• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৪ মহররম ১৪৪০
BK

নির্বাচন ইনশাল্লাহ হবে: প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচন ইনশাল্লাহ হবে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের জনগণ সঙ্গে থাকলে নির্বাচন হবে। ইলেকশন ঠেকানোর মতো কারও কোনো শক্তি নেই। এই দেশটা আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। সে কারণে এ দেশের মানুষের জন্য কাজ এবং উন্নয়ন করা দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে মনে করি।

বিমসটেক সম্মেলনে যোগদান শেষে দেশে ফিরে আসার পর আজ রোববার সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ যদি এ দেশের উন্নয়ন চায় তাহলে নৌকা মার্কায় ভোট দেবে। যদি আবার আমরা ক্ষমতায় যেতে পারি তাহলে এ দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখব এবং ২০২১ সালে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। দেশের মানুষ উন্নত জীবন পাবে। আর আমরা যদি ক্ষমতায় না আসতে পারি তাহলে যারা এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন তারা আবার ক্ষমতায় আসবে। তারা আবার দেশের সম্পদ লুটপাট করবে এটাই বোধ হয় ভালো।

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকে কাজ করে যাচ্ছি। বাবা-মার কাছ থেকে এই শিক্ষা পেয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন হবে। সুদখোর, ঘুষখোরদের কেন মানুষ নির্বাচিত করবে? একটি কথা আছে, ফাঁকা হাঁড়ি বাজে বেশি। রাজনৈতিক জোট হোক, একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই। নির্বাচন হবে, নির্বাচন ঠেকানোর শক্তি কারও নেই। ষড়যন্ত্র আছে, থাকবে। তাই বলে ভয় করে ঘরে বসে থাকলে চলবে না। মৃত্যু লেখা থাকলে, হবে। হয়তো গুলি, বোমা খেয়ে মরতে হবে। বিমানের বল্টু খুলে গেল, মরি নাই তো। যত দিন বেঁচে থাকব, কাজ করে যাব।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নই আসে না। তারা ডাক দিচ্ছে, হুংকার দিচ্ছে ভালো। আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। তাতে বাধা দেওয়ার কিছু নেই। নির্বাচনে আসবে কিনা তাদের ব্যাপার। সরকারের কিছু করার নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। আমার তো একটা আত্মসম্মান বোধ আছে। আমি বারবার অপমানিত হতে কেন যাব?

ইভিএম মেশিনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাড়াহুড়া করে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। এটি নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হোক।

ইভিএম নিয়ে বিএনপি অনেক বেশি সোচ্চার। কারণ বিএনপি কারচুপির মাধ্যমে জয়ী হতে পছন্দ করে। ব্যালট পেপারে নির্বাচন হলে একেকজন একাধিক ভোট দিতে পারে, তখন বিএনপির নেতা-কর্মীরা কারচুপির মাধ্যমে ব্যালট বাক্স ভরাতে পারে। মাগুরা, ঢাকা-১০ আসনের মতো নির্বাচন করতে চায় বিএনপি। ইভিএমে এই সুযোগ নেই, এ কারণে বিএনপি এটি চায় না।’

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য ইভিএম শুরু করা যেতে পারে। এটি নতুন প্রযুক্তি। কিছু কিছু জায়গায় শুরু হলে তো সমস্যা নেই। শহর এলাকায় এটি শুরু করা যেতে পারে। ত্রুটি পেলে বাদ দেওয়া যাবে, এটি নিয়ে বিএনপির এত আপত্তি কেন?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ঘোষণা ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশে গড়ে তুলবো। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার তারই একটি পার্ট। ইভিএম নিয়ে আসার জন্য আমিই পক্ষে ছিলাম। এখনো পক্ষে আছি। তবে হ্যাঁ, তাড়াহুড়া করে ইভিএম চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, টেকনোলজি আমাদের যেমন সুবিধা দেয়, তেমনি বিপদেও ফেলে। ইভিএম প্র্যাকটিসের ব্যাপার। এটি ব্যবহারের আগে আমাদের পরীক্ষা করে দেখতে হবে। কিছু কিছু জায়গায়, বিশেষ করে সিটি নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন পাকিস্তান আমলে ভোটের কোনো অধিকারই ছিল না। জাতির পিতা আন্দোলন করেই ওয়ানম্যান ওয়ান ভোট আদায় করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে ৩০ ও ৩১ আগস্ট নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ‘বে অব বেঙ্গল ইনেশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’ (বিমসটেক) সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। ওই দিন সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি। শুক্রবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দেশে ফেরেন।