• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ সফর ১৪৩৯
BK
পাবনায় পেট্রোল ঢেলে কলেজছাত্রী হত্যা

দায়ীদের শাস্তি চাইলেন বাবা

দায়ীদের শাস্তি চাইলেন বাবা
সংগৃহীত ছবি

পাবনায় কলেজছাত্রী মুক্তির হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন তার বাবা মোজাম্মেল হক। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তিনি। গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি।

জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ১৮ আগস্ট পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন ও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের মেয়ে মুক্তি খাতুনের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় প্রতিপক্ষের লোকজন। এতে মারাত্মক দগ্ধ মুক্তিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১০ দিন মৃত্যু যন্ত্রণায় ভুগে গত ২৭ আগস্ট মারা যান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক বলেন, সন্তান হারানোর বেদনা নিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ বিচার করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। এ সময় তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন এই মুক্তিযোদ্ধা।

পুলিশ, এলাকাবাসী, পরিবারের সদস্যদের সূত্র জানায়, নাগডেমরা গ্রামের একটি উন্মুক্ত জলাশয়ের দখলকে কেন্দ্র করে মুক্তির বাবা মোজাম্মেল হকের সঙ্গে একই গ্রামের আবদুস সালাম ও তার লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত ২ আগস্ট সালামের লোকজন মুক্তিদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ ঘটনার পর থেকে এলাকা ছাড়া মুক্তির পরিবারের সদস্যরা। পরে পুলিশ ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের আশ্বাসে পরিবারের লোকজন নিয়ে বাড়ি ফেরেন মোজাম্মেল হক। ঈদুল আজহার পর প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষকে নিয়ে বিরোধটির মীমাংসা করারও আশ্বাস দেওয়া হয় পুলিশ ও চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে। কিন্তু ১৮ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে আবদুস সালামের নেতৃত্বে প্রায় ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল মোজাম্মেল হকের বাড়িতে আক্রমণ চালায়। এ সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য ছিল না। প্রতিপক্ষের লোকজন মুক্তিকে উঠানে ধরে এনে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের দর্শন বিষয়ের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মুক্তি খাতুন ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন।