• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১০ মহররম ১৪৪০
BK

এশিয়াডে ১৫৫২ পদকের একটিও পেল না বাংলাদেশ

এশিয়াডে ১৫৫২ পদকের একটিও পেল না বাংলাদেশ
ছবি : ইন্টারনেট

ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। যেখানে প্রতিটি দেশই দিনে দিনে ভালোর পথে এগিয়ে যায়, সেখানে বাংলাদেশ চলছে পেছনের পথে।  এবারের আসরে ৪৬৫টি সোনা, ৪৬৫টি রুপা আর ৬২২টি ব্রোঞ্জ মিলে মোট ১৫৫২টি পদক ছিল। দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের, একটি ব্রোঞ্জ পদকও জুটল না আমাদের কপালে। তাহলে বিশাল বাজেটের প্রস্তুতির পর বিরাট বহর কেন ইন্দোনেশিয়ায় পাঠানো হয়েছে? প্রশ্ন সেটাই।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ৯ বার এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ করেছে। আগের ৮টি আসর থেকে সর্বসোট ১২টি পদক লাভ করেছে বাংলাদেশ। যার মধ্যে রয়েছে ১টি সোনা, ৫টি রুপা এবং ৬টি ব্রোঞ্জ পদক। ক্রিকেট থেকে ১টি সোনা, ২টি রুপা ও ১টি ব্রোঞ্জসহ ৪টি, কাবাডিতে ৩টি রুপা ও ৪টি ব্রোঞ্জসহ ৭টি এবং বক্সিংয়ে ১টি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে লাল-সবুজের দল। কিন্তু এবার একটি ব্রোঞ্জ পদকও লাভ করতে পারল না বাংলাদেশ। মোট ৩৭টি দেশ কমবেশি পদক জিতেছে। চীন ১৩২টি সোনা, ৯২টি রুপা ও ৬৫টি ব্রোঞ্জসহ ২৮৯টি পদক নিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। জাপান দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে ৭৫টি সোনা, ৫৬টি রুপা ও ৭৪টি ব্রোঞ্জসহ ২০৫টি পদক নিয়ে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এবার ১৫টি সোনাসহ ৬৯টি পদক নিয়ে তালিকায় অষ্টম স্থান লাভ করেছে। আমাদের অন্যান্য পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল, পাকিস্তান, মিয়ানমার ও আফগানিস্তানের মতো দেশ পদক পেলেও বাংলাদেশ কিছুই পায়নি। এমন লজ্জার পরও অলিম্পিক কর্মকর্তারা বিন্দুমাত্র বিচলতি নন।

এশিয়ার ‘অলিম্পিক’ খ্যাত এশিয়ান গেমসের গত কয়েকটি আসর থেকে পদক নিয়েই দেশে ফিরেছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে কাবাডিতে পদকটা ছিল নিশ্চিত। কিন্তু এবার শুধুই হতাশা। একরাশ দুঃখ নিয়ে শূন্য হাতেই ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেওয়া লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা কোনো ইভেন্টেই সফলতা অর্জন করতে পারেনি। ব্যক্তিগত ইভেন্টগুলোতে ছিল লজ্জাজনক পারফরম্যান্স। ট্র্যাকে বা কোর্টে, সব জায়গাতেই অ্যাথলেটরা ছিলেন বিবর্ণ, যা শুধু লজ্জাতেই ফেলেছে দেশকে। বিশেষ করে সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, শুটিং, ভারোত্তোলন, গলফ, রেসলিং ও রোয়িংয়ে তো শুরুতেই বাদ পড়েছেন। চূড়ান্ত পর্বে লড়াইয়ে যোগ্যতাও অর্জন করতে পারেননি। অ্যাথলেট, প্রশিক্ষক এবং কর্মকর্তা মিলে বাংলাদেশ ক্রীড়া দলের সদস্যসংখ্যা ছিল ১৪৪ জন। ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ একটি  ব্রোঞ্জ পদকও জিততে পারেনি। এটা যে কতটা লজ্জা আর কষ্টের, সেটা হয়তো অনুধাবন করতে পারেননি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) কর্মকর্তারা।
এশিয়ান গেমসে যাওয়ার আগে আমাদের ক্রীড়াবিদরা মুখে অনেক আশার বাণী শোনান। কিন্তু গেমসে গিয়ে তাদের পারফরম্যান্স চোখেই পড়ে না। ব্যর্থতার পর নানা অজুহাত দেখান তারা। অজুহাত দেখান আমাদের ক্রীড়া কর্মকর্তারাও, যা কোনো মতেই গ্রহণযোগ্য নয়। যেখানে কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের স্বর্ণপদক জয়ের রেকর্ড রয়েছে, সেখানে এশিয়ান গেমসে একেবারেই শূন্য হাতে দেশে ফেরা মেনে নেওয়া যায় না। এসবের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। 

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার ক্রীড়া আসর সাফ গেমসে প্রতিবার কিছু কিছু পদক পায়। সেটাও একেবারেই কম। আর ওই গেমস বিশ্বের নিম্নমানের ক্রীড়া আসরগুলোর মধ্যে একটি। বাংলাদেশকে এশিয়ান গেমসে এবং অলিম্পিকে পদক পাওয়ার কথা ভাবতে হবে। তার জন্য গাদা গাদা ইভেন্ট নিয়ে, বিপুল অর্থ ব্যয় করে অনুশীলন ক্যাম্প করার কোনো দরকার নেই। যেই যেই ইভেন্টে পদকের সম্ভাবনা রয়েছে, শুধু সেগুলোর জন্য অনুশীলন বা প্রস্তুতি গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে পদকের দিকে। নতুবা বাংলাদেশকে আরো পেছনের দিকে চলে যেতে হবে।