• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ সফর ১৪৩৯
BK

দৃষ্টিনন্দন ফুলবাড়িয়া থানা মসজিদ

দৃষ্টিনন্দন ফুলবাড়িয়া থানা মসজিদ
সংগৃহীত ছবি

মো. আবদুল হালিম 

১৯৬৭ সালে স্থাপিত হয় ফুলবাড়িয়া থানা। একটি টিনশেড ঘরে থানার সব কার্যক্রম চলে দীর্ঘ কয়েক যুগ। ২০১২ সালে নির্মিত হয় আধুনিক দ্বিতল থানা ভবন। থানা ভবনের উন্নয়ন হলেও অন্যান্য অবকাঠামোর কোনো উন্নয়ন হয়নি বললেই চলে। ২০১৭ সালের মে মাসে অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন শেখ কবিরুল ইসলাম। তিনি যোগদান করার পর থেকে পাল্টে যায় থানার দৃশ্যপট। নিজ উদ্যোগে ও সবার সহযোগিতা নিয়ে থানার অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ শুরু করেন তিনি। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সবার দৃষ্টি কাড়ছে থানার দ্বিতল আধুনিক জামে মসজিদটিও।

ফুলবাড়িয়া-ময়মনসিংহ প্রধান সড়কের পাশেই ফুলবাড়িয়া থানা। থানায় প্রবেশ পথে করা হয়েছে গোলাপের বাগান। থানা ভবন থেকে প্রায় ৬৫ মিটার দক্ষিণে থানা জামে মসজিদটি অবস্থিত। ৪৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট প্রস্থের মসজিদের ভেতরে-বাইরে সম্পূর্ণ টাইলস করা। দৃষ্টিনন্দন মসজিদটির ৬০ ফুট লম্বা মিনারের ওপর ১০ ফুট উঁচু গম্বুজ সম্পূর্ণ অত্যাধুনিক টাইলস দিয়ে করা হয়েছে। কারুকাজ সংবলিত স্টিলের তৈরি দর্শনীয় গেইট, উন্নত মানের রঙিন থাইগ্লাস ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দরজা-জানালা। নতুন করে মেরামত করা হয়েছে মেহরাব কক্ষ। এছাড়াও তৈরি করা হয়েছে আধুনিক অজুখানা, দুটি টয়লেট ও দুটি প্রস্রাবখানা। মসজিদের চারদিকে তৈরি করা হয়েছে ইট দিয়ে সীমানা প্রাচীর। মসজিদের সঙ্গেই রয়েছে ফুল ও ড্রাগন ফলের বাগান। সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ফুল ও ফলের বাগানে করা হয়েছে নানা রঙের লাইটিং। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে প্রধান সড়ক ও থানা থেকে মসজিদে প্রবেশের সড়কটুকু পার্কিং টাইলস দিয়ে করার পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে লাগানো হয়েছে ফুল ও ফলের গাছ। এককথায় দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি উপজেলাবাসীকে সবচেয়ে আকৃষ্ট করেছে।

২ একর ২৪ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ফুলবাড়িয়া থানা। চারদিকে রয়েছে বিশাল সীমান প্রাচীর। সীমানা প্রচীরের ভেতরে আলাদাভাবে করা হয়েছে বিভিন্ন ফুল ও ফলের বাগান, শিশুবান্ধব ডেস্ক, এলইডি লাইটিং, পুলিশ কনফারেন্স রুম, গাড়ি পার্কিং রাখার ঘর, সোলার প্যানেল স্থাপন, খাবারের জন্য ডাইনিং রুম, কনস্টেবলদের জন্য গোসলখানা, ওয়াশরুম। অফিসারদের সরকারি বাসভবনের সামনের পতিত জায়গায় করা হয়েছে মিনিপার্ক। বর্তমানে থানার অবকাঠামো উন্নয়ন ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ দেখলে যে কারো মন কেড়ে নেয়। শেখ কবিরুল ইসলাম থানার সৌন্দর্যবর্ধনে যেমন ছিলেন যত্নবান, তেমনি উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিলেন কঠোরহস্ত।

গত ৬ আগস্ট থানার উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম (বার) ও পিপিএম।

শেখ কবিরুল ইসলাম ১৯৯০ সালে সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে পুলিশে যোগদান করেন। ২০০৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ওসি হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। যেসব থানায় ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন সেসব থানায় তিনি নিজ উদ্যোগে অবকাঠামো উন্নয়নসহ ফুল ও ফলের বাগান করেছেন বলে জানিয়েছেন। জনবান্ধব এ পুলিশ অফিসার যোগদান করার পর উপজেলার আইন-শৃঙ্খলারও ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। মামলা-মোকদ্দমাও কম হয়েছে থানায়। থানায় বেশিরভাগ অভিযোগ বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার রেকর্ড করেছেন।

প্রবীণ সাংবাদিক রফিক আহামেদ মিঠু বলেন, অনেক ওসি ফুলবাড়িয়া থানায় চাকরি করেছেন। তাদের চেয়ে অনেক দিক থেকে ভিন্নতা রয়েছে বর্তমান অফিসার ইনচার্জ শেখ কবিরুল ইসলামের। নিজ উদ্যোগে থানা মসজিদ ও অবকাঠামো উন্নয়ন যে করেছেন তাতে তিনি প্রশংসার দাবি রাখেন। শ্রদ্ধাভরে তাকে ফুলবাড়িয়াবাসী আজীবন মনে রাখবে।

থানা মসজিদের খতিব মাওলানা মো. এমদাদুল হক বলেন, প্রায় এক যুগ যাবৎ থানা মসজিদের খতিবের দায়িত্ব পালন করে আসছি। মসজিদের অজুখানা, টয়েলেট-প্রস্রাবখানা ছিল অত্যন্ত নাজুক, মসজিদের মেহরাব পুকুরের ভাঙনের কবলে ছিল, ওসি স্যার (শেখ কবিরুল ইসলাম) যোগদান করার পর ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য থানা মসজিদের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এখনো উন্নয়ন কাজ চলছে, মনে হয় উপজেলার মধ্যে থানা মসজিদটি বর্তমানে সবচেয়ে আধুনিক। মসজিদটির দিকে তাকালে যে কারো দৃষ্টি কাড়ে।

ফুলবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ কবিরুল ইসলাম বলেন, ফুল ও ফলের বাগান সমাজে কে না ভালোবাসে? প্রতিদিন থানায় অনেক মানুষ সেবা গ্রহণ করতে আসেন, কার মনে কী আছে বলা তো যায় না। মিথ্যা ঘটনায় কাউকে হয়রানি করতে এলে, থানার মসজিদ ও পরিবেশ দেখে তাদের মনের পরিবর্তন ঘটতে পারে। আমার আগের স্টেশনগুলোতে যতটুকু পেরেছি উন্নয়ন করেছি। পরিকল্পিতভাবেই মসজিদসহ থানার ভেতরে এবং অফিসার কোয়ার্টারে উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। থানার বিভিন্ন উন্নয়নে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক সহযোগিতা ছিল।

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি