• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১০ মহররম ১৪৪০
BK
পথে পথে ভোগান্তি

কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ

কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ
সংগৃহীত ছবি

আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে গত শনিবার থেকে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। গত রোববার ঢাকা ফেরা মানুষের চাপ বাড়ে। সেদিন থেকেই প্রায় অচল রয়েছে রাজধানী ও দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম নৌপথ শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাট। ঢাকার সঙ্গে দেশের অন্যান্য জেলার সড়ক যোগাযোগে তেমন ভোগান্তি না থাকলেও শিডিউল বিপর্যয়ে ভুগতে হচ্ছে ট্রেন যাত্রীদের। পথে ও ঘাটে এমন ভোগান্তির পর নগরবাসীকে নাকাল হতে হচ্ছে ফাঁকা ঢাকার পরিবহন চালকদের কাছে।

ঈদের নির্ধারিত ছুটি গত ২৩ আগস্ট শেষ হলেও শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ঢাকা ফেরার মূল যাত্রাই শুরু হয় রোববার থেকে। আর গতকাল সোমবার ঢাকা ফেরা মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল কমলাপুর রেলস্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলোতে।

রংপুরে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করে রোববার ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা মেহেরুল্লাহ মিঠু। রংপুর এক্সপ্রেসের ৮ ঘণ্টার শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে ফিরতি ট্রেন যাত্রাটা তেমন সুখের হয়নি এই ব্যাংক কর্মকর্তার। মেহেরুল্লাহ মিঠু বলেন, ঈদের সময় দুই তিন ঘণ্টা ট্রেন লেট হতে পারে এটা মাথায় রেখেই বাড়ি থেকে বের হয়েছিলাম। কিন্তু ট্রেন আসে ৮ ঘণ্টা দেরিতে।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ঈদে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোতে সময়ের তেমন একটা হেরফের হয়নি। কিন্তু ফিরতি যাত্রায় বেশ কয়েকটি ট্রেনের শিডিউল পরিবর্তন হয়েছে। একটা ট্রেন যাত্রী নিয়ে আসার পর সেটা আনলোড (যাত্রী ও মালামাল নামানো) হতেই স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা বেশি সময় লেগে যায়, আবার যাত্রী ওঠাতেও একই রকম সময় লাগে। সব মিলিয়ে একটা ট্রেন আসা যাওয়ার শুরুতেই তিন ঘণ্টার শিডিউল হেরফর হয়ে যায়।

এদিকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় ঢাকায় ফেরা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের। নাব্য সঙ্কটের কারণে রোববার থেকেই শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ঘাটের ফেরি চলাচল ছিল সীমিত। আর তা একপর্যায়ে পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হয় ঘাট কর্তৃপক্ষকে। প্রায় ১২ ঘণ্টা বন্ধ রাখার পর গতকাল সোমবার সকাল ৭টা থেকে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ফেরিরুটের সব ফেরিই চলাচল শুরু করে। কিন্তু ৫ ঘণ্টার মাথায় তা আবার অচল হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে ঢাকা ফেরা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের। গতকাল বিকাল ৫টা নাগাদ সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ফেরি রুটের ফের নাব্য সঙ্কটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ ঘাটের উভয় পাশে পার হওয়ার অপেক্ষায় শত শত যানবহন আটকা পড়ে আছে।

ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় রাজধানী থেকে দক্ষিণাঞ্চলে চলাচলকারী যাত্রীবাহী অধিকাংশ বাসই লঞ্চের মাধ্যমে যাত্রী পারাপার করেছে। খুলনা-ঢাকা রুটের পর্যটক পরিবহনের সায়েদাবাদ কাউন্টার ম্যানেজার সারোয়ার হোসেন জানান, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ঈদের ফিরতি যাত্রার সবগুলোই ফেরি পারপার কোচ বাতিল করে তা লঞ্চ পারাপার করা হয়েছে।

