• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১২ মহররম ১৪৪০
BK

অনলাইনে কোরবানির পশুর হাট, মিলছে কসাইও

অনলাইনে কোরবানির পশুর হাট, মিলছে কসাইও
সংরক্ষিত ছবি

বছর ঘুরে আবার চলে এসেছে কোরবানির ঈদ। তাই ধীরে ধীরে আলোচনায় আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাটের বিষয়টিও। তাই মাঠে বসা হাটের ইজারাদারদের পাশাপাশি নড়ে চড়ে বসেছেন অনলাইন হাটের ইজারাদাররাও। কারণ, প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে যারা নিজেদের জীবনকে প্রভাবিত করে এগিয়ে চলছেন তাদের মধ্যে অনেকেই অনলাইনের ওপর নির্ভরশীল। অনেকেই এখন হাটে গিয়ে জনজট, দালালদের খপ্পর, বাজার অস্থিরতা, ধুলা-বালি, কাদা কিংবা গরুর গুতোর ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকতে অনলাইনেই গরু কিনে ফেলছেন। আর এতে গরু টানাটানি করে বাড়ি আনার ঝামেলাও থাকছে না ক্রেতাদের।

গরু কেনার ঝামেলা তো অনলাইনে শেষ করা গেল। এবার কোরবানির দিনে কাজ করার জন্য কসাই খোঁজার ঝামেলা। না সেই ঝামেলাও থাকছে না, কারণ পশুর হাটের পাশাপাশি অনলাইনে কসাইও সরবরাহ করছে অনেক প্রতিষ্ঠান। ক্রেতারা চাইলেই আগে থেকে বুকিং দিয়ে রাখলেই ঈদের দিন পৌঁছে যাবে কসাই। অনলাইনে পশুর হাট এবং কসাই সংক্রান্ত এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন এম রেজাউল করিম-

পল্লী কোরবানির হাট

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ই-কমার্স উদ্যোগের একটি পাইলট প্রকল্প পল্লী কোরবানির হাট। অনলাইনে palliqurbanirhaat.com এই ঠিকানায় গিয়ে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সদস্যদের থেকে সংগৃহীত গরু কেনা যাবে। এই বিষয়ে এই প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর গণিউল জাদিদ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ই-কমার্স উদ্যোগ পল্লীহাটের একটি অংশ হচ্ছে এই পল্লী কোরবানির হাট। আমরা ইতোমধ্যেই আমাদের ৪০ হাজার পল্লী সমিতির সদস্যকে নোটিশের মাধ্যমে এই হাটের কথা জানিয়ে দিয়েছি এবং তাদের কাছ থেকে আমরা অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। আমাদের কাছে ইতোমধ্যেই বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রায় ৪০০ গরুর বিস্তারিত চলে এসেছে, যা গতকাল শনিবার রাত থেকেই আমাদের সাইটে আপলোড করা হয়। আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের সেল শুরু হবে। ক্রেতারা চাইলে এখান থেকে তাদের পছন্দের গরু কিনে নিতে পারবেন।

বিক্রয় ডট কম

বিগত বছরগুলোর মতো এবারো অনলাইনে পশু কেনা-বেচার সুযোগ রাখছে অনলাইনে বেচাকেনার প্ল্যাটফর্ম বিক্রয় ডট কম। এ বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ইতোমধ্যেই হাজার খানেক গরুর তথ্য বিক্রয় ডট কমে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির বিপণন ব্যবস্থাপক ঈশিতা শারমিন। বাংলাদেশের খবরকে তিনি বলেন, ঈদুল আজহায় আগ্রহী ক্রেতারা Bikroy.com এ কোরবানির গবাদিপশুর বিশাল সমাহার থেকে তাদের পছন্দের পশুটি বাছাই করার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে করে তারা কোরবানির নিয়মিত হাটের ঝক্কি ঝামেলা থেকেও মুক্তি পাচ্ছেন। আমাদের এই উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মে ইতোমধ্যেই বিক্রেতারা তাদের পশুর তথ্য দিয়ে ছবি আপলোড করে বিজ্ঞাপন দেওয়া শুরু করে ফেলেছেন।

ঈশিতা আরো বলেন, বিক্রেতা ও পাইকার ছাড়াও কিছু সরবরাহকারীর কাছ থেকে গরু সংগ্রহ করে বিক্রয় ডটকমের নিজ উদ্যোগে বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। ওয়েবসাইটে ‘বিক্রয় ডিল’ নামের একটা অপশন আছে যেখান থেকে আমাদের সংগ্রহ করা গরুগুলো ক্রেতারা কিনতে পারবেন।

