• বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মহররম ১৪৪০
BK

গ্রামীণফোনে গ্রাহকের ব্যয় বাড়লেও লাভবান শেয়ারহোল্ডাররা

গ্রামীণফোনে গ্রাহকের ব্যয় বাড়লেও লাভবান শেয়ারহোল্ডাররা
সংগৃহীত ছবি

অভিন্ন কল রেট পুনর্নির্ধারণের ফলে গ্রাহকদের ব্যয় বাড়লেও লাভবান হবেন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি গ্রামীণফোনের শেয়ারহোল্ডাররা। একই অপারেটরে (অন নেট) ফোনকলের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি আয় বাড়বে গ্রামীণফোনের। অন নেটে কলরেট ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় শুধু এ সেগমেন্ট থেকেই গ্রামীণফোনের আয় বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা বাড়বে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সভাপতিত্বে গত ১ আগস্ট বুধবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সর্বজনীন সর্বনিম্ন কল রেট ৪৫ পয়সা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা গত ১৪ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। এর আগে অন নেটে কল করার সর্বনিম্ন মূল্য ২৫ পয়সা আর অন্য অপারেটরে অর্থাৎ অফ নেটে কল করার সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ৬০ পয়সা। পুনর্নির্ধারণ করা সর্বনিম্ন রেট কার্যকরের কারণে অন নেট ও অফ নেটে প্রতি মিনিট সর্বনিম্ন ৪৫ পয়সায় মোবাইল ফোনে কল করা যাবে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কল রেট হবে প্রতি মিনিট দুই টাকা। অবশ্য সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কল রেটের সঙ্গে ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জ যোগ হবে।

অন নেট কলের ক্ষেত্রে আয়ের পুরোটাই সংশ্লিষ্ট অপারেটর পেয়ে থাকে। আর গ্রামীণফোনের ভয়েস কলের ৯০ শতাংশই আসে অন নেট থেকে। অবশিষ্ট ১০ শতাংশ হচ্ছে অফ নেট। অফ নেটের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন কল রেট ৪৫ পয়সার মধ্যে যে অপারেটর থেকে কল যাবে, সেই অপারেটর পাবে ৩১ পয়সা। আর যে অপারেটরের নেটওয়ার্কে কল যাবে, তারা পাবে ১০ পয়সা ও ইন্টার-কানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) পাবে ৪ পয়সা।

সর্বজনীন সর্বনিম্ন কল রেট কার্যকরে অন নেটে গ্রাহকের ব্যয় বেড়েছে ৮০ শতাংশ। বিটিআরসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রামীণফোনের গ্রাহকরা অন নেটে গড়ে প্রতি মাসে ১ হাজার ২৩০ কোটি মিনিট কথা বলেন। এতে পূর্বের ২৫ পয়সার পরিবর্তে বর্তমানের ৪৫ পয়সা সর্বনিম্ন কল রেট হওয়ায় অন নেটে গ্রামীণফোনের আয় বাড়বে বছরে ২ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা। অবশ্য বিভিন্ন অফার, প্যাকেজ ও বান্ডেল হিসেবে নিলে প্রকৃত আয় আরো অনেক বেশি হবে।

অন নেটে বাড়লেও অফ নেট থেকে আয় কমবে। তবে অন নেটের তুলনায় তা সামান্যই। গ্রামীণফোনের গ্রাহকরা অন্যান্য অপারেটরে প্রতি মাসে গড়ে ১৩১ কোটি ৯৩ লাখ মিনিট কথা বলেন। আর অন্য অপারেটরের গ্রাহকরা গ্রামীণফোনে প্রতি মাসে গড়ে ২২৫ কোটি ৪১ লাখ মিনিট কথা বলেন। আয় বণ্টনের বর্তমানের নিয়মানুযায়ী, অফ নেট (অন্য অপারেটরে কল যাওয়া ও আসা) থেকে গ্রামীণফোনের বছরে আয় হবে ৭৬০ কোটি টাকা। আগে অফ নেটের কলরেট প্রতি মিনিট সর্বনিম্ন ৬০ পয়সা থাকায়, এ খাত থেকে গ্রামীণফোনের আয় ছিল ১ হাজার ৮৮ কোটি টাকা। এ হিসেবে অফ নেট কল থেকে গ্রামীণফোনের আয় কমবে ৩২৮ কোটি টাকা। তবে অন নেট ও অফ নেট মিলিয়ে গ্রামীণফোনের অতিরিক্ত আয় হবে ২ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা।

বিটিআরসি সূত্র বলছে, এখন অন নেট কলে সর্বনিম্ন মূল্য কাগজে-কলমে ২৫ পয়সা হলেও প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের কলে গড়ে গ্রাহকের খরচ হয় ৪৯ পয়সা। আর অফ নেট অর্থাৎ অন্য অপারেটরে কল করার খরচ পড়ে ৯০ পয়সা  থেকে ১ টাকা ৪৫ পয়সা। একক কল রেট চালু হলে অন নেট কলের খরচ ৩০ থেকে ৩৫ পয়সা বাড়বে, কিন্তু অফ নেট কলের খরচ কমবে ৪৫ থেকে ৫০ পয়সা।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশনের (বিটিআরসি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, অন নেটে যত কল হয়, তার প্রায় ৫৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ গ্রামীণফোনের। এর বাইরে বাংলালিংকের ২৫ দশমিক ৪৪, রবির ২০ দশমিক ৪ ও টেলিটকের শূন্য দশমিক ৩৭ শতাংশ অন নেট কল হয়।  

গ্রামীণফোনের বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৭ সালে গ্রামীণফোনের রেভিনিউ ছিল ১২ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। ২০১৭ সালে গ্রামীণফোনের মোট রেভিনিউর মধ্যে ৯৬ দশমিক ৩২ শতাংশ আয় আসে মোবাইল কমিউনিকেশন (ভয়েস কল, ডাটা, সাবস্ক্রিপশন, সংযোগ ফি ও আন্তঃসংযোগ) থেকে। এ সময় মোবাইল কমিউনিকেশন রেভিনিউর ৬৮ দশমিক ৪ শতাংশ এসেছে ভয়েস কল থেকে। ভয়েস কল থেকে গ্রামীণফোনের যে আয় আসে, তার ৯০ শতাংশই আসে অন নেট থেকে। ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে ভয়েস কল থেকে আয় বাড়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। অবশ্য ভয়েস কলের চেয়ে ডাটায় প্রবৃদ্ধি বেশি ছিল। বার্ষিক প্রতিবেদনে ব্যবস্থাপনা বিভাগের পর্যবেক্ষণেও ভয়েস কল থেকে রেভিনিউ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।

চলতি প্রথমার্ধে গ্রামীণফোনের মোট আয় হয় ৬ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। চলতি প্রথমার্ধে কোম্পানির পরিচালন মুনাফায় তেমন উল্লেখযোগ্য পার্থক্য না থাকলেও আয়কর বাবদ সঞ্চিতিতে সুবিধা পাওয়ায় নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে।