• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১২ মহররম ১৪৪০
BK

বিলীনের পথে মৃৎশিল্প

বিলীনের পথে মৃৎশিল্প
সংগৃহীত ছবি

কালের আবর্তে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। বহুমুখী সমস্যা আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আজ সঙ্কটের মুখে এ মৃৎশিল্প। নওগাঁ জেলার ছোট যমুনা নদীর তীরবর্তী নওগাঁ শহরের পালপাড়া, শৈলগাছী পালপাড়া, আতাইকুলা পালপাড়া, ভবানীপুর পালপাড়াসহ বিভিন্ন পালপাড়া যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা একটি স্বর্ণালি ছবি। আত্রাই উপজেলার রাইপুর, মিরাপুর, সাহেবগঞ্জ, বহলা, পাঁচুপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য কুটিরের নয়নাভিরাম মৃৎশিল্পীদের বাসস্থান। বিজ্ঞানের জয়যাত্রা, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও নতুন নতুন শিল্পসামগ্রীর প্রসারের কারণে এবং প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও অনুকূল বাজারের অভাবে এ শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে নিয়োজিত মৃৎশিল্পীদের অধিকাংশ পাল সম্প্রদায়ের। এ ব্যাপারে উপজেলার ভবানীপুর পালপাড়া গ্রামের ধীরেন পাল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদী-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন মাটি সংগ্রহে অনেক খরচ করতে হয় তাদের।  আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. লোকমান হোসেন মৃৎশিল্পের চলমান অবস্থা সম্পর্কে বলেন, মৃৎশিল্প আমাদের ঐতিহ্য। সরকার কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের ঋণসুবিধা প্রদান করে। এ ছাড়া বিভিন্ন এনজিও এসব শিল্পে ঋণসুবিধা দিয়ে আসছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প বেঁচে থাকুক সরকার তা চায়। এ বিষয়ে নাগরিক উদ্যোগের শাহাগোলা ইউনিয়নের দলিত মানবাধিকার কর্মী দিনেশ কুমার পাল বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিল্পকর্মে প্রশিক্ষিত করে মৃৎশিল্পের সময়োপযোগী জিনিসপত্র তৈরিতে এবং বিদেশে এ পণ্যের বাজার সৃষ্টিতে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। এদিকে উপজেলার সচেতন মহল ও বিশিষ্টজনরা মনে করছেন মৃৎশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে বাজার সৃষ্টি এবং পৃষ্ঠপোষকতা খুবই জরুরি।