উইন মিয়াত আয়ের সঙ্গে নেইপিডোতে বৈঠক করেছেন। গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধিদল মিয়ানমার পৌঁছে। এ দলে পররাষ্ট্র সচিব ছাড়াও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরাও রয়েছেন।