• বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মহররম ১৪৪০
BK

ঘুমচক্রে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে ইন্টারনেট

ঘুমচক্রে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে ইন্টারনেট
প্রতীকী ছবি

তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিপ্লব বদলে দিয়েছে মানুষের অভ্যাস। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ইন্টারনেট। কারো কারো ক্ষেত্রে এই ইন্টারনেটই নির্ধারণ করে দিচ্ছে প্রয়োজনীয়তা-অপ্রয়োজনীয়তা। স্মার্টফোনে সার্বক্ষণিক এই সেবা মিললেও বেশিরভাগের বাসায় আছে ২৪ ঘণ্টার উচ্চগতির ইন্টারনেট। উচ্চগতির এই ইন্টারনেট খুব সহজেই সারা বিশ্বকে এনে দিয়েছে গ্রাহকের হাতের মুঠোয়। তথ্যের বিশাল উৎসের পাশাপাশি বিনোদন, লেনদেনসহ অনেক কাজই হয়ে যাচ্ছে ঘরে বসেই। তবে উচ্চগতির এই ইন্টারনেট সংযোগের কিছু কুফলও রয়েছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট আধুনিক যুগের জনজীবনে ঘুমের জন্য ক্ষতিকারক। নিদ্রাহীনতা এবং কম ঘুমের সঙ্গে রয়েছে এর নিবিড় সম্পর্ক।

জার্নাল অব ইকোনমিক বিহেভিওর অ্যান্ড অরগানাইজেশন নামের এক গবেষণাপত্রে ঘুম এবং উচ্চগতির ইন্টারনেটের মধ্যকার সম্পর্ক ও প্রভাব নির্ণয় করতে জার্মান এক দল গবেষকের করা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

তাতে দাবি করা হয়েছে, ঠিক যখন ঘুমুতে যাওয়ার সময় তখনই স্মার্টফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন অনেকে। ফলে অপর্যাপ্ত ঘুম খুবই সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকদের দাবি, স্মার্টফোনের মতো ডিভাইসগুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট পাওয়া গেলে তাতে আসক্ত হয়ে উঠছেন অনেকে। ফলে ভেঙে যাচ্ছে তাদের ঘুমের চক্র। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত থাকেন তারা অন্যদের তুলনায় গড়ে ২৫ মিনিট বিলম্বে ঘুমিয়ে থাকেন। শুধু তাই নয়, তারা দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমাতেও পারেন না। ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসন্তুষ্টি থেকে যায়।

এ বিষয়ে গবেষক দলের সদস্য বক্কোনি ইউনিভার্সিটির জনসংখ্যা তত্ত্বের অধ্যাপক ফ্রান্সেস্কো বিল্লারি বলেন, মানুষ ডিজিটাল দুনিয়ার প্রলোভনে বিছানায় যেতে বিলম্ব করছে। আবার কেউ বিছানায় নিয়ে যাচ্ছে সেই প্রযুক্তি। তিনি জানান, তরুণরাই রাতে ঘুমের আগে ইন্টারনেট সুবিধাযুক্ত প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহার করে থাকে।

এজন্য গবেষকরা ইন্টারনেট আসক্তির ভিত্তিতে টিনেজারদের ঘুমের আচরণের ওপর গবেষণা করার আহ্বান জানাচ্ছেন। ডিজিটাল দুনিয়ার ব্যস্ততা যেমন বাড়ছে তেমনি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতেও মানুষকে রাখতে হচ্ছে নানান দুনিয়ার খবর। আর এজন্য বড় সহায়তা দিচ্ছে ইন্টারনেট। কিন্তু ইন্টারনেটের কাছে যে স্বাস্থ্যের সতর্কতা রাখতে হবে সেট আশা ছিল না। তাই গবেষকরা বলছেন, প্রযুক্তিপণ্যের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকির তথ্য যত বেশি পাওয়া যাবে তত সহজে সচেতনতার জন্য, সাবধানতার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।