• বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ৯ মহররম ১৪৪০
BK
চট্টগ্রামে কমানো হয়েছে গ্যাস সরবরাহ

এলএনজির সুফল পেতে আরো অপেক্ষা

এলএনজির সুফল পেতে আরো অপেক্ষা
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামে সরবরাহের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) যুগে প্রবেশ করলেও সুফল মিলছে না কর্ণফুলী গ্যাসের প্রায় ছয় লাখ গ্রাহকের। একদিকে এলএনজি সরবরাহ করা হলেও অন্যদিকে সমপরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লি. (জিটিসিএল)। জিটিসিএলের তথ্যমতে, শনিবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে মহেশখালী থেকে আসা ট্রান্সমিশন লাইন থেকে চট্টগ্রামের ডিস্ট্রিবিউশন লাইনে গ্যাসের সরবরাহ শুরু হয়।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) একটি সূত্র জানায়, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর নতুন একটি বড় জাহাজ এলএনজি নিয়ে আসছে। ওই সময় থেকে চট্টগ্রামে ২৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে। তখন চট্টগ্রামে গ্যাসের জোগান বাড়বে। জিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী মোহাম্মদ আল মামুন বলেন, ‘শনিবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ট্রান্সমিশন লাইন থেকে ডিস্ট্রিবিউশন লাইনে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। এ লাইন থেকে দৈনিক ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে। আগামী ৩-৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ হারে সরবরাহ দেওয়া হবে। এরপর ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়ানো হবে।’

চট্টগ্রামে গ্যাসের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান কেজিডিসিএল’র উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়-দক্ষিণ) প্রকৌশলী মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘এলএনজি টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রামে দৈনিক ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। আবার জাতীয় গ্রিড থেকে একই পরিমাণ গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

আট বছর আগে ২০১০ সালে এলএনজি সরবরাহের প্রকল্প নেওয়া হয়। একই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি লিমিটেডের সাথে ২০১৬ সালে এলএনজি সরবরাহের চুক্তি করে পেট্রোবাংলা। মূলত চুক্তির পর থেকে এলএনজি সরবরাহের কাজ শুরু করে এক্সিলারেট। এলএনজি মজুত ও পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করার ভাসমান টার্মিনাল অর্থাৎ ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) সংযোজন করা হয় মহেশখালীতে। নানা প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল এলএনজি মজুত ও আবার গ্যাসে এফএসআরইউ ‘এমটি এক্সিলেন্স’ মহেশখালীতে আসে। তবে ওই টার্মিনাল ও সমুদ্র তলদেশের পাইপলাইনের মধ্যকার বিশেষ সংযোগে ত্রুটির কারণে এফএসআরইউ থেকে ট্রান্সমিশন লাইনে এলএনজি সরবরাহ প্রায় চার মাস বিলম্বিত হয়। ‘এমটি এক্সিলেন্স’ জাহাজটিতে এক লাখ ৩৬ হাজার ৯০০ ঘনমিটার (৬০ হাজার ৪৭ টন) গ্যাস রয়েছে। মূলত এ জাহাজটিই এলএনজি টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহূত হবে। এফএসআরইউ’র মাধ্যমে এলএনজিকে প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তরের মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে ব্যবহার উপযোগী গ্যাস পৌঁছে দিচ্ছে পেট্রোবাংলা। পেট্রোবাংলার অঙ্গপ্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) ট্রান্সমিশন লাইনে গ্যাস সরবরাহ দেওয়ার কাজটি তদারক করছে। ট্রান্সমিশন লাইন থেকে জাতীয় গ্রিড নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান জিটিসিএল ডিস্ট্রিবিউশন লাইনে গ্যাস সরবরাহ দেওয়ার কাজ করছে। সর্বশেষ চট্টগ্রামে গ্যাসের বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান কেজিডিসিএল ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে গ্যাস পৌঁঁছে দিচ্ছে। মূলত ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের ডিস্ট্রিবিউশন লাইনে গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশ এলএনজি নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটেছে।

এদিকে চট্টগ্রামের ডিস্ট্রিবিউশন লাইনে এলএনজি সরবরাহ শুরু হলেও সংকট রয়ে যাচ্ছে আগের মতোই। জিটিসিএল বলছে, এলএনজি সরবরাহের মাধ্যমে সরবরাহ লাইনে গ্যাসের চাপ ও ফ্লো বাড়লেও এখনো পর্যন্ত গ্যাসের দৈনিক সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে না। আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের পর থেকে চট্টগ্রামে গ্যাসের জোগান বাড়ানো হবে।

চট্টগ্রামে গ্যাসের সঙ্কট দীর্ঘদিনের। দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত কমে যাওয়ার কারণে সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও চাহিদা মোতাবেক গ্যাস সরবরাহ করতে ব্যর্থ হচ্ছিল কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি. (কেজিডিসিএল)। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে না পেরে এবং উৎপাদন খাতের ব্যবসায়ীদের ক্রমাগত চাপে এলএনজি আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করে পেট্রোবাংলা।

কেজিডিসিএল সূত্রে জানা গেছে, আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্পখাত মিলিয়ে চট্টগ্রাম গ্যাসের গ্রাহক রয়েছে পাঁচ লাখ ৮০ হাজার। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক পাঁচ লাখ ৭৫ হাজারের অধিক। তাছাড়া শিল্প-কারখানা আছে এক হাজার ৫০০। চট্টগ্রামে সিএনজি ফিলিং স্টেশন আছে ৭০টি। শিল্প, বাণিজ্যিক, সার-বিদ্যুৎ ও চা বাগানসহ সব মিলিয়ে আরো চার হাজার ৯২টি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাসের গ্রাহক। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ৪৮০-৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট।