• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ৮ মহররম ১৪৪০
BK

পরোক্ষ ধূমপানে ফুসফুস রোগের ঝুঁকি বাড়ায় ৪২ শতাংশ

পরোক্ষ ধূমপানে ফুসফুস রোগের ঝুঁকি বাড়ায় ৪২ শতাংশ
ছবি : ইন্টারনেট

‘ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’, ‘ধূমপানের কারণে ক্যানসার হয়’ বা ‘ধূমপানে বিষপান’- এমন অনেক ধরনের সতর্কীকরণ বার্তা থাকে বিড়ি বা সিগারেটের প্যাকেটেই। এরপরও যারা ধূমপান করেন এক অর্থে তারা জেনেশুনেই বিষপান করছেন। নিজের পায়ে কুড়াল মারছেন নিজেই। কিন্তু ভয়ঙ্কর কথা হচ্ছে, ধূমপায়ী একা মরেন না। মারেন তার চারপাশের অনেক অধূমপায়ীদের। অন্যভাবে বলা যায়, পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়ে ধূমপায়ীদের মতোই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন অধূমপায়ীরা।

ধূমপানরত ব্যক্তির বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়া দ্বিতীয় ব্যক্তি গ্রহণ করলে সেটাকে পরোক্ষ ধূমপান বলা হয়। এটা দুইভাবে আসতে পারে, ধূমপানরত ব্যক্তির জ্বলন্ত বিড়ি কিংবা সিগারেটের পাশ থেকে নির্গত ধোঁয়া কিংবা ধূমপায়ী ধোঁয়া গ্রহণের পর নিঃশ্বাসের সঙ্গে পরিত্যক্ত ধোঁয়া।

আগে বলা হতো পরোক্ষ ধূমপানের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা। গর্ভের সন্তানও এই নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। শিশুরা এতে হার্ট অ্যাটাক, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া সিগারেটের ধোঁয়ায় শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়।

কিন্তু নতুন এক গবেষণা বলছে, যেসব শিশু পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয় বড় হলে তাদের ফুসফুস নানা রকমের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির করা ওই গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশুর বাবা, মা বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্য ধূমপান করেন তারা দিনে গড়ে ৭ থেকে ১০ ঘণ্টার পরোক্ষ ধূমপানের কবলে থাকে। আর এ কারণে তারা বড় হলে একটা অধূমপায়ী পরিবারের শিশুদের তুলনায় ফুসফুসে সংক্রমণের আশঙ্কা ৪২ শতাংশ বেড়ে যায়। হূদরোগের ঝুঁকি বাড়ে ২৭ শতাংশ। আর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে ২৩ শতাংশ।

এ ছাড়া প্রায় ২২ বছর ধরে ৮০ হাজার অধূমপায়ীদের ওপর পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা গেছে, তারা যদি ধূমপায়ীদের সঙ্গে বসবাস করে তবে অন্যান্য রোগের ঝুঁকিও তাদের অনেকটাই বেড়ে যায়।

তাই প্রিয় সন্তানের জন্য মা-বাবাকে যত দ্রুত সম্ভব ধূমপান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

প্রসঙ্গত, তামাকের ধোঁয়ায় চার হাজারের বেশি উপাদান থাকে। এগুলোর মধ্যে যেসব কণা রয়েছে তা হলো আলকাতরা, নিকোটিন, বেনজিন ও বেনজোপাইরিন। আর গ্যাসীয় উপাদানগুলো রয়েছে কার্বন মনোক্সাইড, অ্যামোনিয়া, ডাই-মিথাইল নাইট্রোস অ্যামাইন, ফরমালডিহাইড, হাইড্রোজেন সায়ানাইড ও অ্যাক্রোলিন। এক হিসাবে দেখা যায়, তামাকের ধোঁয়ায় অন্তত ৬০ রকমের উপাদান রয়েছে, যেগুলো ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া এই ধোঁয়ায় রয়েছে শ্বাসনালির জন্য উত্তেজক আরো হাজারো উপাদান।