• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৭ সফর ১৪৩৯
BK

মুদ্রা সঙ্কটে আগস্টে শ্রীহীন উদীয়মান বাজারগুলো  

মুদ্রা সঙ্কটে আগস্টে শ্রীহীন উদীয়মান বাজারগুলো  
সংগৃহীত ছবি

আর্জেন্টিনার মন্দা, তুরস্কের মুদ্রা লিরার দরপতন এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব আগস্টে নাড়িয়ে দেয় বিশ্ব অর্থনীতির ভিত। আর ঘনীভূত মুদ্রা সঙ্কটে গত মাসে সবচেয়ে শ্রীহীন ছিল উদীয়মান বাজারগুলো। 

যুক্তরাজ্যে এমএসসিআই ইমার্জিং মার্কেটে মুদ্রার সূচক আগস্টে কমেছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্য দিয়ে টানা পাঁচ মাসের মতো কমল এ সূচক। আর ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর দীর্ঘ মেয়াদি পতন এটি। তুরস্কে ডলার আমানতে শুল্ক বসানোর পর গত শুক্রবার সে দেশের মুদ্রা লিরার মান কিছুটা বাড়লেও দক্ষিণ আফ্রিকার র্যান্ডের দাম পড়ে যায়। এশিয়ার দেশগুলোয়ও দেখা যাচ্ছে মুদ্রা সঙ্কট। গত শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা রুপিয়ার মান ১৯৯৮ সালের পর সর্বনিম্নে পৌঁছায়। পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর আগে রুপির কখনো এমন দরপতন হয়নি। উদীয়মান সম্পদ শ্রেণির সাম্প্রতিক উদ্বেগের মূল কারণ আর্জেন্টিনা। সে দেশের মুদ্রা পেসোর রেকর্ড দরপতন নীতিনির্ধারকদের সুদ হার ৬০ শতাংশে উন্নীত করার প্ররোচনা দিচ্ছে। অন্যদিকে এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, লিরার দরপতনের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদত্যাগ করতে চলেছেন। এ ছাড়া আগামী সপ্তাহের মধ্যেই চীনা পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  

টোকিওর এফপিজি সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কোজি ফুকায়া বলেন, আর্জেন্টিনার সঙ্কটই সম্ভবত বিনিয়োগকারীদের দুর্বল ভিতের উদীয়মান বাজারের দিকে নজর দিতে বাধ্য করবে। যেমনটা দেখা গেছে তুরস্কে। দুর্বল ভিতের অর্থনীতিতেই বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করে থাকেন স্বল্প মেয়াদে মুনাফা অর্জনের আশায়। তিনি আরো জানান, মন্দা মোকাবেলায় আর্জেন্টিনাকে ঋণ সহায়তা দেবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে কোনো মৌলিক উন্নতি না হওয়ায় সে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসবে না। মুদ্রার সঙ্গে গত মাসে অস্থিতিশীল ছিল উন্নয়নশীল অর্থনীতির বেশিরভাগ পুঁজিবাজার। এ সময় তাদের ইকুইটি সূচক হারিয়েছে ৩ শতাংশের বেশি। গত মাসে ডলারের বিপরীতে আর্জেন্টিনার পেসোর দাম কমেছে ২৯, তুরস্কের লিরা ২৫ শতাংশ। এ সময় চাঙ্গা ছিল থাই বাথ ও দক্ষিণ কোরিয়ার ওনের বাজার। আগস্টে বাথ ও ওনের দর বাড়ে যথাক্রমে ১ দশমিক ৭ ও দশমিক ৫ শতাংশ।  সূত্র : ব্লুমবার্গ