• মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
BK

যেকোনো কোষ থেকেই জন্ম নেবে সন্তান!

যেকোনো কোষ থেকেই জন্ম নেবে সন্তান!
ছবি : ইন্টারনেট

প্রত্যেক জীবেরই বংশবিস্তার হয় প্রজননের মাধ্যমে। কোনো জীবের ক্ষেত্রে এই প্রজনন হয় যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে, আবার কোনো জীবের ক্ষেত্রে হয় অঙ্গজ প্রজনন। তবে প্রায় সব প্রাণীর ক্ষেত্রেই সাধারণত যৌন প্রজনন হয়ে থাকে। সেই প্রজনন ঘটে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মাধ্যমে। যৌন ক্রিয়ার সময় শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হয় এবং নিষেকের পর ভ্রূণ গঠিত হয়। সেই ভ্রূণ পড়ে পূর্ণাঙ্গ শিশুতে পরিণত হয়।

তবে এমন অনেক দম্পতি আছেন যাদের সন্তান হয় না। অনেক সময় দেখা যায় পুরুষের শুক্রাণুতে সমস্যা রয়েছে। আবার অনেক সময় নারীর ডিম্বাণুতেও সমস্যা দেখা দেয়। আবার বয়স হয়ে গেলে নারীরা সন্তান উৎপাদনে অক্ষম হয়ে যান, কারণ তখন তাদের ডিম্বাণু তৈরি হয় না। আর এ কারণেই যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো দম্পতির সন্তান জন্ম না নিলে চিন্তায় পড়ে যান তারা। আর কখনো বাবা-মা না হতে পারার সংশয়ে কাটে তাদের দিন।

তবে সন্তান না হওয়া দম্পতিদের জন্য সুখবর দিচ্ছে এক গবেষণা। জাপানি বিজ্ঞানী হাইয়াশি ইঁদুরের ত্বক কোষ থেকে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তা থেকে ইঁদুরের সন্তানের জন্ম হয়েছে। আর তাতেই আশা করা হচ্ছে, হয়তো অদূর ভবিষ্যতে মানুষের ক্ষেত্রেও এটি সম্ভব হবে।

এর আগে জাপানের কয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়ামানাকা গবেষণা করে বের করেছিলেন কীভাবে যেকোনো কোষকে স্টেম কোষে রূপান্তরিত করা যায়। এ আবিষ্কারের জন্য তিনি ২০১২ সালে নোবেল পুরস্কার পান। তার সেই গবেষণা পদ্ধতিটির মূল কাঠামো অনুসরণ করেন হাইয়াশি।

গবেষণাগারে হাইয়াশি একটি পূর্ণবয়স্ক ইঁদুরের লেজ থেকে কোষ নেন। তারপর সেই কোষকে রাসায়নিক দ্রব্যের সঙ্গে মেশান। সেই রাসায়নিক দ্রব্যের সঙ্গে থাকে চার ধরনের জিন। এগুলো ওই কোষকে ডিম্বাণু তৈরিতে সক্ষম স্টেম কোষে পরিণত করে। এরপর ডিম্বাণু তৈরিতে প্রস্তুত সেই স্টেম কোষকে জীবিত ইঁদুরের ডিম্বাশয়ে প্রবেশ করান। পরে আবার ইঁদুরের ডিম্বাশয়ের কোষ নিয়ে তা সেই স্টেম কোষটির সঙ্গে রাখেন।

পাঁচ সপ্তাহে ডিম্বাণুটি পরিণত হলে এটিকে একটি স্বাভাবিক শুক্রাণুর সঙ্গে মিলিত করেন। উৎপন্ন ভ্রূণ একটি ইঁদুরের দেহে প্রবেশ করান। এই গবেষণায় আটটি ইঁদুর টিকে থাকে। পরবর্তী সময়ে এই ইঁদুরগুলো নিজেরা বংশবৃদ্ধি করে।

গবেষকদের দাবি, নতুন এই পদ্ধতিতে বাবা-মা উভয়েই সন্তানের জৈবিক অভিভাবক হতে পারেন। এতে নারীদের কৃত্রিমভাবে হরমোন দেওয়া হয় যেন তিনি পরিমাণে ডিম্বাণু তৈরি করেন।

তবে ইঁদুরের ক্ষেত্রে এটি করা সহজ হলেও মানুষের ক্ষেত্রে এত সহজ নয়। কারণ ইঁদুরের ডিম্বাণু পরিণত হতে সময় লাগে পাঁচ দিন। আর মানুষের ডিম্বাণু পরিণত হতে সময় লাগে ৩০ দিন। এতদিন ধরে ডিম্বাণুটিকে ঠিক রাখা একটা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন গবেষকরা।

গবেষণার আরেকটি মজার দিক হলো, এতে একজন মানুষের কোষ থেকেই শুক্রাণু ও ডিম্বাণু তৈরি করে সন্তান তৈরি করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেই সন্তানের মা ও বাবা একজনই হবেন।