• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১০ মহররম ১৪৪০
BK

জেলার দর্শনীয় স্থান ও পুরাকীর্তি

জেলার দর্শনীয় স্থান ও পুরাকীর্তি
সংগৃহীত ছবি

এ জেলায় বহু দর্শনীয় স্থান ও পুরাকীর্তি রয়েছে। নওগাঁ জেলার দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—  

 

সোমপুর বৌদ্ধ বিহার : নওগাঁ অঞ্চলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও সর্বাপেক্ষা গৌরবময় প্রত্নস্থানটির নাম সোমপুর বৌদ্ধ বিহার। এটি পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার নামেও পরিচিত। হিমালয়ের দক্ষিণের সবচেয়ে বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার হিসেবে এটি আজো বিবেচনা করা হয়। বিহারের চারপাশে ১৪ ফুট দৈর্ঘ এবং ১৩ ফুট প্রস্থের ১৭৭টি কক্ষ ছিল। ধারণা করা হয়, এসব কক্ষে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থাকতেন।  

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারি বাড়ি : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত নিজস্ব জমিদারি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নের কালীগ্রাম পরগনার পতিসর কাছারি বাড়ি। কাছারি বাড়িটি এখন প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের জাদুঘর। প্রদর্শনীর জন্য সংরক্ষিত আছে কবির স্মৃতিময় নানান জিনিসপত্র।  

কুসুম্বা শাহী মসজিদ : নওগাঁর মান্দা উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদ মুসলমান স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। প্রতিদিনই হাজারো মানুষের ঢল নামে পাঁচ টাকার নোটে মুদ্রিত এ মসজিদটিকে ঘিরে। ধর্মের প্রতি অগাধ বিশ্বাস আর ভালোবাসা থেকেই কুসুম্বা মসজিদটি ৯৬৬ হিজরি তথা ১৫৫৮-৫৯ সালে নির্মিত। নবাব শেরশাহ শুরির শাসনামলের শেষ দিকে সুলতান গিয়াস উদ্দীন বাহাদুর শাহের রাজত্বকালে সুলাইমান বা সবর খাঁ নামক এক ধর্মান্তরিত মুসলমান মসজিদটি নির্মাণ করেন।  

জগদ্দল পদ্ম মহাবিহার : নওগাঁ শহর থেকে ভারত সীমান্ত লাগোয়া ধামইরহাট উপজেলা সদর থেকে আট কিলোমিটার দূরে জগদ্দল পদ্ম মহাবিহার। বিহারের পাদদেশই রাস্তা থেকে প্রায় ১৫ ফুট উঁচু। বিহারটি শত শত বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে ছিল। পাল যুগে দ্বাদশ শতকে পাল সম্রাট রামপাল এটি নির্মাণ করেন। মূলত জগদ্দল বিহার ছিল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বৌদ্ধ ধর্মের গ্রন্থগুলো এখানে অনুবাদ করা হতো।  

ভিমের পানটি : নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার মঙ্গলবাড়ি নামক স্থানে ভিমের পানটি অবস্থিত। নওগাঁ জেলা সদর থেকে ৬৭ কিলোমিটার দূরে। কথিত এই পানটি মূলত একটি স্মৃতিস্তম্ভ।  

শালবন জাতীয় উদ্যান : নওগাঁ জেলার একমাত্র প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা ধামইরহাটের বনাঞ্চলকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশের উত্তরাঞ্চলে বিশেষ করে বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার শালবন (বনাঞ্চল) ধ্বংস হলেও নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার মইশড়, দাদনপুর, খয়েরবাড়ী, মোল্লাপাড়া ও জোত মাহমুদপুর মৌজা নিয়ে প্রায় ১ হাজার ২শ’ বিঘা জমির ওপর শালবন (রিজার্ভ ফরেস্ট) এখনো রয়েছে। বনের মধ্যে ঐতিহাসিক আলতাদীঘি, যার দৈর্ঘ্য প্রায় এক কিলোমিটার। আলতাদীঘির উত্তর ধারের বেশ কিছু অংশ ভারতীয় এলাকা হওয়ায় দর্শনার্থী ও পর্যটকদের ভারতের কাঁটাতারের বেড়া ও দু’দেশের আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার দেখার  সৌভাগ্য হবে। 

আদ্যাবাড়ী মন্দির : নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের দেবীপুরে ঐতিহাসিক আদ্যাবাড়ী মন্দির। জেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে নওগাঁ পোরশা সড়কের উত্তর ধারে এই প্রাচীন মন্দিরটি। মন্দিরের নির্মাণশৈলী দেখে ধারণা  করা হয়, পাল রাজত্বকালে কোনো একসময় মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছে। রক্ত করবী, রক্ত কাঠমালিকা, হলুদ করবীসহ নানান ফুল আর গাছগাছালিতে ভরা প্রায় চার বিঘা জমির ওপর এই মূল মন্দিরটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।  

এ ছাড়া আরো রয়েছে বলিহার রাজবাড়ী, রঘুনাথ মন্দির-ঠাকুরমান্দা, দিব্যক জয়স্তম্ভ, জবাইবিল।