• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ২৪ সফর ১৪৩৯
BK

বিকাশ ঘটুক শিশুর সৃজনশীলতার

বিকাশ ঘটুক শিশুর সৃজনশীলতার
ছবি : ইন্টারনেট

সৃজনশীলতা একটি মানুষের সৃষ্টিশীল কাজের পেছনে চালিকা হিসেবে কাজ করে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ব্যক্তির সৃজনশীলতা তাকে অন্যের থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য প্রদান করে। প্রতিটি শিশুর মধ্যেও তেমনি সৃজনশীলতা সুপ্ত রয়েছে। কিন্তু এর বিকাশ নির্ভর করে তার আশপাশের পরিবেশ এবং পরিবারের ওপর। তাই শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশে পরিবারকে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, কর্মদক্ষতা ও সৃজনশীলতা প্রতিটি শিশুর ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। দারুণ সৃজনশীল একটি শিশু সমানভাবে কর্মদক্ষ নাও হতে পারে। কিন্তু সব শিশুই তাদের আচরণের মধ্য দিয়ে সৃজনশীলতা এবং বুদ্ধিমত্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে থাকে। তাই শিশুকে যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমেই তার সৃজনশীলতার উন্মেষ ঘটানোর চেষ্টা করতে হবে। আসুন, জেনে নিই শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশে করণীয় বিষয়গুলো কী কী- 

শিশুর নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা প্রকাশের সুযোগ দিন

শিশুর যে কোনো কাজে তার ভাবনা প্রকাশের যথেষ্ট সুযোগ দিতে হবে। সৃজনশীল কোনো কাজের বেলায় তার সামনে কোনো মডেল উপস্থাপন করা ঠিক নয়। তাহলে তার নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা প্রকাশের সুযোগ সংকীর্ণ হয়ে যাবে। একটা ছবি সামনে দিয়ে যদি বলা হয় এর মতো করে একটা ছবি আঁকো, তাহলে তার কল্পনার জগতে যে চিত্রপট রয়েছে, তা প্রকাশের সুযোগ পাবে না। 

প্রযুক্তির প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি দূর করুন

বর্তমান সময়ে শিশুরা বেড়েই ওঠে স্মার্টফোনে গেমস খেলে। তাছাড়া কম্পিউটার, ট্যাব, গেমস-প্যাড এগুলো তো রয়েছেই। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে এ জিনিসগুলোর প্রতি শিশুর আসক্তি অস্বাভাবিক কিছু নয়। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, একবছর বয়সী একটি শিশুও স্মার্ট ফোনের টাচ স্ক্রিনে আঙুল চালিয়ে ফোনের নানা অপশন বের করতে চেষ্টা করে। প্রযুক্তির বিষয়ে শিশুর আগ্রহ থাকবে এটি নিঃসন্দেহে ভালো দিক। তবে অতিরিক্ত প্রযুক্তি-আসক্তি শিশুর সৃজনশীলতার পক্ষে চরম ক্ষতির কারণ হতে পারে। এতে শিশুর সৃজনশীল চিন্তা-চেতনা বাধাপ্রাপ্ত হয়। একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে পড়ে। তাই শিশুর প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকের খেয়াল রাখতে হবে। তাকে ছবি আঁকা, খেলাধুলা, বিভিন্ন সংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ইত্যাদি বিষয়ের সঙ্গেও সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করুন।

সন্তানের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বোঝার চেষ্টা করুন

আপনার সন্তান তাকে বোঝার দায়িত্ব আপনার। শিশুকে প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দিয়ে আমরা তাকে বাড়তি মানসিক চাপের দিকে ঠেলে দিচ্ছি। প্রতিনিয়ত ক্লাসরুম থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রেই তাকে অন্যের চেয়ে ভালো করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এটি শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশে বিরাট অন্তরায়। কেননা যে কাজ শিশু তার আগ্রহ আর আনন্দের সঙ্গে করতে না পারে, সেখানে তার সৃজনশীলতা প্রকাশের প্রশ্নই আসে না। তাই সন্তানকে প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে না দিয়ে তার বৈশিষ্ট্য বোঝার চেষ্টা করুন এবং সে অনুযায়ী তাকে বিভিন্ন কাজে উৎসাহিত করুন। 

নিজেদের প্রত্যাশার বোঝা সন্তানের ওপর চাপাবেন না

অভিভাবকদের মধ্যে সবসময় সন্তানকে নিয়ে অতি উচ্চাশা কাজ করে। সন্তান বড় হয়ে কী হবে, সে স্বপ্ন বুনতে থাকেন নিজেরাই। কখনো নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতে চান সন্তানকে দিয়ে। কিন্তু যাকে ঘিরে এত স্বপ্ন বুনছেন, সে সন্তানের ইচ্ছা, সামর্থ্য আর চাহিদা কোনোটার কথাই ভাবি না। প্রতিনিয়ত পাশের বাড়ির ছেলেটির সঙ্গে তুলনা চলতে থাকে। আর বাবা-মায়ের প্রত্যাশার চাপে পড়ে শিশুটি তার স্বতন্ত্রতা হারায়। অন্য কোনো বিষয়ে তার মেধা এবং সৃজনীশক্তি অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়।

সন্তানের খোঁজখবর রাখুন তবে নজরদারি নয়

শিশুর সব বিষয়ে অভিভাবক হিসেবে আপনি খেয়াল করবেন, খোঁজখবর রাখবেন তবে তা যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়ে যায়। শিশু যদি বুঝতে পারে আপনি তার সব বিষয়ে নজরদারি করছেন, তাহলে সে তার স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ থেকে বিরত থাকবে এবং সৃজনশীল কিছু করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

অতিরিক্ত পুরস্কার বা সমালোচনা সৃজনশীলতা বিকাশের অন্তরায়

শিশুকে ভালো কাজে উৎসাহিত করতে তার প্রশংসা করা প্রয়োজন, এতে সে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। তবে এই প্রশংসা মাত্রাতিরিক্ত হলে সে অতি উৎসাহিত হয়ে একই কাজ বার বার করতে চায়। এতে শিশুর প্রকৃত সৃজনশীলতা ব্যাহত হয়। আবার শিশুর কোনো ভুলে অতিরিক্ত সমালোচনা তার মন ভেঙে দেয়, আত্মবিশ্বাস কমে যায়। অতএব প্রশংসা এবং সমালোচনা দুটিই হওয়া চাই পরিমিত।