• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৪ মহররম ১৪৪০
BK
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা নিয়ে ফখরুল

প্রকৃত অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি চায় বিএনপি

প্রকৃত অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি চায় বিএনপি
সংরক্ষিত ছবি

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রকৃত অপরাধীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় বিএনপি। গতকাল সোমবার দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ওই ঘটনার জন্য বিএনপি তখনো নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে, এখনো জানায়। প্রকৃত অপরাধীদের বিচার চাই আমরাও। কারণ এমন নির্মম অরাজনৈতিক ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় রাজনীতিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পরিণতি সম্পর্কে পুনরায় ভাবার জন্য সরকারের প্রতি পরামর্শ দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানকে দেশের স্বার্থে একান্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে করে। সরকারের উচিত নতুন সঙ্কট সৃষ্টির পরিবর্তে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২১ আগস্ট মামলাকে পুঁজি করে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় দল বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য সরকার নগ্ন প্রয়াস চালাচ্ছে। গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘিরে সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে আইনমন্ত্রী, সেতুমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীনদের দায়িত্বশীল নেতারা যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা কখনো কাম্য হতে পারে না। কেননা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচার চলাকালেও এমন হয়েছে এবং তার ফলাফল মামলার রায়ে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০৭ সালে শেখ হাসিনা সাব-জেলে বন্দি থাকার সময় এই মামলার (গ্রেনেড হামলা) পঞ্চম তদন্ত কর্মকর্তা ফজলুল কবির তাকে (শেখ হাসিনা) জিজ্ঞেস করলে ১৬১ ধারায় গৃহীত জবানবন্দিতে তিনি (শেখ হাসিনা) কোথাও খালেদা জিয়া কিংবা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মামলার (ভিকটিম) চার্জশিটভুক্ত দুই নম্বর সাক্ষী থাকার পরও তিনি আদালতে আসেননি, সাক্ষ্য দেননি, কোনো কথা বলেননি এবং সহযোগিতাও করেননি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর পরই বিএনপির পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানানো হয়, উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু শেখ হাসিনা তদন্ত কাজে অসহযোগিতা করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত বিতর্কিত কর্মকর্তা আবদুুল কাহার আকন্দের পেশকৃত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্যই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। শেখ হাসিনাও বলে আসছেন এই হামলার ষড়যন্ত্রের জন্য দায়ী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। কিন্তু আজ পর্যন্ত শেখ হাসিনা কোনো তদন্ত কর্মকর্তা কিংবা আইনজীবীকে কখনো খালেদা জিয়া কিংবা তারেক রহমান তাকে হত্যা করতে চেয়েছেন বলেননি। এই মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানোর বিষয়টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দুরভিসন্ধিমূলক ছাড়া কিছু নয় বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করেন, সরকার বিচার বিভাগকে দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ইচ্ছা পূরণের অপচেষ্টা করছে। বিচারক নয়, এখন কোন মামলার রায় কী হবে, কবে হবে, তা ঠিক করেন আইনমন্ত্রী।

‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের পর বিএনপি নেতৃত্ব-সঙ্কটে পড়বে’— আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই কথার অর্থ হলো তিনি (ওবায়দুল কাদের) জানেন যে কী রায় হতে যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বলা এসব বক্তব্যকে কোনো বিচারেই গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার কিংবা আইনের শাসনের পক্ষে বলা যাবে না। একমাত্র স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই শুধু এমন ঘটনা সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নাল আবেদীন, আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল, সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।