• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১২ মহররম ১৪৪০
BK
একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা

মামলার পুনঃতদন্ত দাবি বাবরের আইনজীবীর

মামলার পুনঃতদন্ত দাবি বাবরের আইনজীবীর
সংরক্ষিত ছবি

বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের শাসনামলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হবে আজ। এ মামলার আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের আইনজীবী এস এম শাহজাহান আইনি যুক্তিতর্কের শুনানিতে মামলার পুনঃতদন্ত দাবি করেছেন। বলেছেন, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় যে ধরনের তদন্ত হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। তদন্ত খুবই দুর্বল। তাই এ মামলার পুনঃতদন্ত হওয়া দরকার। পুনঃতদন্তের পক্ষে তিনি উচ্চ আদালতসহ বিভিন্ন আদালতের মামলার নজির দেখিয়ে বলেছেন, ‘তার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।’

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার দ্রুত বিচার আদালত-১-এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ দাবি করেন এস এম শাহজাহান। দুপুর ১২টা থেকে বিচারকাজ শুরু হয়ে চলে দুপুর সোয়া ২টা পর্যন্ত। আজ বুধবারও বাবরের পক্ষে আইনগত যুক্তি তুলে ধরবেন তিনি। শুনানিতে তাকে সহযোগিতা করেন নজরুল ইসলাম।

এস এম শাহজাহান শুনানিতে বলেন, ‘যে জবানবন্দির ভিত্তিতে বাবরকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে, মুফতি আবদুল হান্নানের সেই দ্বিতীয় জবানবন্দিকে আমি সাক্ষ্যপ্রমাণ বলব না। কারণ, আইনে এটির গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু আছে? এক্ষেত্রে আমার দুঃখ করা ছাড়া কী করার আছে।’ তিনি বলেন, ‘বাবর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা ও আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার ষড়যন্ত্র করবেন কেন? তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষও পাননি তিনি। তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে নির্বাচনও করতে যাবেন না। তাহলে একজন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়ে কেন মুফতি আবদুল হান্নানের মতো একজন লোকের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করবেন? কোনো জনমে কোথাও পাপ করেছিলেন, যে কারণে তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হতে এসেছিলেন।’

এস এম শাহজাহান আদালতকে আরো বলেন, ‘বাবর যদি ষড়যন্ত্র করতেন তাহলে তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে বিশেষ আদালত গঠন করে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ করে দিতে পারতেন।’

তার যুক্তি উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউশনের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান ও মোশাররফ হোসেন কাজল পাল্টা জবাব দেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবু আবদুল্লাহ ভুঁইয়া, আকরাম উদ্দিন শ্যামল, ফারহানা রেজা ও আমিনুর রহমান।

লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ হলে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শেষ হবে। এরপর প্রসিকিউশন পক্ষ পাল্টা জবাব দেওয়ার পর রায়ের দিন ধার্য করবেন আদালত। গত ২৯ আগস্ট বাবরের পক্ষে তথ্যপ্রমাণের ওপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে।

একুশে আগস্টের ঘটনায় পৃথক মামলায় মোট আসামি ৫২ জন। এর মধ্যে জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ (মানবতাবিরোধী অপরাধ), হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও শরীফ সাহেদুল আলম বিপুলের (ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এ তিনজনের নাম বাদে এখন আসামি ৪৯ জন। এর মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরীসহ ১৮ আসামি পলাতক। লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ আসামি কারাগারে ও ৮ জন জামিনে।

সরকারপক্ষে ২২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত বছরের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দের জেরা শেষের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

গত ২৭ ডিসেম্বর সরকারপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শেষ দিনে এ মামলার আসামি তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টুসহ ৪৯ জনের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে সরকারপক্ষ। গত ২৩ অক্টোবর থেকে সরকারপক্ষে যুক্তি পেশ শুরু হয়।

বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২২ জন নিহত হন। গুরুতর আহত হন তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মী।