ফাল্গুনী মধুমতী পরিবহনের সুপারভাইজার মো. মাসুদুর রহমান বলেন, খুলনা থেকে গত সোমবার বেলা ১১টায় কাঁঠালবাড়ী ঘাটে পৌঁছালেও প্রায় দেড়শ গাড়ির পেছনে সিরিয়াল দিতে হয়েছে। তখনো ফেরি চলছিল। হঠাৎ দুপুর ২টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হেড অফিসে কথা বলে যাত্রীদের লঞ্চে পার করে তারপর বিকল্প বাসে ঢাকায় পৌঁছেছি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ চ্যানেলে নাব্য সঙ্কট দেখা দিলে রোববার বিকাল ৫টা থেকে গতকাল সোমবার সকাল ৭টা পর্যন্ত সব ধরনের ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এ সময় নাব্য ফিরিয়ে আনতে চ্যানেলটিতে ড্রেজিংয়ের কাজ চলতে থাকে। সোমবার সকাল ৭টা নাগাদ নৌরুটটির নাব্য অনুকূলে আসলে ফেরি চলাচল শুরু হয়। এ সময় ৫টি ড্রাম, ৬টি কে টাইপ, তিনটি মধ্যম আকারের এবং একটি ছোট ফেরির মাধ্যমে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হয়। অন্যদিকে চ্যানেলটি বড় আকারের (রো অ্যান্ড রো) ফেরি চলাচলের উপযুক্ত না হওয়ায় বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ও শাহপরান ফেরি দুটো প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে মাঝিকান্দি রুটে চলাচল শুরু করে। দুপুর ২টা নাগাদ আবারো চ্যানেলটিতে নাব্য সঙ্কট দেখা দিলে তিনটি কে টাইপ ও দুটি ড্রাম ফেরি চরে আটকে পড়ে।

বিআইডব্লিউটিএ’র শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, প্রায় ১২ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ রেখে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী চ্যানেলটি ড্রেজিংয়ের কাজ করা হয়। কিন্তু মাত্র ৫ ঘণ্টা এই রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখা গেছে। আবারো নাব্য সঙ্কটের কারণে ফেরি চলাচল সীমিত করা হয়েছে। আশা করছি মঙ্গলবার থেকে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থল ঢাকা, সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জমুখী শত শত যাত্রী আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে এসে বাস না পেয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহায়। গতকাল সোমবার এ দুটি ঘাটে দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের যানবাহনের অভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। মানুষ ও যানবাহনের বাড়তি চাপ রয়েছে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায়। গতকাল বিকাল পর্যন্ত ৪ শতাধিক যানবাহন সিরিয়ালে আটকা পড়ে। বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আবদুল্লাহ জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যানবাহন পারাপারে বর্তমানে ১৯টি ফেরি চলাচল করছে।

অপরদিকে, ফাঁকা ঢাকায় ফিরে গণপরিবহনের চালকদের কাছে নাকাল হতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। গণপরিবহন সঙ্কট থাকায় সিএনজি অটোরিকশা, ট্যাক্সি-ক্যাব ও অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ার পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে ঢাকা ফেরা সাধারণ যাত্রীদের। তবে নির্ধারিত ভাড়ায়ও মিলছে না এসব বাহন। তিন থেকে চার গুণ বেশি ভাড়া হাঁকছে রিকশাচালকরা। রাস্তা ফাঁকা থাকার অজুহাতে মিটারে যেতে নারাজ সিএনজি অটোরিকশা।

ঈদ উদযাপন শেষে গত সোমবার সকালে গুলিস্তান বাস টার্মিনালে পৌঁছান প্রকৌশলী ইব্রাহিম কবীর। ঢাকায় পৌঁছে টার্মিনালে পরিবহনের সঙ্কটে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাকে। ইব্রাহিম কবীর বলেন, অন্যান্য সময় বাস টার্মিনালে যাত্রীর তুলনায় সিএনজি, ট্যাক্সির সংখ্যা বেশি থাকে। কিন্তু ঈদে ফেরার পর দেখা যায় একটা সিএনজির জন্য ১০ জন যাত্রী অপেক্ষা করছে। আর এই সুযোগেই ড্রাইভাররা ভাড়া বাড়িয়ে দেয়।