• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১২ মহররম ১৪৪০
BK

এলাচ চাষে সাফল্য

এলাচ চাষে সাফল্য

পোলাও, মাংস, মিষ্টান্ন; বাঙালির রান্নায় সুগন্ধ ছড়াতে এলাচ অন্যতম প্রধান মশলা। এলাচের রয়েছে অসংখ্য ঔষধি গুণ। আমাদের দেশে বর্তমানে ২২টি দেশ থেকে ৯ ধরনের মশলা আমদানি করা হয়। প্রতি বছর গড়ে প্রায় দেড় লাখ টন মশলা আমদানি হয়, যার বাজারমূল্য হাজার কোটি টাকারও বেশি। এলাচ একটি দামি মশলা। দেশের খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বড় দানা এলাচের দাম ১৬০০ টাকা, মাঝারি দানা এলাচ ১৪০০ টাকা ও ছোট দানার এলাচ ১২০০ টাকার মতো। তাই আমাদের দেশেও এলাচ চাষ হতে পারে লাভজনক। 

আশার খবর হচ্ছে, যশোরের বেনাপোল পৌরসভার নারানপুর গ্রামের শাহজাহান বাংলাদেশের প্রথম এলাচ চাষি। তিনি ২০১১ সালে ইন্টারনেট থেকে এলাচ চাষের তথ্য সংগ্রহ করে শখের বসে এলাচ চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। দুই ধরনের জাতের এলাচ উৎপাদন হয়েছে তার জমিতে। এক ধরনের জাত মাটিতে কাণ্ডের সঙ্গে ফলন হচ্ছে, আরেক ধরনের জাতের ফলন হচ্ছে গাছের মাথায়। প্রায় তিন বিঘা জমিতে এলাচ চাষ করেন। তার মতে, অন্য গাছের ছায়াতলে এলাচের ভালো ফলন হয়। এখন তাদের দেখাদেখি আশপাশের উপজেলার কৃষকরা চারা সংগ্রহ করে এলাচের বাগান করছেন। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশের উর্বর জমি এলাচ চাষের উপযোগী। এলাচ চাষে আলাদা কোনো জমির প্রয়োজন হয় না। যে কেউ বাড়ির আঙিনা অথবা ফলদ বৃক্ষের বাগানে এলাচ চাষ করতে পারবেন। সুগন্ধি এই মশলা এলাচ চাষের বিস্তৃতি ঘটাতে পারলে এলাচ আমদানি নির্ভরতা অনেকটা কমানো সম্ভব হবে। এই দামি মশলা এলাচ চাষে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার রেজাউল ইসলাম।  মাত্র এক শতক জমিতে ১০-১৫টি চারা রোপণ করলে সেখান থেকে এক হাজারেরও বেশি গাছ জন্মায়। তার নার্সারি ও বাড়িতে মিলে প্রায় এক হাজার গাছে ফল এসেছে। প্রথম তিন বছর কোনো ফল না এলেও নিয়মিত পরিচর্যার ফলে গত বছর থেকে ফল আসতে শুরু করেছে। আর এখন তিনি উৎপাদিত এলাচ নিজের চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। -ফিচার ডেস্ক