• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
BK
চলনবিলে নৌকাডুবি

১০ জনকে বাঁচিয়ে পুরস্কৃত শিশু সুমন

পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার, অভিযান সমাপ্ত
১০ জনকে বাঁচিয়ে পুরস্কৃত শিশু সুমন
সংগৃহীত ছবি

চলনবিলে নৌকাডুবির পর নিজের ছোট্ট ডিঙি নিয়ে ১০ জনকে উদ্ধার করায় শিশু সুমন হোসেনকে পুরস্কার দিয়েছে পাবনা জেলা প্রশাসক। সুমন হান্ডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ও পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল পাইকপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক আবদুস সামাদ ও সুফিয়া খাতুনের ছেলে। সুমনের এ সাহসিকতার খবর শুনে শনিবার জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার দেন।

এদিকে চলনবিলে ভ্রমণের সময় নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ বাকি দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে লাশ দুটি উদ্ধারের পর উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেছে ফায়ার সার্ভিস ও ডিফেন্স। পাবনা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক কেএম সাইফুল ইসলাম সকাল ৯টায় অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেন। গতকাল যাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয় তারা হলেন- ঈশ্বরদী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন গনি ও ঈশ্বরদী আমবাগান এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম স্বপন বিশ্বাস। এর আগে রফিকুল ইসলাম স্বপন বিশ্বাসের মেয়ে সাদিয়া খাতুন, কলাম লেখক ঈশ্বরদীর মোশারফ হোসেন মুসার স্ত্রী শাহনাজ পারভীন পারুল ও বিল্লাল হোসেন গনির স্ত্রী মমতাজ পারভীন শিউলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শনিবার পুরস্কার দিতে গিয়ে জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সুমন স্বেচ্ছাশ্রমে একজন বীর। তার শিক্ষা সহায়তায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। সুমনসহ তার পরিবারকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে সব শিশুকে তার মতো এমন মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় চলনবিলে ২২ যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা ডুবে যায়। এতে পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটে।

পুরস্কার পাওয়া সুমন বলে, ‘আমার ছোট নৌকাটি ধরে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারায় আমি খুশি।’

সেদিনের ঘটনার কথা বলতে গিয়ে সে বলে, ঘটনার সময় নৌকাটির ছইয়ের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রীরা সেলফি তুলতে গিয়ে মাচা ভেঙে যায়। এ সময় সবাই তাড়াহুড়ো করে মাচা থেকে নামতে গিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। ওই নৌকার যাত্রীদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সুমন তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যায়।

ওই সময় সুমন ছোট একটি ডিঙি নৌকায় প্রতিবেশী এক চাচাকে পার করে বাড়ি ফিরছিল। বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা তার ডিঙি ধরে ভেসে বিলের পাড়ে আসে বলে জানায় সে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদেরও উদ্ধার কাজে সহায়তা করেছে এ শিশু।

ওই এলাকার বাসিন্দা ও গজাইল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাকির সেলিম বলেন, অন্যের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসা শিশু সুমনের কর্মযজ্ঞ বড়দের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

হান্ডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমার বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী মানবতার সেবায় যে ভূমিকা রেখেছে, তাতে আমি গর্ববোধ করি।