• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
BK

‘কারো অনুমতি নিয়ে কাজ করবে না দুদক’

‘কারো অনুমতি নিয়ে কাজ করবে না দুদক’
ছবি : সংরক্ষিত ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেফতারের আগে কারো অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। মন্ত্রিসভায় ক’দিন আগে অনুমোদিত সরকারি কর্মচারী আইন দুদকের কার্যক্রমে অন্তরায় সৃষ্টি করবে কি-না জানতে চাইলে এ কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, কারো অনুমতি নিয়ে দুদক কাজ করে না। গতকাল সোমবার ঈদ-উত্তর শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন দুদক চেয়ারম্যান।

ইকবাল মাহমুদ আরো বলেন, সরকারি কর্মচারী আইনের খসড়া অনুমোদন হয়েছে। বিষয়টি এখনো পূর্ণাঙ্গ নয়। জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার আগে আরো বেশকিছু পর্যায়ে সংযোজন-বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় খসড়া আইন নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষায় কোনো আইন হবে না। তবে সৎ কর্মচারীদের সুরক্ষারও প্রয়োজন।

অসৎ ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, তাদের উচ্ছ্বসিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কোনো আইনেই দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। যুদ্ধের কৌশলের মতোই কখনো কখনো কৌশলগত কারণে দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার বা অন্যান্য আইনের প্রয়োগ একটু শিথিল করা হয় আবার উপযুক্ত সময়ে তা তীব্র করা হয়। 

ইকবাল মাহমুদ বলেন, জনগণের তীব্র আকাঙ্ক্ষার কারণেই ঘুষখোর বা দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনা হবে। দুদক ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে কখনোই বসে থাকবে না। তিনি বলেন, সরকার কোনোক্রমেই দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মচারীদের কোনো সুরক্ষা দেবে না। তবে অবশ্যই সৎ কর্মচারীদের সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

সাংবাদিকরা ফাঁদ মামলার পরিণতি জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ফাঁদ মামলা চলবে। যে কোনো আইনেই দুদকের দায়িত্ব পালনে কোনো সমস্যা হবে না। ঘুষখোরদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ভবিষ্যতে দুদক আর কখনোই নখদন্তহীন প্রচারণায় পা দেবে না। দুর্নীতিবাজরা এই আশায় থাকলে ভুল করবে।

সরকারি কর্মচারী আইনের কারণে কমিশনের ক্ষমতা খর্ব হবে কি-না জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ক্ষমতা শব্দটিতে আমার আপত্তি রয়েছে। কারণ এটি দায়িত্ব পালনের বিষয়, ক্ষমতার কোনো বিষয় নয়। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন অনুসারে দুদক তার কার্যক্রম পরিচালনায় একটি স্বাধীন সংস্থা। দুদকের এই আইনি স্বাধীনতার কারণেই এর কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে অন্য কোনো সংস্থার অনুমতির প্রয়োজনীয়তা নেওয়া সমীচীন হবে না। তাই যতদিন আইনি প্রক্রিয়ায় দুদককে পরাধীন করা হচ্ছে না, ততদিন অন্য কারো অনুমতির প্রয়োজন নেই। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের ইচ্ছায় যে আইন প্রণীত হবে তা আমাদের সবাইকে মেনে চলতে হবে।

গত ২০ আগস্ট মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, ফৌজদারি ও দুর্নীতির মামলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেফতার করতে সরকারের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম ওইদিন বলেন, ‘ছয়টি বিধিমালা দ্বারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়ন, শৃঙ্খলাবিধিসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।’