• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
BK
ট্যুর ডায়েরি

প্রাণের মেলা গেমস এরিনায়

প্রাণের মেলা গেমস এরিনায়
সংগৃহীত ছবি

স্পোর্টস রিপোর্টার, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ান গেমসকে কেন্দ্র করে পুরো জাকার্তা ও পালেম্বাং শহরে চলছে উৎসব। গেম ভিলেজগুলোকে ঘিরে চলছে দিনব্যাপী উৎসব। পরিবার-পরিজন নিয়ে সবাই ছুটে আসছেন স্পোর্টস এরিনায়। সারাদিন ঘুরছেন, আনন্দ করছেন, মাঠে বসে খেলা দেখে রাতের বেলায় ফিরে যাচ্ছেন বাসায়। ইন্দোনেশিয়ানদের এ উৎসব ছাপিয়ে গেছে ঈদের আনন্দকেও। ছোট-বড় সবাই মেতেছেন এশিয়ান গেমসকে নিয়ে। খেলাই যেন তাদের প্রাণ। মাঠে এসে প্রতিনিয়ত স্বাগতিক অ্যাথলেটদের উৎসাহ দিতে ভুল করছেন না তারা। লাখ লাখ টাকা খরচ করে গেমস ভিলেজে প্রবেশ করে নিজ দেশের ক্রীড়াবিদদের সমর্থন জানাচ্ছেন তারা।

এশিয়ান গেমসকে উপলক্ষ করেই জাকার্তা ও পালেম্বাং শহর নতুন করে সাজানো হয়েছে। শহর দুটির রাস্তা-ঘাটের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে নতুন নতুন স্টেডিয়াম। পুরো এশিয়ার অ্যাথলেট, অফিসিয়ালদের আবাসনের জন্য তৈরি করা হয়ে বিশাল বিশাল ভবন। গেম ভিলেজের ভেতরে বসানো হয়েছে বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানির পণ্যসামগ্রী ও খাবার বিক্রয়ের স্টল। চলছে হরেক রকমের অফার। পণ্য কিনলে যেমন ছাড় দিচ্ছে, তেমনি অনেক কোম্পানি বিনামূল্যে নিজেদের পণ্য তুলে দিচ্ছে আগত দর্শনার্থীদের হাতে। গেম ভিলেজের প্রবেশ পথেই সকাল থেকে দুটি অস্থায়ী মঞ্চে চলতে থাকে অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পিরা সঙ্গীত পরিবেশন করে থাকেন মঞ্চ দুটিতে। বিভিন্ন স্থানে আছে বড়পর্দা। অনেকেই স্টেডিয়ামে প্রবেশ না করে বড়পর্দায় বসে একসঙ্গে খেলা উপভোগ করে থাকেন। ছোট ছোট বাচ্চাদের বিনোদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সারাদিনের জন্য গেম ভিলেজে প্রবেশের টিকেট মূল্য রাখা হচ্ছে আড়াই লাখ রুপিয়া (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় দেড় হাজার)। টিকেটের এ অগ্নিমূল্যও দাবিয়ে রাখতে পারছে না দর্শকদের। পরিবারের কর্তাব্যক্তি সবাইকে নিয়ে ছুটে আসছেন গেম ভিলেজে। কলেজ পড়ুয়া স্কুলছাত্রী বিদ্যা ফারিহ জানান, ‘আমাদের এখানে ঈদের উৎসব তেমন হয় না। কিন্তু গেমসকে কেন্দ্র করে অনেক বড় একটা উৎসব চলছে। দেখুন সবার মধ্যেই কেমন একটা প্রাণের সঞ্চার ঘটেছে। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব সবাই ছুটে আসছে। সব প্রাণ যেন মিলছে জিবিকে স্পোর্টস এরিনায়।’ ফারিহ এখানে এসেছেন তার বান্ধবীদের সঙ্গে। সকাল ১০টায় জিবিকে স্পোর্টস এরিনায় প্রবেশ করেছেন। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত্র তখন ৯টা। বাসায় কখন যাবেন- প্রশ্নটা করতেই অবাক তিনি, ‘এখন বাসায় যাওয়ার কোনো সময় নেই। খেলা শেষ হওয়ার পরও আমরা দীর্ঘ সময় আড্ডা দিই সবার সঙ্গে। উৎসবটা পুরো উপভোগ করছি। আসলে গেমস শেষ হলে এমন আনন্দ-উৎসব আর খুঁজে পাব না। এশিয়ান গেমস আমাদের জন্য অনেক বড় একটা আশীর্বাদ।’