• বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ৯ মহররম ১৪৪০
BK

ঐতিহ্যবাহী কুমড়া বড়ি ও প্যারা সন্দেশ

ঐতিহ্যবাহী কুমড়া বড়ি ও প্যারা সন্দেশ
সংগৃহীত ছবি

কুমড়া বড়ি : মাষকলাই ডাল, কুমড়া আর কিছু মশলার সংমিশ্রণে তৈরি বড়ির নাম কুমড়া বড়ি। প্রধান উপাদান ডাল আর চাল কুমড়া; খাবারের আলাদা স্বাদ আনতে যার জুড়ি মেলা ভার। যেমন নাম, তেমনি খেতেও সুস্বাদু। শীতে বিশেষ করে এই ঐতিহ্যবাহী খাদ্যটি তৈরিতে ধুম পড়ে নওগাঁর সুলতানপুরে। এ মৌসুমে কুমড়া বড়ি তৈরি করে স্বামীর আয়ের পাশাপাশি কিছুটা বাড়তি আয় করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন এলাকার নারীরা। এখানকার নারীদের ব্যস্ততা যেন এই পণ্যটি ঘিরেই। মধ্যরাত থেকে ভিজিয়ে রাখা মাষকলাইয়ের ডাল ভোররাত থেকে শিলপাটায় মিহি করে বাটা হয়। এরপর কুটে রাখা চাল কুমড়াসহ মশলা মিশিয়ে সকাল থেকে কুমড়া বড়ি তৈরি শুরু হয়। সারা বছরই কমবেশি কুমড়া বড়ি তৈরি হলেও শীত মৌসুমে এর চাহিদা থাকে বেশি। বাজারে চাহিদা এবং ভালো দাম থাকায় অনেক পরিবারে ফিরে এসেছে সচ্ছলতা।  

শহরের সুলতানপুর মহল্লার আরতি রানী জানান, প্রতিকেজি মাষকলাই ৬০-৭০ টাকা। ১০ কেজি মাষকলাইয়ের ডাল থেকে দু-একদিন রোদে শুকিয়ে প্রায় ৬ কেজি কুমড়া বড়ি পাওয়া যায়। এতে খরচ হয় প্রায় ৭৫০ টাকার মতো। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ কুমড়া বড়ি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় এর চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও যায় এই সুস্বাদু কুমড়া বড়ি। শ্যামলী রানী দাস, সুপ্তিরানী দাস ও মিনতী রানী জানান, তারা ঘরে বসে না থেকে এই কাজ করে স্বামীর আয়ের পাশাপাশি নিজেরা আয় করে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন। তারা দুঃখের সঙ্গে জানান, সরকার আমাদের দিকে কোনো নজর দেয় না। সুদমুক্ত কিংবা স্বল্পসুদে ঋণ দিলে আমরা আরো বেশি বেশি এই বড়ি বানিয়ে বিক্রি করে সংসারে সচ্ছলতা আনতে পারতাম, উপকৃত হতাম। জেলায় প্রায় তিন হাজার পরিবার কুমড়া বড়ি তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এসব গ্রামীণ নারী নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবে। 

প্যারা সন্দেশ : নওগাঁর ‘প্যারা সন্দেশে’র সুখ্যাতিও এখন দেশের বিভিন্ন জেলা ছেড়ে বিদেশেও। এই সন্দেশ যারা তৈরি করেন, তারা সুস্পষ্টভাবে বলতে পারেননি ঠিক কখন থেকে নওগাঁর প্যারা সন্দেশের প্রচলন শুরু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা এবং গবেষকরা ধারণা করছেন, নওগাঁয় একশ’ বছরের আগে থেকে প্যারা সন্দেশ তৈরি হচ্ছে। জানা গেছে, শহরের কালীতলা এলাকায় শ্রীশ্রী বুড়ি কালীমাতা মন্দিরের কাছে শত বছর আগে এই ‘প্যারা সন্দেশ’ তৈরি হতো। পূজারিরা এই সন্দেশ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দেব-দেবীর উপাসনার উদ্দেশ্যে ভোগ দিতেন। তবে সময়ের স্রোতে এখন বাড়িতে অতিথি আপ্যায়ন, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া মর্যাদার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘প্যারা সন্দেশ’ মিষ্টির জগতে অনেকটা জায়গা করে নিয়েছে। প্যারা সন্দেশের স্বত্বাধিকারী বৈদ্য দাস জানান, নওগাঁ শহরের কালীতলায় শত বছর আগে থেকে নওগাঁর প্যারা সন্দেশ হিন্দু সম্প্রদায় মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর অর্ঘ্য হিসেবে ভোগ দিয়ে আসছে। সুস্বাদ হওয়ায় এই সন্দেশ বিভিন্ন জেলায় এবং বিদেশেও নিয়ে যাওয়া হয়। নওগাঁ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী আলহাজ নুরুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে জেলা শহরে ৮-১০টি মিষ্টির দোকানে প্যারা সন্দেশ তৈরি হয়। পাশাপাশি এর গুণগত মান ঠিক রাখতে সতর্ক থাকতে হয়। এই সন্দেশ দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদা মিটিয়ে ৫টি মহাদেশে যায়। যে কারণে বিভিন্ন জেলায় দিন দিন এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নওগাঁ একুশে পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট ডিএম আবদুল বারী জানান, জেলার হাতেগোনা কয়েকটি ঐতিহ্যের মধ্যে ‘প্যারা সন্দেশ’ অন্যতম।