কেনার আগে দেখার কোনো সুযোগ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের বিক্রয় ডিলসে যে গরুগুলো আছে ক্রেতারা চাইলে সেই গরুগুলো দেখতে পারেন। আর ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপনদাতাদের গরুর ছবির সঙ্গে তাদের মোবাইল নম্বর দেওয়া আছে। সেখানে যোগাযোগ করতে চাইলে ক্রেতারা দেখে আসতে পারবেন।

বেঙ্গল মিট

বিগত বছরগুলোর মতো এবারো অনলাইনে গরু বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করছে বেঙ্গল মিট। কোরবানির পশু কেনার পাশাপাশি গ্রাহকদের মাংস প্রসেসিং ও হোম ডেলিভারির সুবিধাও দেওয়া হবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে। bengalmeat.com/qurbani. এই ঠিকানা থেকে গ্রাহকরা সম্পূর্ণ স্টেরয়েড ও রোগমুক্ত কোরবানির পশু ক্রয় করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন কোরবানি প্রজেক্ট ইন-চার্জ সাইফুল আলম।

তিনি বলেন, ওয়েবসাইটের ল্যান্ডিং পেজটিতে ক্রেতারা কোরবানির পশু বাছাইয়ের পাশাপাশি পাবেন পশু ক্রয়ের সহজ নিয়মাবলি। এ ছাড়া সাধারণ কোরবানির হাটে নিজে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করে কোরবানির পশু ক্রয় করার ঝামেলা কমাতে এই সাইটেই আছে পশুর জাত, বয়স ও ওজন সংক্রান্ত সব প্রয়োজনীয় তথ্য এবং খাদ্যতালিকা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংবলিত বিস্তারিত তথ্য। এসবের পাশাপাশি সঠিক ধারণা পাওয়ার জন্য পশুগুলোকে উচ্চতা স্কেলের সামনে দাঁড় করিয়ে পশুর ছবি তোলা হয়েছে ও সঙ্গে দেওয়া হয়েছে পশুর ছোট ভিডিও ক্লিপ।

সাইফুল আরো জানান- ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট মহানগরের অধিবাসীরা এই অনলাইন কোরবানির হাটের মাধ্যমে পছন্দের কোরবানির গরু ডেলিভারি পাবেন বাড়িতেই। আর পরিপূর্ণ কোরবানি সেবা, (যেখানে মাংসের প্রসেসিং করবে বেঙ্গল মিট), উপভোগ করতে পারবেন শুধু ঢাকা মহানগরীর অধিবাসীরা। এ বছর ক্রেতাদের জন্য আছে প্রথমবারের এত অনলাইন পেমেন্টের সুবিধা, যার মাধ্যমে প্রবাসীরাও পারবেন পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে কোরবানির সেবা অর্ডার করতে এবং ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম মহানগরীর যেকোনো ঠিকানায় পৌঁছে দিতে।

বুচার শপ

 ফেসবুকে ‘বুচার শপ-কসাই সাপ্লাই’ নামে একটি পেজ যাছে যারা বিগত ৩ বছর যাবৎ কসাই সরবরাহ করে আসছেন। পেজটির পরিচালক ও বুচার শপের উদ্যোক্তা সোলায়মান হোসেন বাংলাদেশের খবরকে বলেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে নানা ধরনের শ্রমিকরা কসাই বনে যায়। আর তাদের অভিজ্ঞতা না থাকার ফলে অনেক সময়ই কোরবানির গরুর মাংসটা ঠিকমতো পাওয়া যায় না। এতে করে গরুর ক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন। একই সঙ্গে কোরবানির ঈদের পরবর্তী সময়ে ব্যবসা কম থাকায় অনেকটা বেকারভাবেই দিন কাটান কসাইরা। এতে করে তাদের আয়-রোজগারও কমে আসে। তাই উভয় পক্ষের কথা চিন্তা করেই আমাদের এই কার্যক্রমের শুরু।

 সোলায়মান আরো বলেন, আমাদের এখানে বুকিং দিলে, গরুর দাম অনুযায়ী হাজারে ২০০ টাকা করে চার্জ দিতে হয় কসাইদের। আর এই টাকা পুরোটাই কসাইরা পায়। আমরা সেখান থেকে বা গরুর মালিকের কাছ থেকে কোনো ধরনের কোনো সার্ভিস চার্জ নিই না।

এই বছরের বুকিং নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের বুকিং শুরু হয়েছে ১০ তারিখ। মাত্র দুই দিনে আমরা ১৫টিরও বেশি বুকিং পেয়েছি। গত বছর প্রায় ১০০টিরও বেশি গরু জবাই দিতে এখান থেকে কসাই সরবরাহ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।