• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৮ সফর ১৪৩৯
BK

আজান সম্পর্কে যা না জানলেই নয়

আজান সম্পর্কে যা না জানলেই নয়
সংগৃহীত ছবি

নামাজ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর এই নামাজের জন্য আহ্বান করা হয় আজানের মাধ্যমে। এজন্য আজানও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর এই গুরুত্বপূর্ণ বিধান পালন করার জন্য কিছু মাসয়ালা আছে যেগুলো একজন মুসলিম হিসেবে অবশ্যই জানা থাকতে হবে।

নামাজের আগে আজান দেওয়া হয় কিন্তু আজান দিলেই কি আজান সহীহ হবে? না আজান সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হলো, নামাজের সময়ে হওয়া। সুতরাং নামাজের সময় হওয়ার পূর্বে আজান দিলে আজান শুদ্ধ হবে না। বরং সময় হওয়ার পর আবার আজান দিতে হবে। কেউ সুবহে সাদিকের পূর্বে ফজরের আজান দিল অথবা জোহরের ওয়াক্ত আসার পূর্বে আজান দিল ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে ওয়াক্ত আসার পর পুনরায় আজান দিয়ে নামাজ আদায় করতে হবে (আহসানুল ফতোয়া)।

আমাদের মসজিদগুলোতে সাধারণত পুরুষরা আজান দিয়ে থাকে। কোনো মসজিদে যদি নারী বা মহিলা নিয়মিত আজান দেয় তাহলে কি আজান সহীহ হবে? কোনো মহিলা যদি আজান দেয় তাহলে আজান সহীহ হবে না। আজান বুঝমান পুরুষকেই দিতে হবে। মহিলাদের জন্য আজান দেওয়া নাজায়েজ। সুতরাং কোনো মহিলা যদি আজান দিয়ে থাকে তাহলে পুনরায় আজান দিতে হবে (দুররুল মুখতার)।

অনেককেই দেখা যায় আজান শেষ হওয়ার পর দুই হাত তুলে দোয়া করে। এই বিষয়টি আসলে কী? আজানের পর এইভাবে হাত তুলে দোয়া করার কোনো বিধান কি ইসলামে আছে? আজানের পর দোয়া করার বিষয়টি প্রমাণিত। কিন্তু হাত তুলে দোয়া করার কথা কোথাও নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.), সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তাবে তাবঈনদের যুগে এই আমল ছিল না। এজন্য আজানের পর হাত তুলে দোয়া করা বিদআত। হজরত ওমর (রা.) থেকে একটি রেওয়াত আছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত জনৈক সাহাবি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! মুয়াজজিন আমাদের থেকে বেশি মর্যাদার অধিকারী হচ্ছে। রাসূল (সা.) বললেন, আজানের সময় মুয়াজজিন যা বলে তোমরাও তা বল। তারপর আজান শেষে আল্লাহর কাছে দোয়া কর। আল্লাহ পাক দান করবেন (আবু দাউদ শরিফ)।

সাহাবায়ে কেরাম আজানের পর দোয়া করেছেন, কিন্তু হাত তুলে দোয়া করেছেন এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। একটি হাদিসে এসেছে, হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আজান শ্রবণের পর যে ব্যক্তি আজানের দোআ পড়বে, কিয়ামতের দিন আমার পক্ষে তার জন্য সুপারিশ করা ওয়াজিব হয়ে  যাবে (আবু দাউদ শরীফ)।

লেখক : সাংবাদিক