• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১০ মহররম ১৪৪০
BK

অটোমেশন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ!

অটোমেশন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ!
ছবি : ইন্টারনেট

মো. মিজানুর রহমান

মানুষের চেয়ে রোবটের কর্মসংস্থান দিন দিন বেড়ে চলছে! গাড়ির ড্রাইভিং থেকে শুরু করে চাষাবাদ পর্যন্ত এখন রোবট করছে। ভবিষ্যতে আমরা প্রায় সব ক্ষেত্রে রোবটের বিচরণ দেখতে পাব। আপনি অফিসে বসে দেখবেন রোবট আপনার বাচ্চাকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছে এবং তার সঙ্গে খেলাধুলা করছে। বর্তমান বিশ্বের অনেক কর্মসংস্থান অটোমেশনের ঝুঁকিতে রয়েছে, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই রোবট। এখনই প্রস্তুতি না নিলে এক দশক পর প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা বেকার হয়ে পড়বে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদালয়ের রিসার্চ থেকে প্রকাশ করা হয় আগামী ২৫ বছরের মধ্যে রোবট মানুষের অর্ধেক কর্মসংস্থান দখল করে নেবে।

মানুষ আগে লাঙল দিয়ে হাল চাষ (cultivation) করত। একটি জমিতে দশজন শ্রমিক সারাদিন কাজ করে ফসল কাটত সেই কাজটি এখন মেশিন দিয়ে এক ঘণ্টায় করা যায়। তাহলে কেন সেটা মানুষ দিয়ে করাবে। এখন তো সবাই জানি বাসার অনেক কাজ রোবট দিয়ে করানো যায়, সামনে আসছে ড্রাইভার ছাড়া গাড়ি। বস আসবে তাই দরজা আর গার্ডকে খুলে দিতে হবে না। এমনকি এসি নিজেই চলবে এবং বসের প্রয়োজনে টেম্পারেচার কমাবে বাড়াবে। এত গেল আমাদের সবার জানা কথা।

এবার যদি আমরা ভবিষ্যৎ চিন্তা করি তাহলে কী ভাবতে পারি, মানুষের ব্রেইনের অটোমেশন, ভাবছেন সেটা আবার কী? প্রতিটি মানুষের একটি ভার্চুয়াল মানুষ থাকবে যেটি হবে একটি রিয়েল টাইম, ইন্টারঅ্যাক্টিভ এবং ইন্টেলিজেন্স ভিত্তিক ডিভাইস। এই ডিভাইসগুলো নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে এবং একজন মানুষ এই ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে অন্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। একজন মানুষের ক্ষুধা লাগলে ডিভাইসটি বুঝতে পারবে এবং রোবটকে সিগন্যাল দেবে রোবট খাবার পরিবেশন করবে। অসুস্থ হলে ডিভাইসটি নিজেই বুঝতে পারবে এবং নিজেই ডক্টরের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে জানিয়ে দেবে। মজার বিষয় হলো ওই সময় যদি অন্য কোনো কাজ করতে হয় ভার্চুয়াল মানুষটি সেটি করতে দেবে না কারণ সেই সময় ডক্টরের কাছে যেতে হবে। তার মানে আপনাকে আর কিছু মনে রাখতে হবে না সেটি ডিভাইসটি করবে।

এবার আসল কথায় আসি, অটোমেশন কেন আমাদের অর্থনীতির জন্য হুমকি। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম দুটি ভিত্তি হচ্ছে গার্মেন্ট এবং প্রবাসীদের আয়। এখন বিদেশে যখন রাস্তা পরিষ্কার করবে রোবট, বাগানের দেখাশোনা করবে রোবট, টয়লেট পরিষ্কার করবে রোবট তাহলে আমার দেশের শ্রমিকদের বিদেশে চাহিদা কমে যাবে। আমাদের দেশের শ্রমিকদের মজুরি কম তাই আমরা গার্মেন্টে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের জোগান দিতে পারছি। কিন্তু গার্মেন্ট যখন পুরোপুরি অটোমেশন হবে তখন তো বিদেশিরা নিজ দেশেই কম খরচে উৎপাদন করতে পারবে। তখন আমাদের এই বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থানের কী হবে। এখানে তো কয়েকটি বিষয় বললাম যা আমরা সবাই জানি।

বিশ্ব এগিয়ে যাবে অটোমেশনও সবক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়বে সেই জন্য আজ থেকে দশ বছর পরের কথা চিন্তা করে আমাদের হিউম্যান রিসোর্স তৈরির পরিকল্পনা নিতে হবে।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, সিএসই, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি