• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১২ মহররম ১৪৪০
BK

অতি উৎপাদন ঝুঁকিতে ইস্পাত শিল্প?

অতি উৎপাদন ঝুঁকিতে ইস্পাত শিল্প?
সংগৃহীত ছবি

* চাহিদা ৬০ লাখ টন; উৎপাদন ১ কোটির বেশি

* বিনিয়োগ করছে চীনের  রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান

 

দেশে বছরে ইস্পাত পণ্যের চাহিদা থাকে ৬০ লাখ টন। এর বিপরীতে দেশের ছোট-বড় আড়াইশ মিল ৯০ লাখ টন ইস্পাত পণ্য উৎপাদনে সক্ষম। তা সত্ত্বেও থেমে নেই এ খাতে নতুন বিনিয়োগ। দেশি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এ শিল্পে বিনিয়োগ করছে অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে অতি উৎপাদনের ঝুঁকিতে ইস্পাত শিল্প।

সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কুনমিং আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশে বছরে ২০ লাখ টন ইস্পাত পণ্য উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে। এতে দেশে ইস্পাত পণ্য উৎপাদনে সক্ষমতা দাঁড়াবে ১ কোটি ১০ লাখ টন, যা চাহিদার দ্বিগুণ।

এ পরিস্থিতিতে আগামীতে দেশের ইস্পাত শিল্পে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে বলে ধারণা বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও শাহরিয়ার স্টিল মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একে মাসুদুল আলম মাসুদের। তিনি বাংলাদেশের খবরকে বলেন, এ খাতে বিদেশি যে কোম্পানি বিনিয়োগ করছে তাদের কারখানা হবে অর্থনৈতিক অঞ্চলে। তাই নামমাত্র দামে জমি পাবে তারা। সেই সঙ্গে কম খরচে সরকার তাদের গ্যাস বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। এতে তাদের উৎপাদন খরচ হবে দেশি কোম্পানির চেয়ে কম। সে কারণে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে দেশিরা।

স্বয়ংসম্পূর্ণ এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগের কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না তিনি। একে মাসুদুল আলম মাসুদের মতে, দেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা করতে হলে তারাও এ দেশে আসত না।

জানা গেছে, বাংলাদেশের ইস্পাত শিল্পে ২৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে কুনমিং আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি, যা বাংলাদেশি টাকায় ১৯ হাজার কোটি। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) কুনমিং স্টিলকে চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১ হাজার একর জমি ইজারা দিচ্ছে। ইতোমধ্যে কুনমিং স্টিলের প্রতিনিধিদল দেশে বেজাসহ অন্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও শেষ। এ বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছেন বলে জানিয়ে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, ‘তাদের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হলেও আমাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি। তবে আমি মনে করি বড় এ বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন’।

তিনি আরো বলেন, এতে দেশের ইস্পাত শিল্পের ক্ষতি হবে না। বরং আরো এগিয়ে যাবে। কারণ কুনমিং দেশে বেসিক আয়রন (কাঁচামাল) তৈরি করবে। আর দেশি কোম্পানি তাদের বিলেট ব্যবহার করতে পারবে। এতে দেশে ইস্পাত শিল্পে কাঁচামালের সঙ্কট কেটে যাবে। ভোক্তারাও কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন।

পবন চৌধুরী আরো জানান, বিদেশি বিনিয়োগ হলেও দেশি ইস্পাত শিল্পের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান এ খাতে যৌথ অংশীদার। পাশাপাশি দেশের অন্য খাতের ব্যবসায়ীরাও এ বিনিয়োগে সম্পৃক্ত থাকবেন।

খাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে আড়াইশ’র বেশি প্রতিষ্ঠান ইস্পাত পণ্য উৎপাদন করছে। এর মধ্যে বড় বিনিয়োগ রয়েছে বিএসআরএম স্টিল লিমিটেড, রহিম স্টিল, বন্দর স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং আবুল খায়ের স্টিল মিলস লিমিটেডের মতো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের। তারাই বর্তমানে চাহিদার সিংহভাগ জোগান দিচ্ছেন। এর মধ্যে দেশে রডের বাজারের প্রায় ৩০ শতাংশই বিএসআরএমের দখলে।

এ ছাড়া রহিম স্টিল (আরএসএম), বন্দর স্টিল এবং আবুল খায়ের স্টিল লিমিটেডের দখলে প্রায় ১৫ শতাংশ বাজার। ওই চার প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কবির স্টিল (কেএসআরএম), রতনপুর রি-রোলিং মিলস (আরএসআরএম), আনোয়ার ইস্পাত, শফিউল আলম স্টিল, শাহরিয়ার স্টিল মিলস রডের বড় একটি অংশ জোগান দেয়।