• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ২৪ সফর ১৪৩৯
BK

বন্ধু তুই লোকাল বাস!

বন্ধু তুই লোকাল বাস!
প্রতীকী ছবি

লোকাল বাস এখন এক আতঙ্কের নাম! ঠিক তেমনি কিছু হারামি বন্ধুর জ্বালায় সবসময় আতঙ্কে থাকতাম। সেই বন্ধুদের মধ্যে সুমন ছিল অন্যতম। সব সময় প্রেমপত্র লিখে দেওয়ার জন্য পেছনে টই টই করে ঘুরত। একজন মানুষ কয়বার প্রেমে পড়ে? তার কোনো প্রেমই এক মাসের বেশি টিকত না। প্রেম ছুটে যেত আবার প্রেমে পড়ত। আবার চিঠি লিখে দেওয়ার জন্য পেছনে ঘুরত। তবে এ কাহিনী বেশ অনেক বছর আগের কথা। এখন অবশ্য চিঠি নেই বললেই চলে। এখন ঘুরে মেসেজ লিখে দেওয়ার জন্য। আমি ওর থেকে পালিয়ে থাকি।

আরেক আতঙ্কের নাম ছিল রবিন। এই হারামজাদা শুধু টাকা ধার চাইত। বেশ কয়েকবার হাত-পা ধরে মন গলিয়ে টাকা নিয়ে চিরঋণী হয়ে থেকেছে। এখন আর হাত-পা ধরার সুযোগ দিই না। তাকে দেখা মাত্র আমি দু’শ কিলোমিটার স্পিডে দৌড়ে পালিয়ে যাই!

সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক ছিল মুরাদকে নিয়ে। সারা দিন শুধু খাই খাই। দেখলেই ‘দোস্ত কিছু খাওয়া’। লাজ লজ্জা কিছু ছিল না এই ব্যাটার। অনেকের সামনেই খাওয়ানোর কথা বলে বসত। ওর লজ্জা না থাকলেও আমার লজ্জা ছিল। তাই ফেঁসে গিয়ে ওর জন্য অনেক টাকা খসাতে হতো! এখন ও যে রাস্তা দিয়ে চলে আমি সেই রাস্তা দিয়ে চলা দূরে থাক! সেই এলাকা দিয়েও পা মাড়াই না।

আগে লোকাল বাস ছিল জনগণের প্রশান্তির কিছু। আহ! অল্প খরচায় গন্তব্যে পৌঁছে গিয়ে মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলত। এখন লোকাল বাস মানুষের মনে আতঙ্কের কিছু হয়ে উঠেছে। আগে আমার এই বন্ধুদের ভালো লাগলেও এখন আমি এদের থেকে দূরে দূরে থাকি। এদের দেখলে আমার কেমন জানি লোকাল বাসের মতো আতঙ্ক কাজ করে।