• বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মহররম ১৪৪০
BK

মায়েদের স্ট্রেচ মার্কের স্ট্রেস দূর করতে

মায়েদের স্ট্রেচ মার্কের স্ট্রেস দূর করতে
সংগৃহীত ছবি

ফারজানা বীথি

গর্ভকালীন মায়ের শরীরে স্ট্রেচ মার্ক একটি সাধারণ বিষয়। কেননা এ সময় শরীরের পরিবর্তন এবং ওজন বৃদ্ধির কারণে স্ট্রেচ মার্ক দেখা যায়। সাধারণত পেট, কোমর, ঘাড়ের ভাঁজে, হাত বা পায়ের ভাঁজে স্ট্রেচ মার্ক বা ত্বকে ফাটা দাগ দেখা যায়। এ ধরনের দাগগুলো সাধারণত লালচে বা সাদা হয়। তবে আশপাশের ত্বকের রঙ কালো হয়ে যায় যা দেখতে খারাপ দেখায়। আর এ দাগ প্রায় প্রতিটি গর্ভবতী মায়ের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ক্রিম পাওয়া যায় তবে হাতের কাছের কিছু ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করতে পারেন। গর্ভাবস্থায় কেমিক্যালযুক্ত ক্রিম ব্যবহার না করার জন্য অনেক ডাক্তারই পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কেননা এ ধরনের ক্রিমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মা-শিশুর বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে। তাই কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই দাগ দূর করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন ঘরোয়া কিছু উপকরণ।

অ্যালোভেরা জেল : ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী অ্যালোভেরা জেল। স্ট্রেচ মার্ক দূর করতে এটি বেশ ভালো কাজ করে। হাতের কাছে পাওয়াও যায় খুব সহজে। বাজার থেকে পাতা কিনে তার ভেতরের জেল বের করে দাগের ওপর লাগাতে পারেন। জেলটি দাগের ওপর লাগিয়ে দুই ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ত্বকের পুনর্গঠনে সাহায্য করে। প্রয়োজনে অ্যালোভেরা জেল সরাসরি কিনে নিতে পারেন।

আলু : আলুকে প্রাকৃতিক ব্লিচ বলা হয়। ত্বকের ওপর যে কোনো ধরনের দাগ দূর করতে এর জুড়ি নেই। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও আয়রন যা ত্বক উজ্জ্বল করে। আলু কেটে ফাটা দাগের ওপর ম্যাসাজ করুন। এর রস ভালোমতো লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন এবং ধুয়ে ফেলুন।

লেবু : লেবুর রসে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যাসিড, যা দাগ দূর করতে সাহায্য করে। একটি লেবু থেকে রস বের করে দাগে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন, তবে সরাসরি রস ব্যবহার করতে না চাইলে এর সঙ্গে শসার রস মিশিয়ে নিতে পারেন। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

অলিভ অয়েল : ফাটা দাগ দূর করতে অলিভ অয়েলের ব্যবহার অনেক পুরনো এবং কার্যকর। নিয়মিত ফাটা দাগে অলিভ অয়েল ব্যবহারে অল্প সময়েই দূর করা যাবে এই দাগ। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে দাগের ওপর অলিভ অয়েল লাগিয়ে শুয়ে পড়ুন। দেখবেন কিছুদিন পর দাগ হালকা হওয়া শুরু হয়েছে। গর্ভবতী মায়েরা যদি গর্ভধারণের শুরু থেকেই নিয়মিত পেটে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করেন, তাহলে স্ট্রেচ মার্ক পড়ার ভয় অনেকটা কমে যায়। অলিভ অয়েলের সঙ্গে চিনি, লেবুর রস মিশিয়ে স্ক্রাব বানিয়েও দাগের ওপর ব্যবহার করতে পারেন। স্ক্রাবটি দিয়ে প্রতিদিন ফাটা দাগের ওপর ম্যাসাজ করলেও দাগ মিলিয়ে যাবে সহজে।

নারিকেল তেল : স্ট্রেচ মার্কের দাগকে হালকা করতে ব্যাপকভাবে ব্যবহূত হয় নারিকেল তেল এবং এটি ত্বককে আর্দ্র হতেও সাহায্য করে।

ডিম : ডিমের সাদা অংশ প্রাকৃতিকভাবে দাগ দূর করে। দাগের ওপর ডিমের সাদা অংশ লাগিয়ে শুকাতে দিন। ভালো ফলাফলের জন্য প্রতিদিন তিনবার ফাটা স্থানের ওপর ডিমের সাদা অংশ ৫-১০ মিনিট ম্যাসাজ করুন। পদ্ধতিটি পালন করুন যতদিন দাগটি মিলিয়ে না যায়।

ত্বক পরিচর্যার প্রসাধনী : সাধারণভাবে ত্বক পরিষ্কারের জন্য ক্লিনজার, টোনার, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে থাকি। এ ধরনের প্রসাধন সামগ্রীগুলোতে গ্লাইকলিক অ্যাসিড রয়েছে যা ত্বকের ফাটা দাগ দূর করে।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করুন : শরীরের যে কোনো ক্ষয় পূরণের জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাসের বিকল্প নেই। আমাদের খাদ্যতালিকার এক একটি খাবার শরীরে একেক ধরনের কাজ করে। স্ট্রেচ মার্কের দাগ দূর করতে প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি, ই, জিংক সমৃদ্ধ খাবার রাখার চেষ্টা করুন। এ ছাড়া নানারকম ফল ও রঙিন শাকসবজি যেমন গাজর, শাক, সবুজ মটরশুটি ইত্যাদি রাখুন। প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণে প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন মাছ, ডিমের সাদা অংশ, দই, বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ ইত্যাদি রাখুন। বেশি করে পানি পান করুন। প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। কেননা শরীরের আর্দ্রতা হ্রাস পেলে এ ধরনের দাগ বেশি হয়। তাই শরীরের আর্দ্রতা যাতে বজায় থাকে, সেভাবে খাদ্যতালিকা প্রস্তুত করতে হবে। এগুলো শরীরের ফাটা দাগ নির্মূলে সহায়তা করবে।