• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৮ সফর ১৪৩৯
BK

আ.লীগ শিক্ষা খাতে খরচ নয়, বিনিয়োগ করে: প্রধানমন্ত্রী

আ.লীগ শিক্ষা খাতে খরচ নয়, বিনিয়োগ করে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষার জন্য আমরা যা খরচ করি, সেটাকে আমি কখনোই খরচ হিসেবে মনে করি না। এটাকে আমি বিনিয়োগ মনে করি, ভবিষ্যতে দেশ গড়ার জন্য শিক্ষিত ও দক্ষ মানুষ গড়ার জন্য এই বিনিয়োগ। আওয়ামী লীগ শিক্ষা খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেগম রোকেয়া হলের নবনির্মিত ‘৭ মার্চ ভবন’ ও জাদুঘর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান, সহ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ সামাদ (প্রশাসন), সহ-উপাচার্য নাসরীন আহমাদ, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা গ্রহণযোগ্য নয় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে শৃঙ্খলা মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে হলে; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনে সেরকম আচরণ করতে হবে। সেটাই আমরা আশা করি, জাতি আশা করে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে গত এপ্রিল মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাড়ি ভাংচুর হয়েছিল। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, এতে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে কম খরচে উচ্চ শিক্ষা বাংলাদেশেই দেয়া হয়। তাই এ মর্যাদা শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের খরচে চলতে হয়, এটাই নিয়ম। কিন্তু আমাদের দেশে শতভাগ খরচই সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের দায়িত্ব ভুলে না যায়। কোনও উচ্ছৃঙ্খলতা কাম্য নয়। বরং দেশ গড়ার জন্য তারা যেন নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলে।

শেখ হাসিনা বলেন, পরিকল্পিতভাবে দেশকে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করা হবে। রাস্তাঘাট, পুল, ব্রিজ, ফ্লাইওভার থেকে শুরু করে কর্ণফুলী নদীর টানেল পর্যন্ত আমরা নির্মাণ করছি।

৭ মার্চ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চের সঙ্গে আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জড়িত, ৭ মার্চের ভাষণ জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের দিক নির্দেশনা দিয়েছে এবং সেই ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যে স্থান পেয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করায় ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা দুঃখ আছে মনে- আমার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি, তিনি কর্মচারীদের অধিকার আন্দোলনে গিয়ে বহিষ্কৃত হন। আর ১৯৭৫ সালের ট্রাজেডির পর আমিও আমার লেখাপড়া শেষ করতে পারিনি।

নতুন এ ভবন উদ্বোধনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ৭ মার্চ নামে জাদুঘর উদ্বোধন, তরুণ শিক্ষকদের আবাসনের জন্য নির্মিত শহীদ আবুল খায়ের ভবন, এমবিএ ভবন (ইস্টার্ন উইং), চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য বঙ্গবন্ধু টাওয়ার ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনের ফলক উন্মোচন করেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আঁকা হয়েছে ১৯৭১ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৭ ফুট প্রস্থের আলপনা। মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের দিকটি বিবেচনায় নিয়ে এ আলপনা আঁকা হয়।