• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ সফর ১৪৩৯
BK
উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আকাশবীণার বাণিজ্যিক যাত্রা বুধবার

আকাশবীণার বাণিজ্যিক যাত্রা বুধবার
ছবি : সংরক্ষিত ছবি

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনস বিমান বাংলাদেশের বহরে যুক্ত হওয়া বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ ‘আকাশবীণা’র প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু হবে আগামীকাল বুধবার ঢাকা-কুয়ালালামপুর-ঢাকা রুটে যাত্রার মাধ্যমে। ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

বিমানের সূত্র জানায়, আগামীকাল বুধবার দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ আকাশবীণার বাণিজ্যিক যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। শাহজালালের ভিআইপি টার্মিনাল সংলগ্ন মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। ওইদিন সন্ধ্যায় আকাশবীণা ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে প্রথম বাণিজ্যিক যাত্রা করবে। ইতোমধ্যে প্রথম ফ্লাইটের সব টিকেট বিক্রি শেষ হয়েছে। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করার কথা থাকলেও তারিখ পরিবর্তন করে ৫ সেপ্টেম্বর বুধবার নির্ধারণ করে বিমান কর্তৃপক্ষ।

২০০৮ সালে বিমান চারটি ড্রিমলাইনারসহ মোট ১০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে। এর মূল্য ধরা হয়েছিল ২১০ কোটি মার্কিন ডলার। চুক্তি অনুযায়ী এরই মধ্যে তারা বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর-এর চারটি এবং বোয়িং ৭৩৭-৮০০-এর দুটিসহ মোট ৬টি উড়োজাহাজ বিমানকে সরবরাহ করেছে। ড্রিমলাইনারের দ্বিতীয় উড়োজাহাজটি চলতি বছরের নভেম্বরে এবং বাকি দুটি আসবে আগামী বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। নভেম্বরে দ্বিতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানের বহরে যুক্ত হলে ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা রুটের যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হবে এই উড়োজাহাজ। এর আগে আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-দোহা-ঢাকা ও ঢাকা-কুয়েত-ঢাকা রুটেও সংযোজিত হবে সর্বাধুনিক উড়োজাহাজ ড্রিমলাইনার। 

সূত্র জানায়, গত ১৯ আগস্ট বিকালে আমেরিকার বোয়িং কোম্পানির তৈরি বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রানওয়ে ছুঁয়ে ট্যাক্সি বে’তে আসামাত্রই ওয়াটার ক্যানন স্যালুটের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর নাম দিয়েছেন ‘আকাশবীণা’। গত ২৯ আগস্ট দুপুরে ড্রিমলাইনারের প্রথম পরীক্ষামূলক ফ্লাইট ঢাকা থেকে কলকাতায় যায়। ওইদিন বিকাল পৌনে ৫টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে আসে ড্রিমলাইনার। বিমানের সিনিয়র পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল আহমেদ ও বোয়িংয়ের ক্যাপ্টেন রিচার্ড এম ডেনটন ফ্লাইটটি পরিচালনা করেন।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়তে সক্ষম দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট এই উড়োজাহাজ বিশ্বের যে প্রান্তে থাকুক না কেন ঢাকায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক এর যোগাযোগ থাকবে। বোয়িং ৭৬৭ উড়োজাহাজের চেয়ে ড্রিমলাইনারের ২০ শতাংশ কম জ্বালানি লাগে। এই উড়োজাহাজ টানা ১৬ ঘণ্টা ফ্লাই করতে পারে। আকাশবীণা যুক্ত হওয়ার পর জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনসের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াল ১৫টিতে। এই উড়োজাহাজটিতে মোট আসন রয়েছে ২৭১টি। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি, ইকোনমি ২৪৭টি। বিজনেস ক্লাসের আসনগুলো বানিয়েছে অ্যাসটেলা। ইকোনমি ক্লাসের আসনগুলো হেইকোর বানানো। বিজনেস ক্লাসের ২৪টি আসন ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড হওয়ায় যাত্রীরা আরামদায়কভাবে ভ্রমণ করতে পারবেন। এই উড়োজাহাজের মাধ্যমে বৈশ্বিক এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে বিমানের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। সেই সঙ্গে যাত্রীদের দিতে পারবে আধুনিক প্রযুক্তির সব ধরনের সেবা। ড্রিমলাইনারে বসেই যাত্রীরা পাবেন ওয়াইফাই সুবিধা। এমনকি যাত্রীরা বিশেষ একধরনের ফোনসেটের মাধ্যমে আকাশে ভ্রমণকালীন প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। ফোনে কথা বলা ছাড়াও লাইভ দেখা যাবে বিবিসি, সিএনএনসহ ৯টি টিভি চ্যানেল। ড্রিমলাইনারের ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে দেখা যাবে ব্লকবাস্টার মুভি। শোনা যাবে গান, থাকছে ভিডিও গেমস। ড্রিমলাইনারের রাতের ফ্লাইটের পরিবেশ হবে নির্জন ও শান্ত। ফ্লাইটের ভেতরের পরিবেশ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলবে আলো।

এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ড্রিমলাইনার নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ও পরিকল্পনা রয়েছে।