• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১০ মহররম ১৪৪০
BK
মানবতাবিরোধী অপরাধ

পটুয়াখালীর পাঁচ রাজাকারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ

পটুয়াখালীর পাঁচ রাজাকারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ
সংরক্ষিত ছবি

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে পটুয়াখালীর ইসহাক শিকদারসহ পাঁচ রাজাকারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একাত্তরে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটক রেখে নির্যাতন, ১৭ জনকে হত্যার ঘটনায় এ মৃত্যদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডিত অন্য চার আসামি হলেন আবদুল গণি হাওলাদার, আবদুল আওয়াল ওরফে মৌলভী আওয়াল, আবদুস সাত্তার  পেদা ও সোলায়মান মৃধা। রায়ে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে সাজা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। নিয়ম অনুযায়ী এ রায়ের এক মাসের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন আসামিরা।

গতকাল সোমবার বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আমীর হোসেন ও বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার। রায়টি ১৫৯ পৃষ্ঠার। এটি ট্রাইব্যুনালের ৩৪তম রায়। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে এ মামলায় রায় পড়া শুরু হয়। রায়ের প্রথম অংশ পড়েন বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার, পরের অংশ পড়েন মো. আমীর হোসেন এবং রায়ের আদেশের অংশ পড়েন চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম। রায় ঘোষণার সময় পাঁচ আসামিই কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

রায়ে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা দুটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। পটুয়াখালীর ইটাবাড়িয়া গ্রামের অন্তত ১৫ নারীকে ধর্ষণের ঘটনাতেও একই সাজার রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, ‘আসামিরা ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যা তাজা একটি বুলেটের চেয়েও ভয়ঙ্কর এবং শক্তিশালী। যিনি বা যারা এর শিকার হয়েছেন, সারা জীবন তাদের এই ভয়ঙ্কর যন্ত্রণা বহন করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব মা-বোন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, প্রকৃতপক্ষে তারা আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের নায়ক (ওয়ার হিরো)। সময় এসেছে তাদের ওয়ার হিরো হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার।’

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মামলুম, মোখলেছুর রহমান বাদল, সাবিনা ইয়াছমিন ও রেজিয়া সুলতানা। আসামিপক্ষে ছিলেন আবদুস সাত্তার পালোয়ান।

গত ৩০ মে মামলার যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। গত রোববার ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য পর দিন তারিখ ধার্য করেন।

২০১৪ সালের ২৫ নভেম্বর এ মামলার তদন্ত শুরু হয়। এক বছর ৫ মাস ৯ দিন তদন্ত করে ৫০৮ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেন তদন্ত কর্মকর্তা সত্যরঞ্জন রায়। ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ৫ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর ১ অক্টোবর তাদের গ্রেফতার করা হয়। ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ১৫ নারীকে ধর্ষণ, আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ৮ জন বীরাঙ্গনা জীবিত আছেন।

২০১৭ সালের ৮ মার্চ পটুয়াখালীর এ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।  একাত্তরে পাঁচ আসামি মুসলিম লীগ সমর্থক ছিলেন। এরপর তারা বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন।