• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৩ মহররম ১৪৪০
BK
জুলাইয়ে এক টাকাও ব্যয় করতে পারেনি ২৮ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ

শুরুতেই এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি

শুরুতেই এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি
প্রতীকী ছবি

চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বরাদ্দ রয়েছে ১১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকার এডিপির ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ বরাদ্দ নিয়ে শীর্ষ মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে মন্ত্রণালয়টি। তবে অর্থবছরের প্রথম মাসে ১৭ প্রকল্পে একটি টাকাও ব্যয় করতে পারেনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ফলে অর্থবছরের প্রথম মাসে এ মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়ন শূন্য শতাংশ। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৮ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে অর্থবছরের প্রথম মাসে এডিপি বাস্তবায়নে কোনো টাকা ব্যয় করতে পারেনি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। বরাদ্দের শীর্ষ ১৫ তালিকায় থাকা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়েরও জুলাই মাসে এডিপি বাস্তবায়ন শূন্য শতাংশ। বড় বরাদ্দ পাওয়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়নও শুরু হয়নি অর্থবছরের প্রথম মাসে।

আইএমইডি জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকার এডিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ মিলে প্রথম মাসে ব্যয় করেছে ১ হাজার ২৭ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশে। এর মধ্যে ২৮ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এডিপি বাস্তবায়নের হার শূন্য শতাংশ।

অর্থবছরের শুরুতেই এডিপি বাস্তবায়নের কাজে গতি আনার তাগিদ দিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, শুরুর দিকে কাজ না করলে অর্থবছরের শেষের দিকে দ্রুত কাজ করতে হয়। ফলে কাজের গুণগত মান বজায় থাকে না। অনেক সময় কাজ না করেও টাকা উঠিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। ফলে অপচয় হয় সরকারি অর্থের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকেও বছরের শুরুতে কাজে গতি আনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কারো উদ্যোগই কাজে আসছে না।

বছরের শুরুতে কাজ না করে শেষের দিকে বিপুল পরিমাণে অর্থ ছাড় অনেকটাই নিয়মে পরিণত হয়েছে। গত অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টির মাস জুনে ব্যয় হয়েছে ৪৯ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। সারা বছরের ব্যয়ের ৩৩ শতাংশের বেশি অর্থ ছাড় হয়েছে শেষ মাসে। এ অবস্থার অবসান চাইছেন অর্থনীতিবিদরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এটা অনেক পুরনো সমস্যা। বছরের শুরু থেকে প্রকল্প ফেলে রেখে শেষ দিকে দায়সারা কাজ করা হয়। বর্তমান সরকারও এ বিষয়ে অবহিত। বছরের শুরুতে কাজ করতে প্রতিবারই নির্দেশনাও দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো নির্দেশনারই বাস্তবায়ন হয় না। তিনি আরো বলেন, একসঙ্গে বেশি প্রকল্প নেওয়ার কারণে বাস্তবায়নে গতি আসে না। তবে অর্থ ফেরত যাওয়ার ভয়ে শেষদিকে কিছু কাজ করে টাকা উঠিয়ে নেওয়া হয়। এতে জনগণের কোনো কাজে আসে না।

আইএমইডি সচিব মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, এডিপি বাস্তবায়নে কিছু কাজ হলেও অনেক সময় অর্থ ছাড় হতে বিলম্ব হয়ে থাকে। এর ফলে বছরের শেষের দিকে এডিপি বাস্তবায়ন কিছুটা বেশি মনে হয়। অর্থনীতির শৃঙ্খলার জন্য এ পরিস্থিতির অবসান হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

আইএমইডির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জুলাই মাসে সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ২৮৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে ৭ প্রকল্পের আওতায় ৫ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয় করেছে মন্ত্রণালয়টি। ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ বাস্তবায়নে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। ১ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে ২২ প্রকল্পের আওতায় ৩৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয় করেছে বিভাগটি। তৃতীয় অবস্থানে থাকা স্থানীয় সরকার বিভাগের এডিপি বাস্তবায়ন ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

অবশ্য অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ বিবেচনায় সর্বোচ্চ অবস্থানে আছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বিভাগটি এক মাসে ৪২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয় করেছে এডিপি বাস্তবায়নে। প্রথম মাসে এডিপি বাস্তবায়নে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০৯ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয় করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।