• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৪ মহররম ১৪৪০
BK

বসছে আরো সাড়ে আট লাখ প্রি-পেমেন্ট মিটার

একনেকে ৯ প্রকল্প অনুমোদন
বসছে আরো সাড়ে আট লাখ প্রি-পেমেন্ট মিটার
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে বসছে বিদ্যুতের আরো সাড়ে ৮ লাখ প্রি-পেমেন্ট মিটার। এর ফলে  বকেয়া বিলের ঝামেলামুক্ত হবে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডিপিডিসি)। গ্রাহকরাও নিস্তার পাবেন বিদ্যুতের ভৌতিক বিল থেকে। এ সংক্রান্ত এ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রী জানান, একনেক সভায় মোট ৯টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ব্যয়ের ২ হাজার ৩৩৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা দেওয়া হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজ তহবিল থেকে ব্যয় করবে ৫০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। বাকি ৬৯৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা প্রকল্প সহায়তা হিসেবে বিদেশি উৎস থেকে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় ৮ লাখ ৫০ হাজার স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৬৫৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এ প্রকল্পে ৬০৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা দেবে সরকার। অবশিষ্ট ৫০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয় হবে ডিপিডিসির তহবিল থেকে। ঢাকার রমনা, জিগাতলা, ধানমন্ডি, আদাবর, পরিবাগ, কাকরাইল, বনশ্রী, মগবাজার, শ্যামলী, কামরাঙ্গীরচর, বাংলাবাজার, নারিন্দা, পোস্তগোলা ও ডেমরা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা, শীতলক্ষ্যা ও সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুতের উৎপাদন ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী আরো বলন, চলতি বছরের অর্ধেক পার হতেই উৎপাদন সক্ষমতা ১৯ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। চলতি বছর শেষে ২০ হাজার মেগাওয়াটের উপরে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। তবে পোস্ট পেইড মিটারে প্রচুর সিস্টেম লস হয়। বিদ্যুৎ বিলও বকেয়া থাকে। এ অবস্থার অবসানে প্রি-পেমেন্ট মিটার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিজমি রক্ষায় নতুন রাস্তা নির্মাণে নিরুৎসাহিত করেছেন বলে সাংবাদিকদের জানান আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, জাতীয় নগর দারিদ্র্য হ্রাসকরণ কর্মসূচি অনুমোদন দেওয়ার সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান। এ ছাড়া তিনি ৮২৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরে অনুমোদন দেওয়া কর্মসূচির নাম পরিবর্তন করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

একনেকে অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ভালুকা-গফরগাঁও-হোসেনপুর সড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পে ব্যয় হবে ২১৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার জেলা মহাসড়ক, করটিয়া-বাসাইল জেলা মহাসড়কের পাকুল্লা-দেলদুয়ার-এলাসিন জেলা মহাসড়কের দেলদুয়ার-এলাসিন অংশকে যথাযথমানে প্রশস্তকরণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে  ১৪০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ৯৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরে গাইবান্ধা-গোবিন্দগঞ্জ ভায়া নাকাইহাট জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এস্টাবলিশমেন্ট অব ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা। ১৫৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয় ধরে বাংলাদেশ পুলিশের ডাটা সেন্টারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার আওতাধীন মহানন্দা নদীর শেখ হাসিনা সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২৫৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।