• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১১ মহররম ১৪৪০
BK
ভিন্নমত

জাতীয় নির্বাচন ও আশঙ্কা

জাতীয় নির্বাচন ও আশঙ্কা
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে তাদের। স্বাধীনতা আন্দোলন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছিল। এ দেশের জনগণ কখনো স্বৈরশাসনকে গ্রহণ করেনি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এদেশের মানুষের রক্ত অনেক ঝরেছে।

এ দেশের মানুষকে কখনো গণতন্ত্রবিরোধী একদলীয় শাসনে জিম্মি করা যাবে না। তা কখনো স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। এ দেশের মানুষ বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। দলমত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন চায় মানুষ। নির্বাচনে অংশগ্রহণের উপযুক্ত সব দলকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া দরকার। জনগণের ভোটের রায়ের মাধ্যমে নির্বাচিত দল যেন ক্ষমতায় আসতে পারে, সে পরিবেশ তৈরি করা শাসক দলের দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশন জনগণের মতামত ও আশা-আকাঙ্ক্ষার রূপরেখা বাস্তবায়নে নির্বাচন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করবে, সেটাই প্রত্যাশা।

স্বাধীনতার ৪৭ বছরে বাংলাদেশে যে কয়টি জাতীয় নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে আশঙ্কা ও রক্তপাতহীন কোনো নির্বাচন জাতি দেখেনি। সব নির্বাচনেই কম-বেশি রক্তপাত হয়েছে। জাল ভোটের ব্যবহার হয়েছে। কালো টাকা ও পেশিশক্তির দাপট দেখা গেছে। নির্বাচনে সহিংসতা কারচুপি জালিয়াতির আশঙ্কা সবসময় ছিল। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই আশঙ্কা ও অস্থিরতা বাড়ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়ছে। জোট, মহাজোট ও নির্বাচনী জোট হচ্ছে। ছোট-বড় দলের মধ্যে দূরত্ব কমছে। ছোট দলগুলোর কদর বাড়ছে। জোট মহাজোটের পক্ষ থেকে শাসক দলের নিকট প্রস্তাবনা যাচ্ছে। নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে কোন নিয়মে হবে সেসব বিয়য়ে এখন ঘরে-বাইরে আলোচনা চলছে।

নির্বাচনে অনিয়মের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়নি স্বয়ং নির্বাচন কমিশনার। ফলে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও বেড়েছে উদ্বেগ।

নির্বাচনের আগে-পরে বিভিন্ন দলকে নিয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলে কূটনৈতিক মহলে। এ সুযোগকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সঙ্কট, সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতেও নানা ষড়যন্ত্র করে থাকে তারা। শাসক দলকে অস্থির করে নানা ধরনের শর্ত ও চাপে রাখতে কূটকৌশল অব্যাহত রাখে। স্বাধীন নির্বাচন কমিশনকে এ জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে বেগ পেতে হয়।

জননিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার, মানবাধিকার, সুষ্ঠু জীবনযাপনের দাবিতে সম্প্রতি সর্বস্তরের ছাত্রদের আন্দোলনে সারা দেশ কেঁপে উঠেছে। সে আন্দোলন জাগ্রত করেছে জাতিকে। টনক নড়েছে ক্ষমতাসীনদের। আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থার অনিয়মের চিত্র ছাত্রসমাজ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। ছাত্রসমাজের আন্দোলনকে যে যেভাবেই দেখুক না কেন, আমি বলব সেটা তাদের নিরাপত্তার দাবিতে করেছে। রাস্তা, ড্রাইভার, পরিবহন সেক্টরের যাবতীয় অনিয়মের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন শতভাগ সফল। ছাত্র আন্দোলনকে নিয়ে যাদের আশঙ্কা ছিল আমি বলব সেটা অহেতুক। কেউ যদি তাদের ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে চায় সেটা তাদের জন্য ভুল হবে। দায়িত্বের প্রতি অবহেলা ক্ষমতার অপব্যবহার আর ইচ্ছেমতো যারা নিয়ম ভেঙে জাতির ওপর চেপে বসে, মাঝেমধ্যে এ ধরনের আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের জাগ্রত করা সামাজিক দায়িত্ব। সে দায়িত্বই জাতির পক্ষে ছাত্রসমাজ পালন করছে বলে আমাদের বিশ্বাস। গৌরবের এ ছাত্রসমাজ কখনো তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও পথ থেকে সরে আসবে না। আগামীতে দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায়ও জনগণের সঙ্গে থাকবে ছাত্ররা।

একাদশ জাতীয় নির্বাচন যাতে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়, সেভাবেই নির্বাচনী কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে বাংলাদেশকে নির্বাচনের মাধ্যমে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে নেওয়াই হলো ক্ষমতাসীন দলের অন্যতম দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্রের পক্ষে থেকে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক