• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ৮ মহররম ১৪৪০
BK

সঙ্কটে ভেনিজুয়েলা, সংস্কারের উদ্যোগ

সঙ্কটে ভেনিজুয়েলা, সংস্কারের উদ্যোগ
ছবি : ইন্টারনেট

ভেনিজুয়েলার ক্ষমতাসীন সোস্যালিস্ট ইউনাইটেড পার্টি (পিএসইউভি) অর্থনীতি সংস্কারের এক নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই পরিকল্পনা অনুসারে কালোবাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বলিভারের সরকারি মূল্য হ্রাস করা হবে। কারণ দেশটির সরকার ও সেনাবাহিনী ভালো করেই জানে কালোবাজারের দৌরাত্ম্য এখন কতটা ভয়ঙ্কর মাত্রায় ভেনিজুয়েলায়। দেশের ধনিক শ্রেণির হাতে থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থকে অকার্যকর করতে যে নতুন ফরেক্স মার্কেটের সৃষ্টি করতে চাইছেন মাদুরো সরকার তাতে বাস্তবে কোনো লাভ হবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।

গত তিন বছরে বলিভার সব ক্ষেত্রেই ডলারের বিপরীতে মান হারিয়েছে। এমনকি মান ধরে রাখতে সাধারণ টেলিপ্রিন্ট মেশিনে করেও বলিভার ছাপানো হচ্ছে কালোবাজারে এবং তা বহাল তবিয়তেই চলছে দেশটিতে। মাদুরো সরকার বরাবরই বলে আসছে, বহির্দেশীয় শক্তি নকল অর্থ বাজারে ছেড়ে ভেনিজুয়েলাকে ধ্বংসের দ্বারে নিয়ে যেতে চাইছে। আর পিএসইউভি নিজেও সমস্যা সমাধানে বার বার ব্যাংক নোট বের করে যাচ্ছে। সরকার যা কিছুই বলুক না কেন, বাস্তবে আগামী সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখের মধ্যে নতুন বলিভারের মূল্যমান হবে শূন্য দশমিক এক শূন্য ডলারের সমান। উল্লেখ্য, বর্তমানে ৬০ লাখ বলিভার সমান যুক্তরাষ্ট্রের এক ডলার। সমাজতান্ত্রিক মাদুরো এখানে বলতেই পারেন যে, তার শাসনামলে ভেনিজুয়েলার সাধারণ মানুষও এখন মিলিওনেয়ার।

গত সপ্তাহে মাদুরো নতুন মুদ্রা প্রণয়নের পাশাপাশি স্বল্প আয়ের মানুষের বেঁচে থাকার নিশ্চয়তার জন্য করপোরেট আয়করের হার বাড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চমাত্রার আয়কর মানেই আরো আয়কর ফাঁকির রাস্তা খুলে যাওয়া। মাদুরো একদিকে আয়কর বাড়াচ্ছেন এবং অন্যদিকে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়াচ্ছেন। এই দুইয়ের মধ্যে প্রান্তিক পর্যায়ের বাসিন্দারা সেই আগের স্থানেই থাকছে। একটি বিদেশি বার্তা সংস্থার সাংবাদিককে ৪৩ বছর বয়সী হোসে নার্ভেজ বলেন, ‘আমি যেকোনো মূল্যে বৃহস্পতিবার দেশ ছেড়ে চলে যেতে চাই। আমি নিশ্চিত এই নতুন অর্থনীতি পরিকল্পনা কোনো কাজেই লাগবে না, কারণ তিনি (মাদুরো) যুক্তি বোঝেন না।’ গত বছর থেকে এখন পর্যন্ত ভেনিজুয়েলার দশ লক্ষাধিক মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে কলম্বিয়াতে চলে গেছে। এর আগে ভেনিজুয়েলা থেকে এত সংখ্যক মানুষ অর্থনৈতিক শরণার্থী হিসেবে কোথাও যায়নি।

এত কিছুর মধ্যেই বিশ্বব্যাংক ভেনিজুয়েলাকে এক বছরের অতিরিক্ত সময় দিয়েছে ঋণ পরিশোধের জন্য। দেশটির রাষ্ট্রীয় পেট্রোলিয়াম সংস্থা পিডিভিএসএ রীতিমতো ঋণ পরিশোধ করতে লড়াই করছে। ২০১৭ সালের দিকে তারা ইতোমধ্যেই বেশকিছু বন্ড বাজারে ছেড়েছে দেনা মেটানোর জন্য। তেলের উৎপাদন ভেনিজুয়েলার জন্য অর্থের মূল উৎস, কিন্তু গত চার বছর থেকেই তেলের মূল্য প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। আর এর পেছনে আছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পলিসি ও ওপেক।

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলা এখন শুধু অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যেই নেই। রাজনৈতিক এবং সামাজিক সমস্যা গোটা অঞ্চলকে গ্রাস করে ফেলছে ক্রমশ। গোটা দেশে ব্যাপক অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। এ ছাড়াও বেড়েছে অপহরণের হার। কিছুদিন আগেই প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ওপর ড্রোন দিয়ে বোমা হামলা চালানো হয়। এমন অবস্থায় আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ভেনিজুয়েলা দেউলিয়া হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

বিশ্লেষণ কল্লোল কর্মকার